

Buy কালো বেড়াল, সাদা বেড়াল Online in Bangladesh
লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Author: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 817215965x
- Number Of Pages: 230
- Language: বাংলা
- Edition: 5th,2013
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
'ইন্টারকমে অতনুর গলা পাওয়া গেল, স্যার, একজন পুলিশের লোক আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন । মনোজ সেন খুবই অবাক হয়ে বলল, পুলিশের লোক ? পুলিশের লোক আমার কাছে কী চায় ? সেটা উনি আপনাকেই বলতে চান । আজ আমার সময় কোথায় ? এখনই ফরেন ডেলিগেটরা এসে পড়বেন। একটু আগে তাজ বেঙ্গল থেকে ওঁরা বেরিয়ে পড়েছেন। মিনিস্টারের সঙ্গে জাস্ট পনেরো মিনিটের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেরেই চলে আসবেন। আমি কতটা ব্যস্ত বুঝতে পারছ ? আই অ্যাম গোয়িং থ্রু দি পেপারস নাউ। লাস্ট মিনিট চেকিং । সবই বলেছি স্যার । তবু উনি ইনসিস্ট করছেন । ওঁকে ফোনটা দাও । ও-কে স্যার । টেলিফোনে একটা মিহি গলা পাওয়া গেল যা মোটেই পুলিশি কর্তৃত্বব্যঞ্জক নয়। বরং খুবই ভদ্র ও বিনয়ী গলা, মিস্টার সেন, আমার প্রয়োজনটা বিশেষ জরুরি ৷ আপনি আগামী কাল আসুন । আমি জানি আপনি আজ ফরেন ডেলিগেটদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। আজ তাঁদের সঙ্গে আপনার লাঞ্চ এবং মিটিং। একটা কন্ট্রাক্টও আজ সই হবে। কিন্তু আমার দরকারটাও গুরুতর । খুবই মুশকিলে ফেললেন। এনিওয়ে, দু মিনিটের বেশি সময় নেবেন না । বাই দি বাই, আপনি কি লালবাজারের লোক ? না । তাহলে কি লোকাল থানা ? না। আমার হেড কোয়ার্টার প্যারিসে। বলেন কী ? ফরাসি পুলিশ কি বাংলা বলে ? বলে । যদি ইন্টারপোলের লোক হয় । আমি বাঙালি । দুর্ভাগ্যবশত । 'ইন্টারপোল ? সে তো সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার । আসুন মশাই । তার সেক্রেটারি সোনালি সোম চুক্তিপত্রের কাগজগুলো টেবিলে খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিচ্ছিল ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
আমার পড়া বেস্ট গোয়েন্দা কাহিনি
গল্পের নায়ক সুধাকর দত্ত। কিন্তু গল্প এগিয়েছে গোপীনাথকে ঘিরে, সুতরাং তাকেই প্রধান চরিত্র ধরে নেয়া যায়। জার্মান মেয়ে রোজমেরী এবং তার বাঙ্গালী স্বামী মনোজও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সুধাকর ইন্টারপোলের বড় কর্মকর্তা, তার হেডকোয়ার্টার প্যারিসে, কিন্তু ইন্টারপোলের এজেন্ট হিসেবে তাকে প্যারিস-রোম-কলকাতা-আমস্টারডামসহ পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে হয়। গোপীনাথ বাঙ্গালী বিজ্ঞানী, দারিদ্র্য-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় বিজ্ঞানী হয়ে প্যারিসের একটি বড় কর্পোরেশনে গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষনা দলের দায়িত্বে আছেন। তারা যে বিষয়টি নিয়ে গবেষনা করছেন তার কাঁচামাল তৈরী হয় কলকাতায়, মনোজ ও রোজমেরীর কারখানায়। তাদের কারখানা পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসে খুন হয়ে যায় গোপীনাথের অন্যতম প্রধান সহযোগী আঁদ্রে। আঁদ্রের গবেষনা সংক্রান্ত গোপনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে গিয়ে গোপীনাথ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন ভিকিজ মব, বড় বড় কিছু কর্পোরেশনের লেলিয়ে দেয়া মাফিয়া এবং অন্যান্য কুখ্যাত খুনীদের লক্ষ্যে পরিণত হয়। বহুবিধ অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী এই সব শত্রুদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে টিকে থাকার সংগ্রামের গল্প কালো বেড়াল, সাদা বেড়াল। রিভিউ পড়ুন: http://bit.ly/2RknbqD
থ্রিলার বইতে আজকাল গল্পের নামে ইতিহাস, ব্যাকস্টোরি, প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে করতে পাঠকদের সুন্দর করে ঘুম পারিয়ে দেওয়ার যে মহান ট্রেন্ড চালু হয়েছে, এই বইটাতে তা নেই একদমই। বাঙালি থ্রিলার এমনই হওয়া উচিত। পরিচিত গণ্ডিতে অপরিচিত প্রেক্ষাপট। এক ছটাক মেদ নেই কোথাও। বর্ণনা যতটুকু দরকার ততটুকু। কথোপকথন যেমন বাস্তবধর্মী, তেমন স্মার্ট। নতুন থ্রিলার লেখকরা ড্যান ব্রাউনের ব্যর্থ অনুসরণ না করে এই সব বই পড়তে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সাদা বিড়াল দিয়ে লেখক বোধহয় বুঝিয়েছেন আলোকিত জগত, কালো বিড়াল দিয়ে অন্ধকার জগত। প্রচ্ছদের ছবিতে ইন্টারপোলের গোয়েন্দাকে সাদা ও কালো বিড়াল, দু’টো অংশের মাঝামাঝিতে দেখা যায়। অর্থাৎ ইন্টারপোল এজেন্ট সুধাকর দত্ত পুরোপুরি ভাল বা মন্দ কোন দলেই পড়ে না, আবার উভয় দলেই পড়ে, এমন বোঝানো হয়েছে! যেটা গল্পের সাথে যায়ও। এক জায়গায় লেখা আছে-বাঘের মাসির মতো ওত পেঁতে আছে...বিড়াল শব্দটা সচেতনভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে অনেক জায়গাতে। উপভোগ্য, মেদবর্জিত, দুর্দান্ত একটা থ্রিলার।

ঘটনার শুরু কলকাতায়। মনোজ সেন আর তার ওয়াইফ রোজমারি জার্মানি থেকে কলকাতায় এসে একটা কারখানা খোলে। সেখানের তৈরি এক ধরণের ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল আ্যালয় তারা বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে। মনোজ সেন সরল সোজা হলেও রোজমারি দারুণ বুদ্ধিমতী। মূলত তার বুদ্ধিতেই চলছে গোটা ব্যবসা। ফরাসি ডেলিগেটদের একটা দল তাদের কারখানা ভিজিট করতে আসার কিছুক্ষণ আগে ইন্টারপোল থেকে আসা এক লোক মনোজকে দেয় এক অদ্ভুত খবর। ডেলিগেটদের দলে নাকি আছে এক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল, যাকে সে আইডেন্টিফাই করতে চায়। তার জন্য সে মনোজের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে সেই সময়টাতে তার সাথে থাকতে চায়। ব্যাপারটা পছন্দ না হলেও ইন্টারপোল বলে রাজি হয়ে যায় মনোজ। এদিকে সেই ফরাসি ডেলিগেটরা তাদের ভিজিট ক্যান্সেল করে দেয় কারণ তাদের একজন সদস্য হার্ট এটাকে মারা গেছে। ইন্টারপোল এর সেই লোক, যার নাম সুধাকর দত্ত, সে কিন্তু এই খবরে মোটেও বিচলিত হয়না, যেন এটা হওয়ারই ছিলো। সেদিনই রোজমারিকে পাঠানো হয় একটা লাল গোলাপের তোড়া, যাতে বার্থডে উইশ করা। কিন্তু রোজমারির জন্মদিন সেদিন ছিলোনা। আবার উইশ কার্ডের পেছনে লেখা RIP, যার অর্থ রোজমারি করে 'রেস্ট ইন পিস'। কিন্তু তার তো কোন শত্রু নেই, তাহলে এমন মজা কে করলো? সেদিন রাতে ফোন বাজে প্যারিসে গোপীনাথ বসুর ঘরে। ভিকিজ মব নামে এক আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থা তাকে দিতে বলে এক গুরত্বপূর্ণ প্রোজেক্ট এর ব্লুপ্রিন্ট। এই প্রোজেক্ট এর মূল কর্তা আঁদ্রে, যার ব্যবস্থা তারা করে ফেলেছে। এখন গোপীনাথ বসু তাদের কথামতো না চললে তার অবস্থাও আঁদ্রের মতো হবে। গোপীনাথ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে আঁদ্রে কলকাতায় হার্ট এটাকে মারা গেছে। কিন্তু গোপীনাথ ভয় পেয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করার পাত্র নয়। এদের হাত থেকে সেই গুরুত্বপূর্ণ ব্লুপ্রিন্ট বাঁচাতে ছুটে যায় রোমে। সেখান থেকে সেগুলো নিয়ে আসে নিজের জিম্মায়। এতে আবার তার নিজ কোম্পানি সাক্কি তাকে অবিশ্বাস করে বসে। তারা ভেবে নেয়, গোপীনাথ সেগুলো ভিকিজ মবকে দেয়ার জন্যই নিয়েছে। তাই তারা এবার গোপীনাথ কে মারার জন্য মাফিয়া লাগিয়ে দেয়। একদিকে ভিকিজ মব, একদিকে মাফিয়া, আরেকদিকে আবার সুধাকর দত্ত। গোপীনাথ হয়ে পড়ে দিশেহারা। কে শত্রু আর কে বন্ধু ভাবতে ভাবতেই কাহিনি ঘটতে থাকে একের পর এক।আর এটা এমনই এক মিস্ট্রি, যা শেষ পাতা পর্যন্ত কিছুতেই ধরতে পারবেননা।

☆☆☆☆☆






















