

Buy ঝরা ফুলের সৌরভ Online in Bangladesh
লেখক: মহসীন চৌধুরী জয়
- Author: মহসীন চৌধুরী জয়
- Publisher: সুকুন পাবলিশিং
- Isbn: 9789849970583
- Number Of Pages: 112
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মৃত্যুভয় কতটা ভীতিকর সেদিন বুঝলাম। আমাদের একত্রিত হয়ে বসে থাকার সময়ে আরও ৮-১০ জন মানুষ দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন। গা ছমছম করে উঠল। ছাত্রলীগ নিশ্চয়ই। হুড়মুড় করে কিছু লোক তিন তলার দিকে ছুটলেন। কিন্তু গেটে তালা! পিছিয়ে পড়া কিছু মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন, কান্না করে দিলেন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

▫️বই: ❝ঝরা ফুলের সৌরভ❞ ▪️লেখক: মহসীন চৌধুরী জয় ▫️প্রকাশনা: সুকুন পাবলিশিং ▫️ পৃষ্টা: ১১২ ▪️পাঠ–প্রতিক্রিয়া: . বাংলাদেশের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা গল্পের বই ❝ঝরা ফুলের সৌরভ❞ পড়তে গিয়ে কিছু জায়গায় বারবার আটকে যাই। প্রত্যেকটা গল্পই আমার কাছে ভালো লাগে। কিছু গল্প নিয়ে আমার কথা নিচে উল্লেখ করলাম। ◼️ ❝মৃত্যুঞ্জয়❞ গল্পে— ‘স্যার, আগুন দিয়া পুইড়া লামু লাশগুলা?’ অফিসার বলল, ‘একটু পর পুড়ুম। আর কয়ডা জমুক।’ কী ভয়ানক! কী বিভৎস চিন্তা! লেখক তাঁর গল্পটিতে আন্দোলনের ভিলেন হিসেবে খ্যাত পুলিশের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন৷ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পুলিশের চরিত্র এত সুন্দরভাবে লেখক সামনে এনেছে যেন মনে হবে এখনো আমরা ওই সময়টুকুতে আছি এবং পুলিশের মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ারশেল, লাঠির মাধ্যমে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে হামলা করার দৃশ্য সামনে ভাসছে। ◼️ ‘মা, আমি মইরা গেলে মানুষ মনে রাখব?’ ❝চিরন্তন❞ গল্পে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র আরাফাত আহত অবস্থায় তার মায়ের সাথে দেশ ও দেশের অবস্থা নিয়ে যখন চিন্তা করেন তখন নিজেই ভাবনায় হারিয়ে যায় এবং ভাবি আসলেই কি আমরা চব্বিশের আন্দোলনের শহিদদের মনে রাখতে পারব! তাঁদের এ আত্মত্যাগ, তাঁদের পরিশ্রম, তাঁদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে দেশের বৈষম্য দূর করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা। আসলেই কী আমরা তাদের স্মরণে রাখতে পারব নাকি ভুলে যাব! আরাফাত— ‘মা, সাদিক ভাইরে স্বপ্নে দেখি প্রায়ই। উনি তো কয় দেশ ঠিক হইব না। এক শ্রেণির ফ্যাসিস্ট গেছে আরেক শ্রেণির ফ্যাসিস্ট আইবো। চান্দাবাজি থাকব, চুরি থাকব, ডাকাতি থাকব, ছিনতাই থাকন, মাস্তান মাস্তানি করব, পুলিশ নাকি আবারও মাস্তানি করব। আমরা তাইলে কে রক্ত দিলাম, মা?’ আরাফাতের এই ভাবনা কি সত্যিই আমরা ভবিষ্যতে সম্মুখীন হতে যাচ্ছি! ◼️ ❝রক্ত দিয়ে লেখা❞ শহিদ আনাসকে নিয়ে লেখা। শহিদ আনাস যে ছিল আমাদের অনুপ্রেরণা। তাঁর রেখে যাওয়া হৃদয় ছোঁয়া চিঠি সারা দেশের মানুষের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে। “দেশপ্রেমই মুক্তির আশা— দেশপ্রেমই প্রকৃত ভালোবাসা।” দেশের প্রতি শহিদ আনাসের যে দেশপ্রেম ছিল তার কোনো তুলনা হয় না। ◼️ ❝নাফিসাচরিত❞ গল্পে নাফিসা দেশের জন্য তাঁর ছোট বোনকে বাসায় রেখেই আন্দোলনে ছুটে যাওয়া এ তো দেশের জন্য তাঁর প্রকৃত ভালোবাসাই ছিল। “বাবা, আমার লাশটা লইয়া যাইও আমি মইরা যামু।” কতটা ত্যাগ নিয়ে এই কথাটা নাফিসা তাঁর বাবাকে বলে যেতে পারে! ◼️ ❝বেওয়ারিশ❞ নামে গল্পটিতে বেদনাদায়ক একটি লাইন ছিল— “এই কবরগুলোয় যাঁরা চিরনিদ্রায় আছেন তাঁদের সবার পিতৃপরিচয় ছিল, ছিল তাঁদের পরিবার। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের কারণে তাঁরা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হয়েছেন। তাঁরা তো বেওয়ারিশ ছিলেন না। ” ◼️ ❝শহিদ রাব্বি❞ এ গল্পে রাব্বি ঠিক কপাল বরাবর গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন। অথচ শহিদের স্বীকৃতি পাননি। তাই ভাইকে তাঁর দুই বোন কাঁধে নিয়ে মিছিল করেন শহিদের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে। এ দৃশ্য বেদনাব্যঞ্জক, আমার চোখ ভিজিয়ে দেয়। গল্প পড়ার মাঝে কিছু ভালো লাগা কথা— ১) ❝জীবন যেন কখনোই অন্ধকারে না থাকে বরঞ্চ মৃত্যু আলোকিত হোক।❞ ২) ❝সময়কে যারা খুব বেশি মূল্যায়ন করেন তারা কখনোই পথ হারান না। তারা যথার্থ পথিক হয়ে ওঠেন এবং পথ দেখান। ❞ চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের সংরক্ষণ করে রাখা উচিত যেন আমাদের পরের প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের হাজারো শহিদদের ত্যাগের কথা পৌঁছাতে পারি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।


চব্বিশের অভ্যুত্থান সম্পর্কিত বই ইচ্ছা করেই নেয়া হয়নি আমার।কারণ? কারণ হলো আমি আন্দোলনের সময় রাস্তায় না নামতে পারলেও প্রতিটা মুহূর্তে প্রচুর অস্থিরতায় ভুগেছি,প্রতিটা রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। তারপর যখন সব ঠিকঠাক হলো আমি যতোটা পেরেছি এই নির্মমতার গল্প ইগনোর করে চলেছি কারণ আমার এসব ব্যাপার মেনে নিতে কষ্ট হয়। সেদিন জয় ভাইয়ার পোস্টটা ভালো লাগায় কমেন্ট করেছিলাম আর উনার তরফ থেকে পেয়ে যাই বইটি উপহার হিসেবে।বইমেলা থেকে সংগ্রহ করে আমার পড়া প্রথম বই ঝরা ফুলের সৌরভ। পাঠপ্রতিক্রিয়া: অভ্যুত্থান কে কেন্দ্র করে ৭ টি গল্প লিখা হয়েছে মোট বইটিতে। গল্পগুলো দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার কথা বলে।বইয়ের প্রতিটা গল্প চরম বাস্তবতার স্বাদ দিয়ে গিয়েছে।কিছু কিছু জায়গায় চোখ ঘোলাটে হয়েছে।দেশ ঠিক হবে কিনা জানা নেই কিন্তু এই যে এতোগুলো বাবা মা সন্তানহারা হলো তাদের কি হবে? প্রতিটা শব্দ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা বলে।লেখক প্রতিটা শব্দ,লাইন খুবই সুন্দর করে লিখেছেন,এতোটাই বাস্তবতা লিখায় যেনো আমার সামনে ঘটছে ঘটনাগুলো!এই বইটা যতবার শেলফে দেখবো ভুলে যাওয়া ২৪ আবার নতুন করে মনে পড়বে।সংগ্রহ করে রাখার মতো একটি বই। লেখক কে ধন্যবাদ লিখার মাধ্যমে নিজের প্রতিবাদের আওয়াজ তোলার জন্য।

























