

Buy ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড প্রবলেম সলভিং Online in Bangladesh
লেখক: ব্রায়ান ট্রেসি
- Author: ব্রায়ান ট্রেসি
- Publisher: সাফল্য প্রকাশনী
- Isbn: 9789849535737
- Number Of Pages: 112
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ব্যবসা বা যেকোন কাজে আইডিয়া এবং মুনাফার একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এর মানে হচ্ছে আজকের অতি-প্রতিযোগিতার কালে যেখানে প্রযুক্তিগত বহু উন্নতির কারণে অনেকেই ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছে, সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সৃজনশীল চিন্তা করতে পারা বা সৃজনশীল চিন্তার দক্ষতা (Creative thinking skill)। যেকেউ তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত, তিনিও যেকোন দুর্বল পেশা থেকে সম্ভাবনাময় পেশাকে খুঁজে বের করতে পারেন এই সৃজনশীল চিন্তার দক্ষতার মাধ্যমে (Creative thinking skill)। যদিও এই ব্যাপারটা অনেক ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার জন্য শুনতে ভীতিকর মনে হতে পারে, তবে আপনার জন্য তা হবে না। কারণ এ বই বেশ সংক্ষিপ্ত, সহজে পাঠযোগ্য। বইয়ের ভেতর ২১টি অধ্যায় রয়েছে। ছোট ছোট এসব অধ্যায়ে বিশ্বের বড় বড় সফল ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ এবং উদ্যোক্তাদের ব্যবহৃত কলাকৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে। যা যেকোন পাঠক তার দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হতে পারে। এসব কলাকৌশল পাঠে পাঠকের মনমস্তিষ্কে সৃজনশীল অংশের টিস্যুগুলো উদ্দীপ্ত হবে, তাদের মধ্যে যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে সুযোগকে খুঁজে বের করার, চেনার এবং কাজে লাগানোর দক্ষতা সৃষ্টি হবে। পাঠকরা এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করবে, যেমন, ব্রেইনস্ট্রমিং, জিরো-বেসড থিংকিং, দলগত চিন্তা পদ্ধতি, নতুন পণ্যের নকশা করা, নতুন নতুন আইডিয়া উপস্থাপন এবং মার্কেটিং এর নতুন উপায় বের করা সহ প্রভৃতি। আপনি কীভাবে নতুন নতুন ধারণাগুলোকে পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন সেসব পদ্ধতি সম্পর্কেও উদাহরণ সহ বলা হয়েছে। ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড প্রবলেম সলভিং বই পাঠ করে আপনি সম্ভাবনার নতুন দিশা খুঁজে পাবেন। আপনার সৃজনশীল চিন্তাভাবনার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। আপনি যে স্বপ্ন দেখেন তা পূরণে ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড প্রবলেম সলভিং বই এক মাইলফলক হয়ে দেখা দিবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

মোটামুটি মানের বই মোটিভেশন এর অভাব হলে পড়তে পারেন
"ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড প্রবলেম সলভিং" লেখকঃ ব্রায়ান ট্রেসি অনুবাদকঃ ফজলে রাব্বি প্রকাশনাঃ সাফল্য প্রকাশনী মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা (হার্ড কাভার) পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১০ পৃষ্ঠা (হোয়াইট প্রিন্ট) আমার মস্তিষ্ক এক জীবনে যত চিন্তা করতে পারে তার সংখ্যা পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যত অনু আছে তার চেয়ে বেশি। মানুষের সৃজনশীলতাকে চায়ের কাপে চিনি মেশানোর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। চিনি যদি চামচ দিয়ে নাড়িয়ে চায়ের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হয় তাহলে চা খেতে ভালো লাগবে। আর না নাড়িয়ে নিলে চিনি চায়ের কাপের তলায় পড়ে থাকবে। যার ফলে চা খেতে ভালো লাগবে না। সৃজনশীলতাও চায়ের কাপে চিনি মেশানোর মতই। আপনার পরিকল্পনা ও কর্মের মাঝে একটা কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে। তাহলেই আপনার কর্মটি হয়ে উঠবে সৃজনশীল। আপনি জানেন কি ১৯৯০ সালে কোডাক কোম্পানি প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ সম্পদের মালিক ছিল? যার কর্মী সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার। ডিজিটাল ফটোগ্রাফিকে উপেক্ষা করায় কোম্পানিটি আজ দেউলিয়া। যার নামও অনেকে আজ জানে না। নোকিয়া ও ব্লাকবেরির মত বৃহৎ মোবাইল প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো অদূরদর্শিতার ফলে আজ দেউ হয়ে আছে। আপনার জীবনের সফলতার মূলমন্ত্র হচ্ছে আপনার চিন্তা ও পরিকল্পনার সাথে কর্মের মিলন ঘটানো। যেমনিভাবে চায়ের সাথে চিনি মেশানো হয়। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা প্রতিটি স্বপ্নবিলাসীর পাশাপাশি যারা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তাদেরও উচিত হবে বইটি একবার পড়ে দেখা। কোডাক বা নোকিয়ার মত ভুল অনেক বৃহৎ কোম্পানি-ই করছে। পরিবর্তনশীল এ বিশ্বে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হলে সর্বদা নিজেকে পরিবর্তন করার বিকল্প নেই। কানাডিয়ান-আমেরিকান লেখক 'ব্রায়ান ট্রেসি' রচিত 'ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড প্রব্লেম সলভিং' বইটি সরল-সাবলীল বাংলায় রূপ দিয়েছেন সাফল্য প্রকাশনীর শ্রদ্ধাভাজন প্রকাশক জনাব ফজলে রাব্বি। এ গ্রন্থটি আপনাকে সহযোগিতা করবে নতুনভাবে চিন্তা করতে। আমার ভিতরের সৃজনশীলতাকে জাগিয়ে তুলতে এ গ্রন্থটি আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। মানসপটে নব উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

মোটিভেশনাল বই আমার তেমন একটা পড়া হয় না বললেই চলে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যা হয়, পড়ার সময় বেশ ভালো লাগে কিন্তু কাজে আর লাগানো হয়ে ওঠে না! যাহোক, তারপরও অনেকদিন একটা মোটিভেশনাল বই পড়লাম। বইটা হলো ব্রায়ান ট্রেসির “ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড প্রবলেম সল্ভিং”। বইটা অনুবাদ করেছেন ফজলে রাব্বি, প্রকাশিত হয়েছে সাফল্য প্রকাশনী থেকে। তো কি আছে বইটাতে? বইটাতে মূলত ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট জীবনে আসা সমস্যাগুলোকে কিভাবে চিহ্নিত করে সৃজনশীলতা ব্যবহারের মাধ্যমে সমাধান করা যায় সেই দিকটা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর এটা করতে গিয়ে লেখক সৃজনশীলতার নতুন ধরণের সংজ্ঞা দিয়েছেন, লক্ষ্য নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, চিন্তা পদ্ধতির বৈচিত্র্যতা নিয়ে কথা বলেছেন, সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার উপযোগিতা বর্ণনা করেছেন, সমস্যা সমাধানের ধাপ সমূহ আলোচনা করেছেন, উদ্ভাবনের মূল শর্ত সমূহের সাথে পাঠককে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। সাথে ৮০/২০ নিয়ম, শূন্যভিত্তিক চিন্তা পদ্ধতি, ‘আমি পারব' এবং ‘আমি ভুল করতে পারি' বলার মতো থিউরিগুলো সামনে এনেছেন। কিন্তু এসব জেনে আমার লাভ কি? বইয়ের যে প্রধান দিকটা ছিলো নিজের লক্ষ্যের দিকে কিভাবে অগ্রসর হওয়া যাবে আর সেই যাত্রাপথে সামনে আসা সমস্যাগুলোকে কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে সেটাকে আমি নিজের সাথে মেলাতে পেরেছি। আমার আপাতত সবচেয়ে বড় লক্ষ্য সরকারি কর্মকমিশনের পরীক্ষা এবং সবচেয়ে বড় বাঁধাগুলো হলো প্রস্তুতির অভাব এবং অতিমাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভরতা। এই যে আমি সমস্যা ধরতে পেরেছি লেখকের মতে এর মাধ্যমেই আমি অর্ধেক কাজ করে ফেলেছি। এখন আমার যেটা করতে হবে সেটা হলো সমস্যা সমাধানের ধাপগুলো অনুসরণ করে প্রতিটা সমস্যা নিয়ে কাজ করা। লেখক আমাকে এই দিকটা ধরতে সাহায্য করেছেন এবং কাজে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তবে বইটার একটা নেতিবাচক দিক হলো এটা কর্পোরেট জগতের জন্য বেশি কার্যকর হবে বলে মনে হয়েছে। লেখক বারবারই কর্পোরেট জগতের নানা দিক ও সমস্যা তুলে ধরেছেন। আর তাছাড়া চর্বিতচর্বণের ঝামেলাটা তো ছিলোই কমবেশি। অনুবাদের কথা বলতে গেলে বলতে হয় বেশ ভালো একটা অনুবাদ ছিলো। সহজ শব্দে, ছোট ছোট বাক্যে অনুবাদক প্রতিটা অধ্যায় তুলে ধরেছেন। তবে সমস্যাও যে ছিল না তা নয়। কিছু কিছু জায়গায় বেশ কাটখোট্টা মনে হয়েছে অনুবাদ। দুই দুইটা অধ্যায়ের নাম ভুলও ( মাইন্ডস্টর্মিং ও ব্রেইনস্টর্মিং) বেশ বড় ধরণের ভুল। তাছাড়া অতি-অনুবাদও ( যেমন : কমফোর্ট জোনের অনুবাদ করা) লক্ষ্যণীয়। মোটের উপর বলতে হয় বইটা আমাকে কিছু বিষয় নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে, কিছু নতুন বিষয়ের সাথে পরিচিত করিয়েছে, কাজে নামতে আরেকটু বেশি উদ্বুদ্ধ করেছে।






















