

Buy বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি এবং রিসালায়ে নুর Online in Bangladesh
লেখক: মুহাম্মাদ ইরফান হাওলাদার
- Author: মুহাম্মাদ ইরফান হাওলাদার
- Publisher: গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
- Isbn: 978-984-8254-72-1
- Number Of Pages: 208
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
বিংশ শতাব্দীর শুরুর কথা। দিকে দিকে কামালবাদের জয়ধ্বনি। সব আশা শেষ! বিশ্বাসীরা হাল ছেড়ে দিলো, পরাজয় মেনে নিলো বুঝি। লাঞ্চনা, অপমান, অপদস্তের এক জীবন তাদের। ধীরে ধীরে ইসলামকে জীবন থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে। মুসলমানিত্ব মানেই যেন পরীক্ষা। ঘুমিয়ে যাচ্ছে উম্মাহ। হাল ছেড়ে দিচ্ছে সবাই। কিন্তু নাহ! তিনি জেগে উঠলেন, দায়িত্ব নিলেন সবাইকে জাগানোর। শেষ থেকেই যেন শুরু। ধ্বংসস্তূপ থেকেই ফিনিক্স পাখির ঠোঁট বের হলো। আমরা বলছি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্কারক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসির কথা। জাহেলিয়াতের ভরা যৌবনেও যিনি সত্যের মশাল বইয়ে নিয়েছেন বিচক্ষণতার সাথে। জোয়ার দেখেও যিনি এতটুকু হীনমন্যতায় ভোগেননি; ভবিষ্যত প্রজন্মের মুক্তির রাজপথ নির্মাণ করেছেন দক্ষ শ্রমিক হয়ে। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিপাহসালার, যুগ সংস্কারক, বিখ্যাত রিসালায়ে নুর-এর লেখক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসির সংগ্রামী জীবনী পড়তে আপনাকে স্বাগতম।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
গার্ডিয়ান পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত "বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি এবং রিসালায়ে নুর" বইটি নুরসির জীবন, চিন্তা ও তার লেখা "রিসালায়ে নুর" এর ওপর একটি সমৃদ্ধ এবং বিশ্লেষণাত্মক উপস্থাপনা। বইটি নুরসির চিন্তাধারা এবং তাঁর ইসলামী দর্শনের প্রতি গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, বিশেষত কুরআনের উপর ভিত্তি করে ধর্মীয় এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। লেখক নুরসির আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আধুনিক সমাজে ইসলামের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। একই সাথে, "রিসালায়ে নুর" এর গুরুত্ব ও প্রভাব নিয়ে বইটি বিস্তারিত আলোচনা করে, যা পাঠকদের নুরসির শিক্ষা এবং তাৎপর্য সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর কথা। দিকে দিকে কামালবাদের জয়ধ্বনি। সব আশা শেষ! বিশ্বাসীরা হাল ছেড়ে দিলো, পরাজয় মেনে নিলো বুঝি। লাঞ্চনা, অপমান, অপদস্তের এক জীবন তাদের। ধীরে ধীরে ইসলামকে জীবন থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে। মুসলমানিত্ব মানেই যেন পরীক্ষা। ঘুমিয়ে যাচ্ছে উম্মাহ। হাল ছেড়ে দিচ্ছে সবাই। কিন্তু নাহ! তিনি জেগে উঠলেন, দায়িত্ব নিলেন সবাইকে জাগানোর। শেষ থেকেই যেন শুরু। ধ্বংসস্তূপ থেকেই ফিনিক্স পাখির ঠোঁট বের হলো। আমরা বলছি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্কারক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসির কথা। জাহেলিয়াতের ভরা যৌবনেও যিনি সত্যের মশাল বইয়ে নিয়েছেন বিচক্ষণতার সাথে। জোয়ার দেখেও যিনি এতটুকু হীনমন্যতায় ভোগেননি; ভবিষ্যত প্রজন্মের মুক্তির রাজপথ নির্মাণ করেছেন দক্ষ শ্রমিক হয়ে। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিপাহসালার, যুগ সংস্কারক, বিখ্যাত রিসালায়ে নুর-এর লেখক বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসির সংগ্রামী জীবনী পড়তে আপনাকে স্বাগতম। রিভিউকারি- Ma Hi
বদিউজ্জামান যে সময়টায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন তখন উসমানীয় খিলাফতের মাদ্রাসাগুলোর ভীষণ দারিদ্র অবস্থা। দেশের অভ্যন্তরে অধিক সেক্যুলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় অধিকাংশ মাদ্রাসা চলতো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনুদানে অথবা জনগণের জাকাত ও সাদকার মাধ্যমে। তবে নুরসি ছিলেন ব্যতিক্রম তিনি কখনোই জাকাত বা সাদকার অর্থ গ্রহণ করতেন না এবং পুরো জীবন এই আদর্শে অটল ছিলেন।
লেখক ইরফান ভাই অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। লেখালেখির জন্য ভাইকে অনেক দিন যাবৎ চিনি। অনুবাদ কিংবা পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করার পাশাপাশি কলম হাতে লিখেছেন তাঁর প্রথম মৌলিক 'বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি এবং রিসালায়ে নুর' বইটি। . খিলাফাতের আলো তখন নিভু নিভু অবস্থায়। কোনো এক রাতে ফজ্বরের পূর্বে মায়ের পেট থেকে পৃথিবীর বুকে আগমন করেন ফুটফুটে এক শিশু। নাম তাঁর 'বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী' (রাহিমাহুল্লাহ)। . পিতা-মাতার সঠিক পরিচালনায় বেড়ে উঠা এই বালক ছোট থেকেই জ্ঞানার্জনের সাগরে ডুব দেন। সেখান থেকে তুলে নিয়ে আসেন মণিমুক্তা। বেশ অবাক হয়েছিলেন অনেক অনেক বিজ্ঞ আলিম-উলামারা। এই ছেলে তো আরও ৮-১০টা ছেলের মতন নয়! কে সে? হ্যাঁ, তিনিই হলেই সেই বালক যিনি কিনা বড় হয়ে পথ হারানো তুর্কিদের পথে আলোর ল্যাম্প নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। . 'বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি এবং রিসালায়ে নুর' বইতে নুরসির (রাহিমাহুল্লাহ) সংগ্রামী জীবনের সব ঘটনা স্থান পেয়েছে। লেখক বইটি ৬ অধ্যায়ে সাজিয়েছেন। যার মধ্যে প্রথম ৫টি অধ্যায় তাঁর জীবনীর সাথে সম্পৃক্ত এবং শেষের অধ্যায়টি তার লেখা বিখ্যাত রিসালায়ে নুরের কিছু অংশবিশেষ। . নুরসি (রাহিমাহুল্লাহ) ছোট থেকেই জ্ঞানার্জনের জন্য সর্বদা ফ্রন্ট লাইনে থাকতেন। তিনি একবার যা পড়তেন তা তাঁর মুখস্থ হয়ে যেত। পরীক্ষা নিয়েছিলেন বড় বড় পণ্ডিতরা! সবাই অবাক হয়েছেন তাঁর প্রতিভা দেখে। . এদিকে পাশ্চাত্যে সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণিরা মনে প্রাণে তুর্কিকে সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে দেখার স্বপ্ন বুনতে লাগলেন। এদিকে নুরসি (রাহিমাহুল্লাহ) দেখলেন তাঁর দেশের সন্তানেরা বিদেশে পড়ে এসে ভুলে গিয়েছে ইসলামকে, ভুলে গিয়েছে শরীয়াহর প্রয়োজনীয়তাকে, তাঁরা এমন এক স্বপ্ন দেখছে যা তাদের সামনে সুন্দর হলেও ক্ষতিকর। তিনি বারবার খলিফার কাছে গিয়ে ধর্মীয় ও সেক্যুলার শিক্ষাকে সমন্বয় করে পড়ানোর পরামর্শ দিলেন কিন্তু এতে কোনো কাজ হলো না। উল্টো ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বারবার ফিরে আসতে হলো। কারণ সেক্যুলাররা তা বাস্তবায়ন হতে দিচ্ছিলো না। মূলত তাঁরা ছিলো ইউরোপীয়নদের দালাল। তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সর্বদা তাঁরা তুর্কিকে অস্থির করে রাখতো। . নুরসি (রাহিমাহুল্লাহ) যখন তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চিন্তায় মগ্ন তখন উসমানীয়রা জড়িয়ে পড়লো প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। তিনি নিজেও ফতোয়া দেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে পরাজিত হয় উসমানীয়রা। ক্ষমতার মসনদে বসা কামাল একেরপর এক ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড করতে থাকে। এক সময় সে কোরআন নিষিদ্ধ করে, আযান নিষিদ্ধ করে, ইসলামিক পোশাক-আশাক নিষিদ্ধ করে ইত্যাদি। এসবের পূর্বে কামালের সাথে অনেকবার সাক্ষাৎ হয় নুরসির (রাহিমাহুল্লাহ)। প্রত্যেকবার বাক বিতণ্ডা হয়। কামাল বুঝে গেলেন এই লোক দ্বীনের বেলায় এক ইঞ্চিও ছাড় দিবে না! . কামাল নুরসির (রাহিমাহুল্লাহ) উপর জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্বাসন দ্বারা ক্ষোভ প্রকাশ করে। পদে পদে তাকে হেনস্তা করে। এক স্থান থেকে নেয়া হয় আরেক স্থানে। নুরসি (রাহিমাহুল্লাহ) যেন এক জ্বলন্ত কাঠি যিনি বাহিরে থাকলে চারিপাশ আলোকিত করবেন, তাই তাকে আবদ্ধ করে রাখা হয় ৪ দেয়ালের ঘরে। কিন্তু প্রদীপ তো নিভে যাবে না এতো সহজে যেখানে গিয়েছেন সেখানে আলোর বার্তা ছড়িয়েছেন। দিশাহারা মানুষকে ইসলামের দিকে ডেকেছেন। সাড়া দিয়েছে বহু বহু মানুষ। নির্বাসনের সময় শুরু করেন 'রিসালায়ে নুর' গ্রন্থের কাজ। যা ক্ষণিকের মধ্য সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসে পুরুষ এবং নারীরা। . রিসালায়ে নুরের জন্য নুরসিকে (রাহিমাহুল্লাহ) বারবার আদালতের সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রত্যেকবার তিনি তাদের উদ্দেশ্যে জ্বালাময়ী ভাষণ দিতেন যা পড়ে আমি নিজেও কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসেছি। রিসালায়ে নুরে ততকালীন তুর্কিদের বর্বর আইনের বিরুদ্ধে কিছু লেখা আছে তা প্রমাণ করতে না পেরে আদালত তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কারাগারে ফেলে রাখে। কারাগারে তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিত৷ এজন্য শেষ বয়সে নুরসির (রাহিমাহুল্লাহ) শরীর ভেঙ্গে পড়ে। তাকে অনেকবার বিষ খাইয়ে মেরে ফেলারও চেষ্টা করা হয়েছিল। . চোরের দশ দিন গৃহস্থের একদিন। সেই একদিন আসলো ১৯৫০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। নুরসির বিরুদ্ধে থাকা সকল অপবাদ সেই সরকার তুলে নিলো। রিসালায়ে নুরকে ছড়িয়ে দেয়া হলো সর্বত্র। দাবানলের মতন তা এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লো। মানুষজন পড়তে শুরু করলো। তুর্কির বুকে এক গণজাগরণ হয়ে গেলো। . নুরসি (রাহিমাহুল্লাহ) বুঝলেন তাঁর সময় শেষ পর্যায়ে। শেষ বয়সে কাজে কর্মের জন্য ছুটে গেছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছিলো গোটা বিশ্বে। তুর্কির বুকে গণ জোয়ার এনে দেয়া এই মানুষটি, যিনি বারবার জেল খেটেছেন, জালিমের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যিনি ছিলেন দ্বীনের পথে সর্বদা অটল, যার জীবনের ২৮টি বছর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে কেটেছে, না খেতে পেরেছেন ভালো খাবার, না পড়তে পেরেছেন ভালো পোশাক, এই মহান মানুষটি ১৯৬০ সালের ২৫ রামাদ্বান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় নেন। . বিরোধিরা তাকে খুব বেশী ভয় পেত। জীবদ্দশায় তাকে তো তারা শান্তিতে থাকতে দেয়ওনি এমনকি ইন্তেকালের পরেও দেয়নি। ততকালীন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলতে কামালের শিষ্যরা বিদ্যমান ছিলো। তাঁরা তাকে সহ্য করতে পারেনি, তাঁর কবর পর্যন্ত তাঁরা রাতের আঁধারে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করেছিল। প্রদীপের আলো যেমন সহজে নিভে যায় না ঠিক তেমনি তাঁর শিক্ষাও নিভে যায়নি, বেঁচে আছে এখনো। তাঁর জীবনী পড়ে অনুপ্রেরণা, দ্বীনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদির চিন্তা-চেতনার খোরাক জুটবে। . ইরফান ভাইয়ের লেখার ধরণ আমার খুব বেশী ভালো লেগেছে, আলহামদুলিল্লাহ। অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় পাঠকের সামনে উপস্থাপনা করেছেন। বই লেখার জন্য তাকে কোঠর পরিশ্রম ও গবেষণা করতে হয়েছে তা বই পড়েই বুঝেছি। আল্লাহ! ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুণ ও আরও বই লেখার তৌফিক দান করুন, আমীন। . ইসলামের আলো কোনোদিন এই পৃথিবীর বুক থেকে নিভে যাবে না, বারবার জ্বলে উঠবে। আমাদের শত্রুরা চায় আমাদের দ্বীন নিভিয়ে দিতে কিন্তু তাঁরা সময়ের সাথে সাথে ভালো করে বুঝেছে এটা আদৌ সম্ভব নয়। তাই আমাদের খেয়াল করে চলতে হবে, সাবধানে থাকতে হবে। তাদের কূটকৌশলকে টেক্কা দিয়ে লড়ে যেতে হবে। প্রত্যেককেই দ্বীনের ঝান্ডা নিয়ে দাঁড়াতে হবে স্রোতের বিপরীতে। বিজয় আসবেই...!
amazing




















