

Buy আওরঙ্গজেব Online in Bangladesh
লেখক: অড্রি ট্রুসকে
- Author: অড্রি ট্রুসকে
- Publisher: প্রজন্ম পাবলিকেশন
- Isbn: 9789849632894
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ভারতের অধিকাংশ মানুষের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি কে? হিটলার বা লর্ড ক্লাইভ? না! আওরঙ্গজেব। তাদের দৃষ্টিতে, লক্ষ লক্ষ হিন্দুদের ‘খুন’ করা এ সম্রাট ধ্বংস করেছে ভারতের সংস্কৃতি, জুলুম করেছে হিন্দুদের উপরে। রক্তের নেশায় যে দৌড়ে বেড়াতো হিন্দু জনগোষ্ঠীতে। অনেকের মতে তিনিই ছিলেন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জনক, কট্টর মৌলবাদি।কিন্তু আসলেই কি আওরঙ্গজেব এমন ছিলেন? কেন তিনি মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন হিন্দু নেতাদের? আরোপ কেন করেছিলেন যিজিয়া? কেন হিন্দু অনেক সংস্কৃতিকে তিনি বিদায় করেছিলেন তাঁর দরবার থেকে? কেন তার বাবাকে বন্দি করে রেখে ক্ষমতা দখলে নিয়েছিলেন তিনি? তিনি কি আসলেই লাখ লাখ হিন্দু হত্যা করেছিলেন? মানুষ কি সত্যটা জানে?এ সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কলম ধরেছেন লেখিকা অড্রি ট্রুসকে। তিনি আওরঙ্গজেবকে হোয়াইট ওয়াশ করেননি, বরং যথাসম্ভব সত্য তথ্য তুলে ধরতে চেয়েছেন। সমালোচনাও করেছেন কঠোরভাবে। কিন্তু সত্যের সন্ধানের এ মিশন পছন্দ হয়নি অনেকের। এ বইয়ের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে ব্যাপক প্রপাগান্ডা। লেখিকার সমাবেশেও চলেছে গালগাল।কি এমন আছে এই বইয়ে যার কারণে ক্ষেপে গেলো এক শ্রেণির মানুষ?জানতে হলে, পড়তে হবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

====== কাহিনী সংক্ষেপ ====== “হিন্দুদের প্রতি ঘৃণার দরুণ আওরঙ্গজেব মন্দিরগুলো ধ্বংস করেছিলেন-এই দাবিতে অসংখ্য খুঁত রয়েছে। সবচেয়ে স্পষ্ট খুঁত হলো, আওরঙ্গজেবের সম্রাজ্যে হাজার হাজার হিন্দু মন্দির ছিল কিন্তু তিনি ধ্বংস করেছিলেন সর্বোচ্চ কয়েক ডজন। আওরঙ্গজেব এমন একজন গোঁড়া যে ভারতকে হিন্দুদের উপাসনালয় মুক্ত করার একক এজেন্ডা দ্বারা চালিত-এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাবিকে আঁকড়ে পড়ে থাকলে আমাদের খুব একটা লাভ হবে না। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে বৈধ দৃষ্টিভঙ্গির খোঁজ করতে হবে যা ব্যাখ্যা করবে কেন আওরঙ্গজেব হিন্দু মন্দিরগুলো ধ্বংস করার চেয়ে বেশিবার রক্ষা করেছিলেন।” ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মোঘলদের নাম। এই পুরো উপমহাদেশের আনাচে-কানাচে মোঘলদের কীর্তি এখনো জ্বাজল্যমান। কিন্তু প্রতাপশালী শেষ মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব আসলে কেমন ছিলেন? তার সময়ের শাসনকাল আসলে কেমন ছিলো? কারোও চোখে আওরঙ্গজেব ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম এক নিকৃষ্ট ব্যক্তি যিনি হত্যা করেছেন লক্ষাধিক হিন্দুদের! কিন্তু কারোও চোখে তিনি ছিলেন মোঘল সম্রাটদের মধ্যে অন্যতম সেরা ধার্মিক ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। আবার কোন কোন ইতিহাসবিদদের মতে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রতাপশালী সম্রাট; কারন তার সময়েই মোঘল সম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছিলো। তবে প্রকৃত ইতিহাস বা কী বলে? আসলেই কেমন ছিলেন আওরঙ্গজেব? কতটা সত্য আছে তার বিরূদ্ধে আনা সকল অভিযোগের? এইসব প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন লেখক। সত্য তুলে ধরতে তিনি যেমন প্রশংসাও করেছেন আবার করেছেন যৌক্তিক সমালোচনাও। “জনসাধারণের মধ্যে আওরঙ্গজেবের ব্যাপারে দুটো ধারণা খুব প্রচলিত-আওরঙ্গজেব হলেন ধর্মান্ধ বা আওরঙ্গজেব ছিলেন ধার্মিক। এদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক যে ন্যারেটিভ আওরঙ্গজেবের ব্যাপারে আছে তা হলো, আওরঙ্গজেব নাকি হিন্দু ও হিন্দুধর্মকে ধ্বংস করতে উন্মাদ ছিলেন।” ====== পাঠ প্রতিক্রিয়া ====== ইতিহাস বইগুলো পড়তে আমার বরাবরই ভালো লাগে; তাই এই বইও ব্যতিক্রম নয়। তবে অন্য বইয়ের তুলনায় এটি আলাদা কারণ এখানে লেখক প্রয়োজনীয় রেফারেন্সসহ সত্য-মিথ্যা তুলে ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আওরঙ্গজেবের শাসনামলের ভালো ও মন্দ দুটি দিকই আলোচনা করেছেন লেখক। বইয়ে তার নেয়া তৎকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সিদ্ধান্ত-সংস্কারগুলো তুলে ধরেছেন সূচারুভাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরবর্তী মোঘল সম্রাজ্যের অস্তিত্ব ও সম্রাজ্য বিস্তৃতে। আওরঙ্গজেবের বিরূদ্ধে প্রচলিত নানা তত্ত্বেরও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন নিরপেক্ষভাবে। তাই লেখকের দৃষ্টিতে কখনো তিনি হয়েছেন প্রসংশিত আবার কখনো সমালোচিত। “তার জীবনের শেষদিকের চিঠিগুলোতে তিনি মুঘল সম্রাজ্যের সামনের অন্ধকার দিনগুলো সম্পর্কে আশঙ্কা জানিয়েছেন। তিনি জানতেন না, এ পতন রুখতে তাঁর কী করা উচিত।” যাই হোক যেকোন পাঠকই অনেক অজানা ইতিহাস জানতে পারবেন বইটির মাধ্যমে। তবে কিছুটা খারাপ লেগেছে অনুবাদের মান নিয়ে। আমার কাছে অনুবাদ বেশ কাঠ-খোট্টা লেগেছে; আরোও সাবলীল হওয়া দরকার ছিলো। প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন ভালোই লেগেছে। বানান ভুলও খুব বেশি একটা ছিলো না। অন্যদের কাছে কেমন লাগে জানি না; তবে আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত হলো প্রজন্ম পাবলিকেশনের অনুবাদকৃত বইগুলোর অনুবাদের মান আরোও উন্নত ও প্রাঞ্জল হওয়া আবশ্যক বলে মনে করি। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৭.৫/১০।

লেখক এক পাক্ষিক ছিলেন না, আওরঙ্গজেব কে নিয়ে আজকের ভারতীয় দের প্রোপাগান্ডা, ও নেতিবাচক ন্যারেটিভ এর যে কোনো ভিত্তি নেই, তা এই বই পড়লেই বুঝা যায়। এছাড়া এতে অনেক কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করা হয়েছে, বোরিং লাগবে না, তথ্যভিত্তিক ও প্রমান সহ আলোচনা করা হয়েছে। ইতিহাস জানার ইচ্ছে থাকলে এমন একটা বই আপনি নিতেই পারেন। 🫂
উগ্র মস্তিষ্কের ইতিহাস বিমুখ একটা জাতি আওরঙ্গজেবের নাম শুনলে এখনো হিংসায় জ্বলে উঠে তাই এই বইটি পড়া উচিত ।

খুব তথ্যবহুল বই। পড়ে বেশ লাগলো।























