

Buy আল কুরআনের দারস ০১ Online in Bangladesh
লেখক: মুফতি হারুন ইজহার
- Author: মুফতি হারুন ইজহার
- Publisher: চিন্তাপত্র প্রকাশন
- Isbn: 9789849913719
- Number Of Pages: 170
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
আল কুরআনের দারস’ এক জীবন্ত আন্দোলন। এটা নিছক কোনো আয়োজন নয়, ফ্যান্টাসিও নয়। শাইখ বারংবার তার দারসে একথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেন আমরা স্রেফ সুখপাঠ্যে বিভোর না হয়ে যাই, যেন হারিয়ে না যাই এক কল্পিত জগতে। এই দারসের মাকসাদই ছিল জাগরণ। শাইখ তার দারসে বারবার সেই জাগরণের আযান দিয়েছেন। এই দারসের পরতেপরতে আমরা তা খুঁজে পাব ইনশাআল্লাহ। সাধারণ তাফসির এবং আল কুরআনের দারসের পার্থক্য এখানেই যে, এই দারস পরিবর্তনের আযান দেয়। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ আমাদের তা-ই দেখাবে...
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
আল কুরআনের মতো দ্বিতীয় আর কোনো গ্রন্থ নেই, এ কথা বলার থেকে আল কুরআনের সমকক্ষ আর কোনো বই নেই বলা বেশি লজিক্যাল। কারণ, কুরআন ব্যতীত অন্য সকল বই-ই মনুষ্য রচিত। আল্লাহ’র বাণীর এই কালাম নিয়ে মুফতি হারুন ইজহার তার দারসে জাগরণের ডাক দিয়েছেন।
অসাধারণ

মাশাহ আল্লাহ অসাধারণ শায়েখ এর দারসগুলো

শর্ট পিডিএফ পড়ে প্রিভিউ লিখেছিলাম। তখন আসলে এতটা আন্দাজ করতে পারিনি, বইয়ের আলোচনা কেমন হবে। বইটা হাতে পাবার পর থেকেই পড়ার ইচ্ছা হচ্ছিলো। ভাবলাম, সামনেই রমাদান আসছে কুরআন রিলেটেড কোনো বই পড়ি। তাই এই বইটিই নিলাম। যেহেতু এটা গতানুগতিক কোনো লিখিত বই নয়, শাইখ হারুন ইজহার হাফি. এর দেওয়া দারসের সংকলন। তাই ভেবেছিলাম, আলোচনা সহজবোধ্য হবে। আলোচনা সহজই ছিলো। সুন্দর উপস্থাপন। আমি কখনো শায়খের কোনো লেকচার শুনি নি, ছোটখাটো ভিডিও হয়তো দুয়েকটা দেখেছি। বই পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো, তাঁর মুখ থেকেই যেন কথাগুলো শুনছি। . আলহামদুলিল্লাহ বইটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। কুরআন নিয়ে এমন সহজ আলোচনাই আমাদের জন্য দরকার, যেন সহজভাবে কুরআনের সকল আয়াত, কুরআনের বার্তাকে উপলব্ধি করতে পারি। প্রথম দুইটা অধ্যায় অর্থাৎ ১. আত তাকওয়া: জীবন বাস্তবতায় এর প্রতিফলন ও সমকালীন ইসলামপন্থায় এর সংকট ২. নিফাক: অন্তরালের কদর্য কলব— পড়ার সময় কিছু টপিক এতটা ভালোভাবে বুঝিনি কেন জানি! মানে মনোযোগ পাচ্ছিলাম না। হয়তো আমার নিজের বুঝার ব্যর্থতা, জ্ঞানের স্বল্পতা। তবে কিছু কিছু পাঠ খুবই ভালো লেগেছে। পরবর্তী তিনটি অধ্যায় ইলম বনায় শাস্ত্রীয় ইলম, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি প্রথম পর্ব, কুরবানি: মিল্লাতে ইবরাহিমের চেতনা— এত ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছিলো প্রতিটি লাইন পড়ার সাথে সাথে উপলব্ধিও করতে পারছি। আল্লাহ ভালো জানেন, আমার নিজের জীবনে কতটুকু কাজে লাগাতে পারব বইয়ের কথাগুলো। . শাইখের কারাগারের স্মৃতিগুলোও শিক্ষনীয় ছিলো। বিশেষ করে উনার আলোচনার সাথে বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অবস্থা সবকিছুর মিল পাচ্ছিলাম, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন আর নানা জায়গায় মূর্তির উপস্থিতি। শায়খ দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলেছেন, ”রব্বিশ রহলি ছদরি, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উক্বদাতাম মিল লিসানি, ইয়াফক্বহূ ক্বওলি”— মূসা আ: কে আল্লাহ এই দুয়া শিখিয়েছেন ফেরাউনের সামনে পড়ার জন্য। আর আমরা পড়ছি বিসিএসের জন্য, অনার্সের জন্য, বুখারীর পরীক্ষায়। অথচ পড়া উচিত ছিলো বঙ্গভবনের দরজায়, গণভবনে ঢোকার আগে। তিনি আরও বলেছেন, যে কোনো কাজই হতে হবে ইখলাসের সাথে। আর আমাদের ভাষা হতে হবে দাওয়াহর ভাষা। সালাত কায়িম করার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন৷ তাঁকে কারাগারে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। তিনি পুলিশদের বলছেন, আপনারা সালাত কায়িম করুন। তাঁকে বলা হচ্ছে, আপনি আসামি। তিনি বললেন, আগে সালাত কায়িম করুন। তিনি একটা আলোচনায় আরও বলেছেন এমন, কেউ কেউ হয়তো ভাবে তাঁকে/তাঁদেরকে অন্যায়ভাবে এত শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, জুলুম করা হচ্ছে। যদি উনারা সুযোগ পান তাহলে না জানি কেমন প্রতিশোধ নেবেন প্রতিপক্ষের। কিন্তু তিনি বলেছেন, মক্কা বিজয়ের কথা। নবী মুহাম্মদ ﷺ তো সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, সবার হিদায়েতের দুয়া করেছেন। তিনিও তেমনি চান সবাই হিদায়েতপ্রাপ্ত হোক। আর এটাই তাঁর আনন্দ। বইটা পড়তে পড়তে আমি যেন ব্যক্তি হারুন ইজহারকেই হাফি. জানলাম। ধরে ধরে আলোচনা করলে এমন আরও অনেক টপিক নিয়ে কথা বলতে পারব। আমার কাছে মনে হয়েছে, আলোচনা থেকে শাইখের কথার বাইরেও পাঠকের নিজ থেকেই শেখার অনেক কিছু রয়েছে। বইয়ের সবকিছুই ভালো ছিলো। কিন্তু বেশ কয়েক জায়গায় বানান ভুল রয়ে গেছে। আশা করি, পরবর্তী সংস্করণে এগুলো ঠিক করা হবে৷






















