

Buy তুর্কিস্তানের রক্তাক্ত ইতিহাস Online in Bangladesh
লেখক: আজম হাশিমি
- Author: আজম হাশিমি
- Publisher: কালান্তর প্রকাশনী (সিলেট)
- Isbn: 9789849659051
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
গত শতাব্দীর শেষ দুটি দশক থেকে আজ পর্যন্ত এই নিরীহ কিন্তু বীর, নিঃস্ব কিন্তু আত্মর্মযাদাশীল জাতির বিরুদ্ধে সর্বজনীন ধারাবাহিক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রুসেড চালানো হয়েছে। তাদের জাতিসত্তার গৌরবময় ইতিহাসকেও নানা কায়দায় মুছে ফেলতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে; কিন্তু...কিন্তু হাজার বছরের ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। আলেকজান্ডার, তাতার আগ্রাসন, তৈমুরি ধ্বংসযজ্ঞ, তিনবারের অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধ, কমিউনিস্ট সোভিয়েত এবং সব শেষে ইউরোপ-আমেরিকা- ন্যাটো—কেউ-ই তাদের হীন চক্রান্ত ও কাঙ্ক্ষিত প্রকল্প এই ভূমিতে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। প্রতিটি শক্তিকেই এই জাতি কেন যেন ইতিহাস থেকে তাদের দার্শনিক ভিত্তিসহ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। কারা এই জাতি? ইসলামের সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক? সেই আরব উপদ্বীপ থেকে কীভাবে ইসলাম এখানে তার সর্বজনীন প্রভাব বিস্তার করল? এই ভূমির প্রচণ্ড আত্মমর্যাদাশীল অধিবাসীরা কীভাবে ইসলামকে তাদের জীবনাচরণ হিসেবে গ্রহণ করল? ইসলামই-বা কীভাবে তাদের হৃদয়মনে প্রবেশ করল? কোন সে আদর্শ আর শক্তি, যা হাজার বছর ধরে হিন্দুকুশ আর হিমালয় পাদদেশের অধিবাসীদের ইসলামের সঙ্গে এমন শক্তিশালী বিশ্বাসের বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছে? বিজয়ী এই জাতিকে জানতে হলে আপনাকে এই গ্রন্থ অবশ্যই পড়তে হবে। এটি কোনো উপন্যাস বা থ্রিলার নয়, রক্তমাংসে অপরাজেয় আর জীবন্ত একটি জাতির প্রায় ২ হাজার বছরের জ্বলন্ত ইতিহাস
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

তুর্কিস্তানের রক্তাক্ত ইতিহাস হলো তুর্কিস্তানে আজম হাশিমি রাহিমাহুল্লাহ এর সাথে ঘটে যাওয়া কমিউনিস্ট জারের অমানুষিক অত্যাচারের বর্ণনা। বস্তুত অত্যাচারের কিয়দাংশই এখানে বিবৃত হয়েছে, আর সেটাতেই বার বার আপনার শরীর কাঁটা দিয়ে উঠবে। আল্লাহ এই মজলুম ভাইদের নিরাপত্তার চাদরে আবৃর করে নিন।

কমিউনিস্টরা ১৯২৭ সালে তুর্কিস্তানের মুসলিমের উপর নৃশংস অত্যাচার, নিপীড়ন চালায়। সেখানে তখন মুসলিমদের বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। অনেকেই হিজরত করেছিল। সে সময়কার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন আজম হাশিমি। তিনি দেখেছেন নিরপরাধ মুসলিমের উপর করা অত্যাচার। তিনি নিজেও নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন অনেক কৌশলে। তাঁরই বর্ণনায় বইটি। বইটি পড়তে পড়তে অজান্তেই চোখের কোণে জল জমবে। ইচ্ছে হবে, এখনই যদি এর প্রতিশোধ নিতে পারতাম। ছোট্ট একটি বই, দ্রুত পড়ে ফেলা যায়, কিন্তু রেশ অনেকক্ষণ থেকে যায়। ইতিহাসপ্রেমী, উম্মাহদরদীদের অবশ্যই পড়া উচিত।

এমন গুরুত্বপূর্ণ বইটি বাংলাভাষায় অনুবাদ করার জন্য কালান্তর প্রকাশনীকে ধন্যবাদ। এই বইটি পড়ে যে কেউ কাঁদতে বাধ্য হবে। আমি নিজেও এই বইটি পড়তে যেয়ে কেঁদেছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, তুর্কিস্তানের ইতিহাস বইটি একবার হলেও পড়ুন, অনেক কিছু জানতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ। এই বইয়ের লেখককে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।আমীন। কালান্তর প্রকাশনীকে হিফাযত করুন। আমীন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে এমন শিউরে ওঠা কাহিনি শুধু কয়েক ফোটা দোয়াতের কালিতে নয়, কলংকের কালিতে নয়, রক্ত নদীর স্রোতে নয়, মুসলিমদের হাহাকার আর আর্তনাদে ভারী হওয়া সত্য ঘটনা। গ্রন্থটির অনুলেখক আবাদ শাহপুরি। প্রত্যক্ষদর্শী আজম হাশিমির বয়ানে প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চয়ন করেছেন অনুলেখক। পরবর্তীতে বাংলাভাষীদের জন্য হুজাইফা মাহমুদ নিজের দক্ষতাকে ও সম্পাদনার গুরু দায়িত্ব লেখক সাবের চৌধুরী উপস্থাপন করেছেন। যু’দ্ধবন্দী, যু’দ্ধের প্রতিটি দৃশ্যপট যেন তাঁর এই গ্রন্থে এক খোলা মানচিত্রের মতো। যে বিষয়গুলো এই গ্রন্থে আলোচিত হতে পারে বলে কল্পনাও করিনি, কিন্তু সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হলো- স্ট্যালিন ও মধ্য-প্রাচ্যের প্রাসঙ্গিক আলোচনায় রেখাপাত। অনুলেখক লিপিবদ্ধ করেছেন ঠিকই কিন্তু বয়ান করতে গিয়ে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি মূল বিষয়গুলোর খুঁটিনাটি এমনভাবে খেয়াল করেছেন, যা আমাদের জন্য সতর্কতা ও ভবিষ্যতের হিসাব স্বরুপ। আজম হাশিমির জীবনের বাকিকথাগুলো তুলে ধরেছেন আনাস চৌধুরী। যা গ্রন্থের বর্ধিত অংশ। প্রশংসনীয়ও বটে।
সাধারণত ইতিহাস-লেখকরা সময়ের পেছনে দাঁড়িয়ে বয়ান করে থাকেন আগের সময় এবং সময়ের ঘটনা-দুর্ঘটনাকে। এই এমনতর অবস্থায়ও শব্দ, বাক্য এবং কথা-কাহিনির শিল্পিত বয়ান কাতর হয়ে, কখনোবা পাথর হয়ে শুনতে থাকি আমরা। বিপরীতে খোদ লেখকই যখন ঘটনার দুর্গে দাঁড়িয়ে আমাদের শোনাতে যাবেন নিরুপায় দিনমানের কাহন, তখন লেখা বা বলা এবং শোনা বা পড়ার চিত্রটা কী কেমন হতে পারে, ভাবুন একটু। হয়তো এ কারণেই গ্রন্থটি পড়তে পড়তে চোখে যেমন অশ্রু ঝরে, হৃদয়ে তেমনি কাজ করে এক না-বলা, না-বোঝাতে পারা নিষ্পাপ বেদনা। লোমহর্ষক ঘটনাগুলো নিবিড় পাঠের গতি থামিয়ে দিয়ে মনকে যেমন তুর্কিস্তানের রাস্তা, মরুভূমি আর পাহাড়-জঙ্গলে নিয়ে যায়, তেমনি রুশভল্লুকদের প্রতি ঘৃণায় কাঁপাতে থাকে শরীর।























