

Buy দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস Online in Bangladesh
লেখক: ডব্লিউ. হান্টার
- Author: ডব্লিউ. হান্টার
- Publisher: খোশরোজ কিতাব মহল
- Number Of Pages: 192
- Language: বাংলা
- Edition: পুনমুদ্রণ, ২০24
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস" বইটি সম্পর্কে কিছু কথাঃ বইটি ইন্ডিয়ান মুসলানদের সম্পর্কে বা তাদের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। বইটি পড়লে ইন্ডিয়ায় মুসলমানদের নিগৃহীত জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন বলে আশা করি।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
Good
বইটিতে ইতিহাসকে কিছু বিকৃত রূপ দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের কে ইংরেজরা কোন চোখে দেখতো, তা এই বই পড়লেই সহজে অনুধাবন করা যায়।

good book

উইলিয়াম উইলসন হান্টার সাহেব যিনি ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টার নামে পরিচিত। এই হান্টার সাহেবের সমাধিক চর্চিত বই এটি ।এম আনিসুজ্জামান বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন। যখনই ভারতীয় মুসলমানের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রামাণ্য তথ্য ও পটভূমি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন অনেকেই হান্টার সাহেবের এই বইটিকে টুক করে রেফারেন্স হিসাবে উদ্ধৃত করেন। দুই সম্প্রদায়ের একসাথে থাকতে না পারার ফলাফল দেশভাগ। একমাত্র দেশভাগই দুই সম্প্রদায়কে নিরস্ত করতে পারত- এমন ধারণার সপক্ষে যুক্তির পেছনের শক্ত খু্ঁটি বিবেচিত হতে পারে মি. হান্টারের পুস্তকখানি। বইটি পড়া শুরু করার আগে হান্টার সাহেবকে নিয়ে জানতে গুগল করলাম।' ভদ্রলোক' খাশ আংরেজ নন, স্কটিশ। সাধারণত, মেইন ইংল্যান্ডের অধিবাসীদের চেয়ে আইরিশ কিংবা স্কটিশরা কম ঔপনিবেশিক মনমানসিকতাসম্পন্ন হয়ে থাকেন।মুনতাসীর মামুনের "কৌই হ্যায়" পড়তে গিয়ে তো এক আইসিএসের সন্ধান পেয়েছিলাম।যিনি বিপ্লবীদের সরাসরি সহায়তা করেছেন। তিনিও স্কটিশ ছিলেন। তবে আমাদের হান্টার সাহেব অন্যান্য স্কটিশদের মত নন। তিনি বেশ কষ্ট করে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন। তারপর আইসিএস হয়ে ভারতবর্ষে পদার্পণ করেছেন মহাশয়। দীর্ঘকাল ভারতবর্ষে কাজ করেছেন। নামের আগে স্যার, পরে বড় বড় খেতাব জোগাড় করেছেন। আর ভারতবর্ষের ইতিহাস, অবস্থা নিয়ে কঠিন কঠিন সহীহ বই লিখেছেন। যাতে পশ্চাৎপদ ভারতবাসীর প্রভূত কল্যাণ হয়েছে। একইসাথে তিনি রাজপুরুষ হিসেবে কতটা সরেস ছিলেন তা নিয়েও জানতে পারলাম।জনাব মহারাণীর দাসানুদাস। এবং কট্টরপন্থী ঔপনিবেশিক মানসিকতার পূজারি। একইসাথে মুসলমান বিদ্বেষীও বটে।তবে এই বইয়ের মূল আকর্ষণ বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের দৈনদশার হাল-হকিকত। হান্টারের এই বই প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে। একবার দেখলাম ১৮৭৬ সালে। বইটির শুরুতে তিনি সীমান্তপ্রদেশের মুসলমানদের কথা লিখেছেন। যারা সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে আবদুল ওয়াহাবের ওয়াহাবিজমে বিশ্বাস করে ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশদের। উল্লেখ্য, হান্টার প্রথম থেকেই সৈয়দ আহমদ ও তাদের অনুসারীদের ধর্মান্ধ বলে দাবি করেছেন। তারা ইংরেজরাজ্যের কত বড় শত্রু তা বারবার প্রমাণ করতে গিয়েছেন। প্রমাণ স্বরূপ ওয়াহাবিজমের উৎপত্তি নিয়ে অনেকগুলো পৃষ্ঠা লিখেছেন।ওয়াহাবিজমের উৎপত্তি নিয়ে হান্টারের লেখাটি সত্যিই ভাবনার উন্মেষ ঘটাবে। অন্যকে দোষারোপ করতে গিয়ে হান্টার নিজেই পরোক্ষভাবে বয়ান করেছেন ইংরেজরা কতটা জুলুমবাজ ছিল। ওয়াহাবিরা খুবই ধর্মান্ধ, অত্যাচারী - হান্টার মতে। এখন প্রশ্ন হল ওয়াহাবি কারা? হান্টার সাহবের একদেশদর্শী বর্নণাতে পুরো ভারতীয় মুসলমান সম্প্রদায়ই ওয়াহাবিদের মতো গোঁড়া। আবার নিজেই লিখেছেন অনেক মুসলমান অধিবাসীরা এমন গোঁড়ামি মেনে নেয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের ঘটনা এর উদারণ। ওয়াহাবিজম বাংলাতে ফরায়েজি আন্দোলন নামে বিস্তার লাভ করেছিল।হান্টার লিখেছেন বাংলার ফরায়েজি নেতারা দারুণ সৎ, ভালো লোক। একটু পরে পুরো বাঙালি মুসলমান হান্টারের চোখে ধর্মান্ধ, উগ্রবাদী ও রাজদ্রোহী। এই বইয়ের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হল মুসলমান সম্প্রদায়ের পেছনে পড়ে যাওয়া। ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত নামমাত্র মোঘল সম্রাটদের নামাঙ্কিত মুদ্রা চালু ছিল। এরপর ব্রিটিশ রাণী ও কোম্পানির নামে মুদ্রা চালু হয়। মোঘল ও নবাবি আমলে ব্যাপক নিষ্কর ও লাখেরাজ সম্পত্তি ভোগ করত মুসলমান সম্প্রদায়। চাকরিতেও বেশ ভালো অবস্থানে ছিল বাঙালি মুসলমানরাও। ধীরে ধীরে অবস্থা বদলে যেতে থাকে। জমি, চাকরি দুটোই হাত ছাড়া হয়ে যায় মুসলমানদের। ১৮৭১ সালের সরকারি চাকরির সম্প্রদায়গত তালিকা তুলে ধরেন হান্টার। ভয়াবহ এক অবস্থা দেখা যায় মুসলমান সম্প্রদায়ের। মুসলমানদের অস্তিত্ব তালিকাতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হান্টার লিখেছেন, " ক'দিন আগে দেখা যায় যে, একটা বিভাগে এমন একজনও নেই যে মুসলমানের ভাষা পড়াতে জানে এবং বস্তুত এখন কলকাতায় এমন একটি সরকারী অফিস কদাচিৎ চোখে পড়বে যেখানে চাপরাশি ও পিয়নশ্রেণীর উপরিস্তরে একজনও মুসলমান কর্মচারী বহাল আছে। " একই ভূখন্ডে পাশাপাশি বসবাসকারী হিন্দু-মুসলমান। এক সম্প্রদায় রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ অপর সম্প্রদায় দ্বিগুণবেগে পিছিয়ে পড়ছে। হান্টার কলকাতা আলিয়া মাদরাসার কথা লিখেছে। দাবি করেছেন ইংরেজ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা সত্ত্বেও এগুতে চায়না বাঙালি মুসলমানরা। বরং জায়গীর থেকে নাকি তারা কলকাতার রাস্তায় বাবুয়ানা করে বেড়ায়। ঝানু আইসিএস হান্টার সাহেব সবসময় সত্য কইতেন না। সবার আগে সাম্রাজ্য - নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। পুরো বইতে তিনি ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মান্ধ, রাজদ্রোহী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবার নিজেই তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন। কেননা পুরো মিথ্যাশ্রয়ী হতে পারেন নি। বাঙালি মুসলমান পিছিয়ে পড়েছ তা স্বীকার করেছেন। কিন্তু বুঝেও না বোঝার ভান করেছেন এর জন্য দায়ী ব্রিটিশদের একচোখা নীতি। হান্টারের বইটি একটি পরিপূর্ণ ঔপনিবে
WANT TO BUY























