

Buy তেভাগা আন্দোলন Online in Bangladesh
লেখক: ধনঞ্জয় রায়
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788177560695
- Number Of Pages: 257
- Language: বাংলা
- Edition: 7th Printed, 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
তেভাগা আন্দোলন বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা কথা বিশ শতকের তৃতীয় দশকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি বিশেষ পর্যায়ে উত্তরবঙ্গে, দিনাজপুর-রংপুর-জলপাইগুড়ি কোচবিহার-মালদহ, এই পাঁচটি জেলার নানা জায়গায়, স্থানীয় কৃষকদের প্রজন্মব্যাপী বঞ্চনার আক্রোশ বিদ্রোহ ও আন্দোলনে পরিণতি লাভ করে। ভারতীয় কমিউনিস্ট পাটি তখন গণবিপ্লব-আন্দোলনের তরঙ্গশীর্ষে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই রাজনৈতিক দল কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত সংগ্ৰামী মানুষ কমিউনিস্ট পার্টির পতাকার তলায় সমবেত হন। ফলে, রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রেরণায় এই আন্দোলন দুর্বর গতি লাভ করে ও অন্য মাত্রা পেয়ে যায়। সময়—দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অন্তিম অধ্যায়, ভারতের রাষ্ট্ৰীয় স্বাধীনতার পূর্বাহ্ণ। তখনকার স্মৃতিতে এবং এখনকার ইতিহাসে এই বিদ্রোহের প্রথম অধ্যায় আধিয়ার বিদ্রোহ, দ্বিতীয় অধ্যায়। তেভাগা আন্দোলন নামে বিখ্যাত। তেভাগা আন্দোলনের বীজ পোঁতা হয়েছিল আধিয়ার আন্দোলনে। উত্তরবঙ্গের ভাগচাষি ‘আধিয়ার’রা নির্মম অভিজ্ঞতা জানত, জোতদারের কাব্জায় একবার ধান চলে গেলে তার কপালে আধি বা অর্ধেক তো জুটবেই না, বরং নানা অজুহাতে, নানা পাওনার নাম করে সেই আধি থেকে মোটা অংশ কেটে নেবে জোতদার। তাই আওয়াজ উঠল, আর জোতদারের গোলায় বা “খোলানে” ধান নয়, ‘নিজ খোলানে ধান তোলো।’ যেসব এলাকায় খোলানে ধান তোলা হয়ে গেল সেখানে ঠিক হল, জোতদারকে আইনসঙ্গত নোটিশ দিয়ে ধান ভাগ করা হবে। যথারীতি জোতদাররা নোটিশ অস্বীকার করে। ভাগচাষিরা তখন গাঁয়ের দশজনকে সাক্ষী রেখে মোট ধান তিনভাগে ভাগ করল। তার নিজের দুভাগ, জোতদারের একভাগ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
প্রায় সত্তর বছর আগে লোলুপ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দোসর হয়ে দেশীয় জোতদার-জমিদার-মহাজন নিজের দেশের গরিব অসহায় মানুষকে ক্ষুধার অন্ন থেকে বঞ্চিত করে স্পষ্ট করেছিলেন শোষকের দেশভেদ নেই, স্বদেশিয়-বিদেশিয় কোনও শ্রেণি-বিভাজন নেই। এই স্বদেশিয় জোতদার-জমিদার-মহাজনের শত-শতাব্দীব্যাপী অত্যাচার আর শোষণের পরিণতিতে ঘটে যায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, পঞ্চাশের মন্বন্তর, ‘বাপের জমি হারায় কৃষক, ‘দাপের’ জমি বেড়ে চলে জমিদারের, কৃষক পরিণত হয় ভূমিহীন বর্গাদারে। বাংলার ইতিহাস তাই কৃষকের রক্ত-ঘাম-চোখের জলে সিঞ্চিত। আবার ইতিহাসই সাক্ষী, অবমানিত, বুভুক্ষু, সর্বহারা কৃষক সমাজ মেনে নেননি এই অন্যায়, বঞ্চনা, অবিচার। প্রতিবাদ-প্রতিরোধে উজ্জ্বল অসংখ্য কৃষক বিদ্রোহের উৎসার ঘটিয়েছেন। আজও প্রগতিশীল মানুষকে উদ্দীপিত করে পাকা ফসলের ‘ন্যায্য’ দাবিতে সত্তর বছর আগে সংগঠিত মহান তেভাগা আন্দোলন। সব থেকে লজ্জার কথা, স্বাধীনতা লাভের পরেও তেভাগার কৃষকদের রক্তে বাংলার মাটি ভিজে গিয়েছিল। তেভাগা আন্দোলন ছিল সেদিনের ‘দাউ দাউ বাংলা দেশের প্রাণে’র স্পর্শ সঞ্জাত। বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা যে স্বাধিকার ও আত্মমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন তার নেপথ্যে ছিল তেভাগার কৃষকদের আত্মবলিদান ও রক্ত ঝরানো প্রতিজ্ঞা ও প্রতিরোধ আন্দোলন। এই সংগ্রামের ইতিহাসই সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই গ্রন্থে।






















