

Buy সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ দ্য ব্যাটালিয়ন Online in Bangladesh
লেখক: ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
- Author: ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি
- Publisher: কালান্তর প্রকাশনী (সিলেট)
- Isbn: 9789849659020
- Number Of Pages: 240
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
তাতার ও মোঙ্গল, মামলুক, আইন জালুত, শাজারাতুদ দুর, সাইফুদ্দিন কুতুজ, রুকনুদ্দিন বাইবার্স এগুলো এখন বাংলাভাষী মানুষের কাছে পরিচিত নাম। এসব নিয়েই রচিত গ্রন্থটি। গ্রন্থটিতে মোঙ্গলদের মোকাবিলায় মামলুকদের সার্বিক তৎপরতা তুলে ধরা হয়েছে, তাঁদের সংগ্রামের কথা সুচারুরূপে ব্যক্ত করা হয়েছে। তেমনিভাবে সাইফুদ্দিন কুতুজের জীবনীও বর্ণিত হয়েছে। যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার কথা তুলে ধরা হয়েছে; সঙ্গে বিশ্লেষণসহ আইন জালুতে মুসলিমদের বিজয়ের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। শাসনক্ষমতা লাভের নীতিমালা এবং ইতিহাসের শিক্ষাও উদ্্ঘাটন করা হয়েছে। আইন জালুতে বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলো ছিল—বিচক্ষণ নেতৃত্ব, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি, সুস্পষ্ট লক্ষ্য, বিশুদ্ধ চিন্তাচেতনা, শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা, উম্মাহর শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্বহীনতা, যোগ্য লোকের কাছে দায়িত্ব অর্পণ, শক্তিশালী বাহিনী, জিহাদের পুনর্জাগরণ ও উপায়-উপকরণ গ্রহণ; তেমনিভাবে সামরিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে আদর্শিক দীক্ষা, ক্রমাগত প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিভা, সাইফুদ্দিন কুতুজের দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণ রাজনীতি, মামলুকবাহিনীতে বিজয়ী দলের গুণাবলি পাওয়া যাওয়া, পর্যায়ক্রমিক আদর্শ ও প্রতিরোধ-পরিকল্পনার উত্তরাধিকার, আলিমদের সাহায্য ও পরামর্শ চাওয়া, দুনিয়াবিমুখতা, মোঙ্গল রাজপরিবারে ভেতরগত দ্বন্দ্ব এবং জালিম ও অবাধ্যদের পাকড়াও করার ব্যাপারে আল্লাহর রীতি ইত্যাদি ছিল আইন জালুতে বিজয়ের অন্যতম কারণ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
সাইফুদ্দিন কুতুজ হলেন মুসলিম উম্মাহর এক কিংবদন্তী মহাবীর; যিনি উম্মাহর বিলীন হওয়ার আগে মুহূর্তে চাঁদ তারার পতাকা বুলন্দ করেছেন। আইন জালুতের যুদ্ধের পর বিলাদুশ শাম থেকে মিশর আসার পথে সুলতান জাহির বাইবার্স কর্তৃক পথে শহিদ হন। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন।
সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ দ্য ব্যাটালিয়ন~ মোঙ্গলীয় সাম্রাজ্য যখন একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যখন তাতাররা ধ্বংস করতে শুরু করেছে বাগদাদ সেই সময়ে আইনে জালুতের ময়দানে ঘটে এক অবিস্মরণীয় যুদ্ধ। যে যুদ্ধের দ্বায়িত্ব অর্পণ করা হয় সাইফুদ্দিন কুতুজের উপরে৷ যিনি অসামান্য বীরবিক্রমতার সাথে তাদের পরাজিত করেন এবং রচিত করেন এক নতুন ইতিহাস। সেই বীরযোদ্ধা সম্পর্কে ও মামলুক শাসনামল সম্পর্কেই মূলত এই বইটিতে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

তাতারিরা অজেয়!! এরকম একটা বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল মুসলিম জাতির অন্তরে। এই বিশ্বাস তুড়িতেই উড়িয়ে আইন জালুতের প্রান্তরে তাতারিদের নাকানি চুবানি খাইয়ে নাস্তানাবুদ করা হয় সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজের শাসনামলে। সুলতানের বিচক্ষণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, জিহাদি অনুপ্রেরণায় তাতারিদের চুড়ান্ত আঘাতটা করা সম্ভব হয়... পড়ুন, জানুন... আর দুআয় তাঁদের স্মরণ করুন। আল্লাহ রহম করুন উনার উপর।

মঙ্গোল ঝড়ে ততদিনে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ এলাকা। বিশাল বিস্তৃত খাওয়ারিজম সালতানাত, ৫০০ বছরের আব্বাসি খেলাফত ছোট-বড় আরো অনেক সাম্রাজ্য ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। মিশরে সদ্য শাসন শুরু করা মামলুক সালতানাত বাকি রয়ে গিয়ে ছিলো শুধু। হালাকু খানের রাক্ষস চোখ যথারীতি মিশরে দৃষ্টি দেওয়া শুরু করলো, মামলুকদের সুলতান তখন সাইফুদ্দিন কুতুজ। খুব বেশি দিন হয়নি শাসন শুরু করেছেন, এরইমাঝে মঙ্গোলঝড় শুরু হওয়ার মুখে মিশর। মিশরের পতন মানে মুসলিম বিশ্বের শেষ সালতানাতের পতন৷ কিন্তু সবকিছু এভাবে শেষ করে দেওয়া যায় না। একটা কিছু তো করা উচিৎ। কুতুজ বুঝতে শুরু করলেন— ক্ষমতার লড়াই কম হয়নি, পারষ্পরিক দ্বন্দ্বে অনেক কাল কেটে গিয়েছে মুসলিম সালতানাতগুলোই, আখেরে তাতে অসীম ক্ষতি ছাড়া কিছুই আসেনি। এখনো বাহরিয়া-মুইজ্জিয়া দ্বন্দ্ব নিয়ে মেতে থাকা আসলে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনিঃশেষ ধ্বংস ছাড়া আর কিছু আনবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী রুকুনুদ্দিন বাইবার্সের সাথে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিয়ে মঙ্গোলদের বিপক্ষে জিহাদের ঢাক দিলেন সুলতান... শক্তি সামর্থ্যে কমে থাকা মুসলিম সৈন্যরা কি পারবে তাদের রুখতে, কুতুজের নিঃস্বার্থ আহবানের কতটুকু মূল্যায়ন করতে পারবে মুজাহিদরা.. এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা আছে, তবে যতটা সহজে এর উত্তর আমাদের জানা আছে, এরচে কঠিন ছিলো তখনকার বাস্তবতা। সেই কঠিন সময়ের দাস্তান আমাদের আবশ্যিকভাবে জানা উচিৎ। সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ দ্যা ব্যাটালিয়ন আপনার আমার বিস্তারিত জানার আগ্রহকে শীতল স্পর্শ দিবে আশা করি।
দারুণ একটি বই।























