

Buy স্টিফেন হকিং ও তার আবিষ্কৃত বিজ্ঞান Online in Bangladesh
লেখক: ফ্লোরিয়ান ফ্রেয়িস্টেটার
- Author: ফ্লোরিয়ান ফ্রেয়িস্টেটার
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789849721406
- Number Of Pages: 119
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
তাত্ত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের লেখা আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞান বই। বইটি লাখো কপি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ পাঠকই তার গবেষণা বা আবিষ্কার সম্পর্কে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। এ বই মহাবিশ্ব, মহাবিস্ফোরণ ও কৃষ্ণগহব্বর সম্পর্কে তার মৌলিক গবষণার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

স্টিফেন হকিং। এক বিষ্ময়ের নাম। মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের মৃত্যুর দিন গুণতে শুরু করেছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন, কবে মৃত্যু তাঁকে বরণ করে নেবে। কিন্তু ওই যে বললাম, হকিং নিজেই এক বিষ্ময়। তিনি চাইছিলেন, মৃত্যুর আগে কিছু একটা করতে। এমন কিছু, যার জন্য মানুষ তাঁকে মনে রাখবে আজীবন। হকিংয়ের ঝোঁক ছিল বিজ্ঞান ও গণিতে। তাই বিজ্ঞানের দিকেই ঝুঁকলেন। কিন্তু চাইলেই তো আর সব করা যায় না। প্রকৃতিও মাঝেমধ্যে দিয়ে বসে বাধা। মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেল হকিংয়ের। ধীরেধীরে অবশ হতে শুরু করল সম্পূর্ণ শরীর। এক সময় চোখের পাতা ছাড়া নাড়াতে পারতেন না শরীরের কোনো অঙ্গই। কিন্তু তাতে দমে যাননি তিনি। এভাবে বিশ্বের জন্য সৃষ্টি করলেন এক বিষ্ময়ের। মৃত্যুকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বেঁচে ছিলেন ৭৬ বছর। হয়ে উঠেছিলেন এ সময়ের অন্যতম এক নায়ক। এই প্রতিকূল অবস্থায়, সংগ্রাম করে গবেষণা করে গেছেন হকিং। মহাবিশ্ব, মহাবিস্ফোরণ, পরম বিন্দু, মহাকর্ষ তরঙ্গ ও কৃষ্ণগহ্বর ছিল তাঁর গবেষণার বিষয়। মহাবিশ্ব সম্পর্কে তাঁর গবেষণা মানুষের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে অনেকখানি। হকিং তাঁর জীবদ্দশায় যে সব মৌলিক আবিষ্কারগুলো করেছেন, এ বইটা সেই আবিষ্কারগুলো নিয়েই। পাশাপাশি হকিং লিখেছেন বেশ কিছু বিজ্ঞানের বই। বিজ্ঞানের কাঠখোট্টা জিনিসগুলো যেন সহজে বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, তাঁর বই যেন বিক্রি হয় রেলস্টেশনেও। যাতে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছায়। যেন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে বিজ্ঞান। তাঁর সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে তাঁর বই। বছরের পর বছর পেয়েছে বেস্ট সেলারের খেতাব। কিন্তু তাঁর মৌলিক আবিষ্কারগুলো বোঝা অত সহজ নয়। সেগুলো সঠিকভাবে উপলদ্ধি করতে হলে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হতে তো হবে, জানতে হবে গণিতও। আসলে তাঁর গবেষণার বিষয় সহজে বোঝার মতো করে উপস্থাপন করা যায় না। অনেক বছর পড়ালেখা করেই সেগুলো বুঝতে হয়। ১২০ পৃষ্ঠার ছোট্ট এ বইটিতে কঠিন সেই বিষয়গুলো সহজে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বইটিতে আছে মোট পাঁচটি অধ্যায়। সিঙ্গুলারিটি, মহাকর্ষ তরঙ্গ, হকিং বিকিরণ, ইনফরমেশন প্যারাডক্স ও মহাবিস্ফোরণের আগে। এই পাঁচটি অধ্যায়ের পাশাপাশি বইয়ে আছে স্টিফেন হকিংয়ের লেখা কিছু বই নিয়ে ছোট পরিচিতিমূলক বর্ণনা। সেই সঙ্গে অনুবাদক আবুল বাসার এই বইয়ে ‘বড় প্রশ্নগুলো কেন জিজ্ঞেস করতেই হবে?’ লেখাটি সংযোজন করেছেন। এই অধ্যায়টাও হকিংয়েরই লেখা। ব্রিফ আনসার টু দ্য বিগ কোয়েশচেনস বই থেকে এ অংশটুকু নেওয়া হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ের নাম সিঙ্গুলারিটি: মহাবিশ্বের সূচনা। স্টিফেন হকিং তাঁর বৈজ্ঞানিক অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন মহাবিশ্বের সূচনা দিয়ে। মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে যুগান্তকারী সব গবেষণা করেছেন। তার একটি সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু। নক্ষত্রের মধ্যে ঘটে ফিউশন বিক্রিয়া। আসলে, নক্ষত্রগুলো নিজেদের ভেতরে নিজেদের চুপসে ফেলতে চায়। কিন্তু জ্বালানীর অভাবে চালু রাখা সম্ভব হয় না ফিউশন বিক্রিয়া। ফলে বিকিরণের চাপ আর থাকে না। নক্ষত্রটি নিজের ওপর চুপসে যেতে থাকে। নক্ষত্রের ভেতরের পদার্থগুলো অনবরত সংকুচিত হয়ে একসঙ্গে ঘনীভূত হয়। এক সময় নক্ষত্রের ঘনত্ব হয়ে যায় অসীম। এভাবে বিশালাকার নক্ষত্রটি সংকুচিত হতে হতে পরিণত হয় একটি বিন্দুতে। এই বিন্দুকেই বলে সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু। এভাবে একটি নক্ষত্র পরিণত হয় ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরে। এরপর সেই কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আবার বিকশিত হয়, তা আমরা জানি না। কারণ, পরম বিন্দু থেকে কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসে না। এবার দেখা যাক ইভেন্ট হরাইজন কী জিনিস। এর জন্য মুক্তিবেগ বিষয়টা একটু বুঝতে হবে। যে সর্বনিম্ন বেগে কোনো বস্তুকে নিক্ষেপ করলে তা মহাকর্ষীয় টান কাটিয়ে চলে যেতে পারে, সেটাই মুক্তিবেগ। যেমন পৃথিবীর মুক্তিবেগ ১১.২। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার বেগে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসবে না। মানে, ওই বস্তু পৃথিবীর মহাকর্ষীয় টান থেকে মুক্ত হয়ে চলে যাবে। চুপসে যাওয়া নক্ষত্রটি এক সময়ে এমন এক বিন্দুতে এসে পৌঁছায়, যার মুক্তিবেগ আলোর বেগের সমান। তাহলে ওই বস্তুটির মহাকর্ষীয় টান থেকে মুক্তি পেতে হলে নিশ্চয়ই আলোর বেগের চেয়ে বেশি বেগে ছুঁড়তে হবে। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। যে সীমানার ঘেরে এই মুক্তিবেগ কাজ করে, তার নাম ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনা দিগন্ত। মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বেও সিঙ্গুলারিটি মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। এই অধ্যায় জুড়ে সেই বর্ণনাই উঠে এসেছে দারুণভাবে। মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল মানবসভ্যতার জন্য বিশেষ এক দিন। এ দিন মহাকর্ষ তরঙ্গ আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। কীভাবে সেই অসাধ্য সাধন করা হয়েছিল, সে ব্যাপারে বইতে লেখা আছে বিস্তারিত। বোঝার সুবিধার্তে বেশ কয়েকটি ছবি এঁকেও দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখানে হকিংয়ের অবদান কী ছিল? সে বিষয়েও জানতে পারবেন বিস্তারিত। এ অধ্যায়েই কৃষ্ণগহ্বর ও তাপগতিবিদ্যার চমকপ্রদ সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এনট্রপির বিষয়টা খুব সাবলীলভাবে উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে। এরপর কৃষ্ণগহ্বরের গঠনা দিগন্তের সঙ্গে এনট্রপির সম্পর্ক দেখিয়েছেন স্টিফেন হকিং ও আরও দুজন। ব্ল্যাকহোল ও তাপগতিবিদ্যার সম্পর্ক যেমন চমকপ্রদ, তেমনি বিভ্রান্তিকর। কেন বলছি এ কথা? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। তৃতীয় অধ্যায়ের নাম হকিং বিকিরণ। এই হকিং রেডিয়েশন বা বিকিরণও দারুণ এক বিষয়। হকিং বলেছিলেন, নক্ষত্রদের মাঝের খালি জায়গা আসলে খালি নয়। সেখানে শূন্য থেকে উদ্ভব হয় কাল্পনিক কণার। একটি ম্যাটার, অন্যটি অ্যান্টিম্যাটার। এরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যায়। এ ঘটনাটি ঘটতে পারে ঘটনা দিগন্তে। তখন একটি কণা চলে যেতে পারে কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে। অন্যটি থেকে যেতে পারে কৃষ্ণগহ্বরের ঘটনা দিগন্তের বাইরে। হারিয়ে যাওয়া কণাটির শক্তি ঋণাত্মক হলে সেটা কৃষ্ণগহ্বরের ভর কমিয়ে দেবে। একই সময়ে ঘটনা দিগন্ত থেকে একটি কণা বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যাবে। এটা একধরনের বিকিরণ—হকিং বিকিরণ। এদিকে আগেই আমরা জেনেছি, ঘটনা দিগন্তের আকর্ষণ উপেক্ষা করে কোনো কিছুই বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না। কাজেই এটা একটা প্যারাডক্সে পরিণত হয়েছে। হকিং সেই প্যারাডক্সের সমাধান করেন ১৯৭৫ সালে। কী সেই সমাধান? জানা যাবে এ অধ্যায়ে। আরও জানা যাবে দারুণ কিছু প্রশ্নের জবাব। হকিং বিকিরণের কারণে ভর কমতে কমতে এক সময় কি নিঃশেষ হয়ে যাবে কৃষ্ণগহ্বর? নিঃশেষ হতেই বা কত বছর সময় লাগবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে। পরের অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে ঘটনা দিগন্তের আড়ালের সবকিছু নিয়ে। নাম ইনফরমেশন প্যারাডক্স। হ্যাঁ, এটি আরও একটি প্যারাডক্সই বটে। বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলা দরকার। সহজ করে বললে, আপনি কৃষ্ণগহ্বরে ১০০ কেজির একজন মানুষ ফেলেন আর ১০০ কেজির একটি পাথরখণ্ড ফেলেন, তাতে কৃষ্ণগহ্বের কিছু যায় আসে না। কিন্তু প্যারাডক্সটা কী? তার আগে জানতে হবে, ইনফরমেশন বা তথ্য কি ধ্বংস হতে পারে? মানে, আমরা যদি একটি বই কৃষ্ণগহ্বরে ফেলে দিই, তাহলে বইটি নিশ্চয়ই ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু বইয়ের তথ্যগুলো কি ধ্বংস হয়ে যাবে? ধরুন, আমরা একটা বই আগুনে পুড়িয়ে ফেললাম। পোড়ানোর পরে পাওয়া যাবে ছাই আর ধোঁয়া। এবার পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মানুসারে, তাত্ত্বিকভাবে পোড়ানোর প্রক্রিয়াটা উল্টোভাবে নিয়ে ছাইয়ের গাদা ও ধোঁয়া থেকে আসল বইটা ফিরে পাওয়া সম্ভব। বাস্তবে সম্ভব নয়, তাত্ত্বিকভাবে। কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরে ফেললে তো এটা সম্ভব নয়। কোনো তথ্য আর পাওয়া যাবে না। এটা পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রগুলোর বিরোধিতা করে। তাহলে কোনটি সত্যি? আসলেই কি তথ্য ধ্বংস করতে পারে কৃষ্ণগহ্বর? স্টিফেন হকিং এ ব্যাপারে কী ভাবতেন? সে বিষয়ে এ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পঞ্চম অধ্যায়ের নাম মহাবিস্ফোরণের আগে। ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। কিন্তু এখনো এ নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু প্রশ্ন। যেগুলোর সমাধান এখনো খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। যেমন মহাবিশ্বের সূচনালগ্নে কণা এবং প্রতিকণা ছিল। নিয়মানুসারে কণা দুটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। এই কণাগুলোর ধ্বংসের ফলে উৎপন্ন হয় শক্তি। তাহলে পুরো বিশ্ব কণার পরিবর্তে শক্তি দিয়ে পূর্ণ থাকার কথা ছিল। কিন্ত দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিকণার চেয়ে কণার পরিমাণ বেশি। কেন বেশি? সে উত্তর আমরা জানি না। ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নিয়েও আছে রহস্য। আমরা জানি, মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু কেন? জানি না আমরা। মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল, এটা বিজ্ঞানী হাবল প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁর অনেক আগেই একটা সূত্রের মাধ্যমে তা আবিষ্কার করেছিলেন আইনস্টাইন। কিন্তু তিনি নিজের সূত্রকে বিশ্বাস করতে পারেননি। কারণ, আইনস্টাইন বিশ্বাস করতেন, মহাবিশ্ব স্থির। তাই পরিবর্তন করেছিলেন নিজের সূত্রটি। পরে অবশ্য হাবলের প্রমাণ দেখে বুঝেছিলেন, সূত্র পরিবর্তন করাটা তাঁর বড় ভুল ছিল। কী ছিল হাবলের সেই পরীক্ষা, যা দিয়ে বোঝা গেল মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে? মহাবিস্ফোরণের আগে কী ছিল? এ বিষয়ে গবেষণা করেছিলেন হকিং। এ অধ্যায়ে জানা যাবে সেই কাহিনিও। বইয়ের শেষ অধ্যায় ‘বড় প্রশ্নগুলো কেন জিজ্ঞেস করতেই হবে?’ অধ্যায়টা অবশ্য অনুবাদকের সংযোজন। আমরা কোথা থেকে এলাম? এই মহাবিশ্বের সূচনা হলো কীভাবে? মহাবিশ্বের বাইরে কি আরও কিছু আছে? এসব বড় প্রশ্নগুলো আমাদের কেন জানতে হবে, সে কথাই এখানে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্টিফেন হকিং বিজ্ঞান নিয়ে যে গবেষণা করেছেন, তার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এ ধরনের গবেষণা কি আরও করা দরকার? এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সাজানো হয়েছে এই অধ্যায়। বইটির সঙ্গে অধ্যায়টা বেশ মানানসই। সম্পূর্ণ বইটা পড়ে জানা যাবে হকিং-এর কাজের ব্যাপ্তি। আর এই শেষ অধ্যায়ে জানতে পারবেন, তাঁর সেই কাজের গুরুত্ব কতটা। লেখার শুরুতেই বলেছি, বইটি হকিংয়ের কাজ নিয়ে সহজ করে লেখা। কিন্তু এখানে তার গবেষণার সারাংশই তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। এই কয়টি ছাড়াও তিনি আরও অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন। হয়তো এই বইয়ের গবেষণাগুলো তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্ত তাঁর গবেষণার পুরো বিষয়টা বইয়ে আসেনি। সেটা হয়তো সম্ভবও নয় এই ছোট্ট কলেবরে। হকিং প্রতিভাবান ছিলেন, এ কথায় নিশ্চয়ই কেউ দ্বিমত করবে না। কিন্তু কতটা মেধাবী ছিলেন? আইজ্যাক নিউটন বা আলবার্ট আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি? হয়তো না। কারণ, হকিংয়ের গবেষণা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে আমূল কোনো বিপ্লব ঘটায়নি। তবু হকিং অনন্য, বিষ্ময়কর। তিনি বেশ কয়টি বই লিখেছেন সাধারণ মানুষের জন্য। নিজে অভিনয়ও করেছেন। তাঁকে নিয়ে হয়েছে সিনেমা। বুঝতেই পারছেন, হকিং ছিলেন একুশ শতকের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী। এবার অনুবাদের ব্যাপারে বলা যাক। আবুল বাসারের অনুবাদ প্রাঞ্জল। বিজ্ঞানের কাঠখোট্টা বিষয়গুলোও সহজে বোঝানোর বিশেষ গুণ আছে তাঁর লেখায়। সেই গুণ ফুটে উঠেছে এই বইয়েও। বইয়ের বাঁধাই, কাগজ সবকিছুই দারুণ। সবচেয়ে সুন্দর চোখজুড়ানো প্রচ্ছদটি। করেছেন আরাফাত করিম। তবে ১২০ পৃষ্ঠার বইয়ের মূল্যটা হয়তো একটু বেশি মনে হতে পারে। বইমেলায় প্রথমা প্রকাশনের প্যাভেলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি আগ্রহীরা পাবেন অফলাইন ও অনলাইনের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে।























