

Buy শ্রেষ্ঠ কবিতা Online in Bangladesh
লেখক: রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
- Author: রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
- Publisher: হাওলাদার প্রকাশনী
- Isbn: 9789848964231
- Number Of Pages: 255
- Language: বাংলা
- Edition: New Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"শ্রেষ্ঠ কবিতা" বইয়ের ভূমিকা থেকে নেয়াঃ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুর তিন বছর পর ১৯৯৪ সালে কবির শেষজীবনের ঘনিষ্ঠ সুহৃদ ও অগ্রজ কবি অসীম সাহার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর শ্রেষ্ঠ কবিতা। প্রকাশমাত্রই স্বল্পায়তন এ সংকলনটি বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। কিন্তু কালক্রমে প্রকাশকের ঔদাসীন্য ও স্বেচ্ছাচারিতায় গ্রন্থটি থেকে রুদ্রের নিজস্ব বানানরীতি অপসৃত হয়েছে, প্রকাশনার মানেও পড়েছে অযত্নের ছাপ, এমনকি প্রচ্ছদে কবির নামটি ভুল বানানে মুদ্রিত। এসব ছাড়াও গ্রন্থটি সম্পর্কে কবির শুভানুধ্যায়ীদের বহু অভিযােগ কানে এসেছে। সব মিলিয়ে, রুদ্রের প্রতিনিধিত্বশীল কবিতার একটি সুষ্ঠু ও পরিমার্জিত সংকলনের অভাব দীর্ঘ দিনের। বর্তমান সংকলনটি সেই অভাববােধ পূরণে সক্ষম হলেই এই প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের পরিশ্রম সার্থক বলে বিবেচিত হবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

কবিতাগুলো অসাধারণ

Received accordingly, thanks
বই টা সুন্দর সাজানো। কভার টাও বেশ।
কত পৃষ্ঠা
#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা বইয়ের নাম-শ্রেষ্ঠ কবিতা জনরা-কবিতা কবি-রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ পৃষ্ঠা-২৫৫ মূল্য-৩৫০ স্বাধীনতা উত্তরকালে বাংলাদেশের কবিতায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একটি দীপ্ত ও দীপ্র নাম। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে পুরো প্রতিভার প্রকাশ না দেখাতে পারলেও, যথেষ্ট প্রভাব দেখিয়ে গেছেন। তিনি একজন বাংলাদেশী কবি ও গীতিকার যিনি "প্রতিবাদী রোমান্টিক" হিসাবে খ্যাত। তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম "বাতাসে লাশের গন্ধ"। এই কবির স্মরণে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোংলার মিঠেখালিতে গড়ে উঠেছে "রুদ্র স্মৃতি সংসদ"। প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও অসাম্প্রদায়িকতা তাঁর কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত। এছাড়া স্বৈরতন্ত্র ও ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল উচ্চকিত। কবিকন্ঠে কবিতা পাঠে যে কজন কবি কবিতাকে শ্রোতৃপ্রিয় করে তোলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকো সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। শ্রেষ্ট কবিতা গ্রন্থে তাঁর সাতটি কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া কবিতা এবং কিছু গান নিয়ে সংকলন। ক্ষনজন্মা এই কবির জীবনের অসম্পূর্ণ ইতিহাস হয়ে ধরা পরে,তার "ছিন্নভিন্ন ভালোবাসা" কবিতায়- "এক যুগ গেল গায়ে হলুদের দিন আর এক যুগ বাকি আয়োজনে যাবে কখন আমার শুভ দৃষ্টির ক্ষণ বাসর আমার হবে কতযুগ পরে।" রুদ্র দ্রোহের কবি, সংক্ষোভের শিল্পী, প্রতিবাদী কবিতার কন্ঠস্বর। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে চারদিকের বিপন্ন আবহাওয়ায় রুদ্র উচ্চারণ করেছে দ্রোহের কথা, কবিতায় রূপায়িত করেছেন সাহসী ও সংক্ষুব্ধ শব্দের ঝনঝনানি। "আমি কবি নই-শব্দ শ্রমিক ভাষা সৈনিক আমি জানি শুধু যুদ্ধ, আমার সম্মুখে আলোর দরজা রুদ্ধ তাই বারুদে সাজাই কোমল বর্ণমালা" -(শব্দ শ্রমিক) কবিতার ভাষায় পরম মমতায় আঁকড়ে রেখেছেন, মাতৃভূমির মৃত্তিকা কে। "ভালোবেসে প্রিয় সেই মাটির সিথানে যদি রেখেছি হৃদয় তবে আজ বৃষ্টি হোক, অবিরল বৃষ্টি হোক উষর জীবনে ধুয়ে যাক জমাট রক্তের দাগ, পরাজয়, গ্লানির পৃথিবী।"-(বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা) ভাঙনের সময়ও তাঁর কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে জয়ধ্বনি। "তোমাকে এখন প্রতারক বলতে চাই না তোমাকে বলতে চাই ক্লেদ, সাম্প্রদায়িক শকুন। যারা মুখে ধর্ম আর মহান শান্তির কথা বলে অথচ সমস্ত কাজ করে তারা ধর্মের বিরুদ্ধে।" বাংলার মুক্তিযুদ্ধ ছিলো তার অন্তরে লালিত। সত্যি বলতে, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত "বাতাসে লাশের গন্ধ" কবিতা দিয়েই বাংলা কবিতায় তার অহংকারী প্রবেশ। যুদ্ধোত্তর কালে যখন আগের কার শকুন গুলো রক্তে অর্জিত পতাকা নিয়ে টানা হেঁচড়া শুরু করে, তখন রুদ্ধ হয়ে উঠে বিক্ষুব্ধ। আর তাই সেই ক্ষোভ উগরিয়ে দেয় যুদ্ধকালীন স্মৃতি বর্ণনায় , "এ চোখে ঘুম আসে না। সারারাত আমার ঘুম আসে না। তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার নদীর পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ মুন্ডুহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস শরীর।"-(বাতাসে লাশের গন্ধ) মুক্তিযুদ্ধের সাথে রুদ্রের কবিতায় ঠায় পেয়েছিলো ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযোদ্ধা গেরিলাদের বীরত্ব কাহিনী। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে রুদ্র খুঁজে পেয়েছিলেন, স্বাধীনতার জন্য বাঙালির আকাঙ্ক্ষা- "একটি কন্ঠে বেজে উঠেছিল জাতির কন্ঠস্বর? একটি প্রতীক কন্ঠে সোদিন বেজেছিলো স্বাধীনতা।-(হাড়েরও ঘরখানি) রুদ্রে কবিতায় প্রতিফলিত হয় লোকজ প্রীতি। এই বিশ্বাসকে তিনি গভীর মমতায় লালন করেছেন তার কবিতায়। "সত্যের লাঙলে চিরে এই পোড়া বুকের জমিন আমিও ফসল হবো, হবো আমি শস্য ভরা ক্ষেত সোনালী অখনে তুমি আঁটি আঁটি ধান তুলে নিও।-( নিখিলের অনন্ত অঙ্গন) প্রচন্ড আশাবাদী আর ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। বিপর্যয় ও বিপন্নতার মাঝেও তিনি স্বপ্ন দেখেছেন উজ্জ্বল স্বপ্নীল ভবিষ্যতের। বৈষম্যপীড়িত সমাজের পরিবর্তে তিনি কল্পনা করেছেন একটি সুশীল সমাজ। যেখানে ভেদাভেদ নেই কোন প্রকার। গ্রাম্যজীবন আর কৃষিজীবন থেকে খুঁজে পেয়েছেন তার স্বপ্ন দেখার আশার বানী। "ভরা ফসলের মাঠে যদি মৃত্যু হয় তবে দুঃখ নেই সূর্য ওঠার আগেই যদি মৃত্যু হয় তবু কোন দুঃখ নেই জেনে যাবো, ভোর হবে-আমাদের সন্তানেরা পাবে মুগ্ধ আলো জেনে যাবো শেষ হলো বেদনার দিন-ফসল ফলছে মাঠে।-(ফসলের কাফন) তার বিশ্বাস ছিলো, বক্তি মালিকানা সম্পত্তির পরিবর্তে সামষ্টিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলেই তার আশা বাস্তব সম্মত হবে। কখনই কোন হতাশা বা বিপর্যয় তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে নি। "তোমার পিতার হত্যাকারী একজন আর্য একজন ইংরেক তোমার সর্বস্ব লুট করেছে তোমার দক্ষিণে শব যাত্রা, তোমার উত্তরে মৃত্যু চিহ্ন তুমি যাচ্ছো, না- না তুমি একা নও, তুমি আর ইতিহাস।-(মনে করো তাম্রলিপি) ইতিহাস আর মিথ চেতনা একীভূত হয়ে তাকে সাহস জুগিয়েছে। "একতার লোহার বাসরে আজ ঢুকে গেছে মনসার সাপ ছোবল দিয়েছে বুকে সুতানলি বিরোধের ফনা। -(একই সাপের দুই মুখ) লোকভাষাকে আশ্রয় করে গড়ে উঠেছে রুদ্রের কবিতা। "কাকের পালক, গঙ্গা ফড়িং, বাউল বাতাস আঙিনাতে লাউয়ের জ্বাংলা টানতে তোমায়। -(পুড়িয়ে দেবো নীল কারুকাজ) "কালো সব বাতাসের অলস শরীর কেঁপে কেঁপে শীতের অসুখে ম্লান রোগীদের মতো এসেছিলো।"-(আজীবন জন্মের গানে) "স্বজনের শুভ্র হাড় চারিপাশে ফুটে আছে ফুলের মতোন।" (স্বজনের শুভ্র হাড়) বাংলা কবিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। মাটি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় তার উচ্চারণ ছিলো স্পষ্ট। ক্ষণজন্মা এই কবি তাঁর কাব্য রূপায়িত করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে পরিণত করেছে স্বতন্ত্র একজন হিসেব। যদিও তিনি সবটুকু পুরণ করে যেতে পারেন নি। সামনে হয়তো কেউ পারবে। https://www.rokomari.com/book/143149/শ্রেষ্ঠ-কবিতা























