

Buy সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ Online in Bangladesh
লেখক: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ খান
- Author: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ খান
- Publisher: মাকতাবাতু ইবরাহীম
- Isbn: 9789843481016
- Number Of Pages: 160
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি হলো লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, অর্থাৎ জীবনের সবকিছুর হুকুম আসবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে। যেসব হুকুম-আহকাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্য সভ্যতার ভিত্তি হলো, সেক্যুলারিজম, ডারউইনিজম, মেটেরিয়ালিজম ইত্যাদি। তাই ইসলামি সভ্যতার সম্পূর্ণ বিপরীত হলো পাশ্চাত্য সভ্যতা। এদের মধ্যে সমন্বয়ের বা সমঝোতার কোনো উপায় নেই। সুতরাং উভয় সভ্যতার কৃষ্টি-কালচারে বিরাট পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত জীবনে, পারিবারিক কাঠামোতে, নারী ও পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধের বিধান সম্পর্কে, আনন্দ-বিনোদন উপভোগের ধরনের ব্যাপারে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আশা করি এ পার্থক্যগুলোর জট খুলবে এই গ্রন্থের মাধ্যমে। বইটিতে মূলত আলোচনা করা হয়েছে পাশ্চাত্য সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির পরিচয়, পার্থক্য ও অবস্থান নিয়ে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
ইসলামি সভ্যতা ও পাশ্চাত্য সভ্যতা পরস্পর বিপরীতমুখী দুটি বিষয়। পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল ভিত্তি হলো সেক্যুলারিজম, গনতন্ত্র, বিবর্তনবাদ, বস্তুবাদ ইত্যাদি । যে সভ্যতা স্রষ্টাহীন, এখানে ধর্মের কোনো জায়গা নেই। এই সভ্যতা প্রধাণত টিকে আছে নেতৃত্ব ও কতৃত্বের উপর ভর করে। এর বিপরীতে রয়েছে মুসলিম সভ্যতা। ইসলামের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে যার উৎপত্তি। ইসলাম এমন এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা মানুষকে উপহার দিয়েছে যেখানে জন্ম থেকে মৃত্য পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে করণীয়-বর্জনীয় কর্মসমূহ আলোচিত হয়েছে। এরপরেও বর্তমান প্রজন্মের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে আকড়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। তাই পাশ্চাত্য সভ্যতার ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্বরুপ তুলে ধরার পাশাপাশি গৌরবময় ইসলামি সভ্যতাকে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ খান রচনা করেছেন এক ভিন্নধর্মী বই। যার নাম "সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ"। . ➤ সার-সংক্ষেপ:- বইটিকে পাচটি পর্বে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন। এক্ষনে আমি বইয়ে দেয়া অধ্যায় গুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দিতে চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ। যাতে বইটি সম্পর্কে পাঠক কিছুটা হলেও ধারণা লাভ করতে পারেন। ১। প্রথম পর্ব:- এখানে লেখক শুরুতেই সভ্যতা কি সে সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও সভ্যতা ও সংস্কৃতি যে এক বিষয় নয় এসম্পর্কেও আলোচনা এসেছে। ২। দ্বিতীয় পর্ব:- এ অধ্যায়ে পশ্চিমা সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ও উপমহাদেশে ইসলামি সভ্যতার বিপর্যয় কিভাবে হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ৩। তৃতীয় পর্ব:- এখানে লেখক ইসলামি সভ্যতা ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরুপ তুলে ধরেছেন। ৪। চতুর্থ পর্ব:- এখানে পাশ্চাত্য সভ্যতার উৎপত্তি ও ধ্বংসলীলা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেই সাথে মুসলমানগণ কেন পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুসারী সে সম্পর্কেও আলোচনা এসেছে। ৫। পঞ্চম পর্ব:- এই অধ্যায়ে লেখক পাশ্চাত্য সংস্কৃতি ও ইসলামি সংস্কৃতি সম্পর্কে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। . ➤ বইটি কেন পড়বেন:- আপনি যদি পাশ্চাত্য সভ্যতা ও ইসলামি সভ্যতার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তাহলে বইটি আপনার জন্যই। এছাড়াও বইতে পাবেন পাশ্চাত্য সভ্যতা কিভাবে মুসলমানদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তরান্বিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আরো জানতে পারবেন ইসলামি সংস্কৃতি সম্পর্কে যা এমন এক সংস্কৃতি যা কোন দেশ, ভাষা কিংবা বর্ণে সীমাবদ্ধ নয়। . ➤ ব্যক্তিগত অনূভুতি:- ব্যক্তিগত অনূভুতি যদি বলতে হয় তাহলে বলবো আমার পড়া অন্যতম সেরা একটি বই হলো "সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ"। বইতে লেখক শুধুমাত্র পাশ্চাত্য সভ্যতার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই থামেনি, বরং এর বিপরীতে ইসলামি সভ্যতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। বইতে হয়তো খুব বেশি রেফারেন্স এর সমাহার নেই কিন্তু বইয়ের সহজ সরল বর্ণনা পড়ে যেকোনো পাঠক মুগ্ধ হবেন। তাই সকলের নিকট অনুরোধ বইটি একবার হলেও পড়ুন। সেই সাথে অন্যকেও পড়তে দিন। কেননা শুধুমাত্র আপনি একা নয় বস্তুবাদী পাশ্চাত্য সভ্যতার ভয়াল থাবায় জর্জরিত পুরো সমাজ। তাই এসবের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে রুখে দাড়ানোর চেষ্টা করুন। আর বেরিয়ে আসুন বস্তুবাদী সভ্যতার দাসত্বের শেকল থেকে।

প্রাককথন '''''''''''''''''''''''''''''''''''''' ইসলামী সভ্যতার মূল কথা হলো- "মানুষকে সৃষ্টির দাসত্ব হতে বের করে এনে মহান আল্লাহর পথ দেখানো। যাতে মানুষ ইহকাল এবং পরকাল উভয় স্থানেই সফলতা অর্জন করতে পারে।" আর বস্তুবাদী সভ্যতার সারকথা হলো- "দুনিয়াবী কামনা-বাসনায় মানুষকে স্রষ্টার থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে সৃষ্টির গোলামীতে নিয়োজিত করা। যাতে তার দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ই ধ্বংস হয়ে যায়।" . লেখক পরিচিতি '''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''' মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ খান। ইসলামী সাহিত্যের মাধ্যমে উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী একটি নাম। তরুণ লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশক। ব্যতিক্রমধর্মী কিছু কাজ করে ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন। তার লিখিত ও অনূদিত অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। . বইয়ের বিষয়বস্তু '''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''' "ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতি" এবং "বস্তুবাদী বা পাশ্চাত্য সভ্যতা ও সংস্কৃতি"। . বইয়ের আলোচনা ''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''' কথায় কথায় হয়ে যায় অনেক কথা। জানা হয় নানান বিষয়৷ সহজ সাবলীল ভাষায় লেখক অনেক কথায় বলে গেছেন এই বইয়ের পরতে পরতে। লেখক বইটি মোট পাঁচটি পর্বে আলোচনা করেছেন। যথা- . প্রথম পর্বঃ "সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচয়"। এই পর্বে লেখক- সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরেছেন। . দ্বিতীয় পর্বঃ "সভ্যতায় সভ্যতায় দ্বন্দ্ব"। এই পর্বে লেখক- দুটি সভ্যতায় দ্বন্দ্ব কিসে, পশ্চিমা সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু এবং উপমহাদেশে ইসলামী সভ্যতার বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। . তৃতীয় পর্বঃ "ইসলামী সভ্যতা ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরূপ"। এই পর্বে লেখক- ইসলামী সভ্যতা ও পাশ্চাত্য সভ্যতার স্বরূপ, নির্ভুল জ্ঞানের উৎস, গণতন্ত্র, তাদের এই অবাধ যৌনাচারের নমুনা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলাম, বস্তুবাদের বিশ্বাস, ডারউইনিজম, সমকামিতা, পাশ্চাত্য কি বিশ্বজনীন ও সার্বজনীন?, পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট, পাশ্চাত্য সভ্যতা মানবজাতিকে আর কী-ই বা দিতে পারবে, পাশ্চাত্যে লাগামহীন যৌন স্বাধীনতা ও নৈতিক অবক্ষয়, যৌনতার ব্যাপারে ইসলামের নীতিমালা, শালীনতা, ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে সারকথা টেনেছেন। . চতুর্থ পর্বঃ "সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ"। এই পর্বে লেখক- পাশ্চাত্য সভ্যতার উৎপত্তি, পাশ্চাত্য সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ, উন্নত বিশ্বের ব্যাধিগ্রস্থ জাতিসমূহ, মানবীয় আইন বনাম আল্লাহর আইন, মুসলমান কেন পাশ্চাত্যের অনুসারী এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার ধ্বংসলীলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। . পঞ্চম পর্বঃ "পাশ্চাত্য সংকৃতি ও ইসলামী সংস্কৃতি"। এই পর্বে লেখক- সংস্কৃতির পরিচয়, ইসলামী সংকৃতি, ইসলামী সংস্কৃতির ভিত্তি, ইসলামী সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভিত্তি, পাশ্চাত্য সংস্ক্রিতির ক্ষুদ্র রূপায়ণ, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য, পশ্চিমা সংস্কৃতির বিশেষ দিবস-রজনী, থার্টি ফাস্ট নাইট, যেসব কারণে ইসলামে থার্টি ফাস্ট নাইট নিষিদ্ধ, এপ্রিল ফুল এবং ভালোবাসা দিবস নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর লেখক তার বইয়ে শেষকথা লিখে বইটির ইতি টেনেছেন। . বইটি কেন পড়বেন '''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''' বইটি আপনার চলার পথে আলো ফেলবে। চোখ নয়, মনটাও আলোকিত হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। সুন্দর এক পৃথিবী গড়ে তোলা যে আমাদের পক্ষেই সম্ভব তা উপলব্ধি করতে পারবেন। . ভালো লাগা '''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''' বইয়ের নাম এবং প্রচ্ছদ দেখেই বইটি কেনা। কিন্তু সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে লেখকের চমৎকার লেখা। এত সুন্দর ভাবে বুঝিয়েছেন যে, যেকোনো পাঠক অল্পতেই সবকিছু বুঝে ফেলতে পারবেন। . শেষ কথা '''''''''''''''''''''''''''''''''''' বক্ষমান বইটি লেখক যে স্বপ্ন আর আশা নিয়ে পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন ও আশা পূরণ হোক এই প্রত্যাশা করি। এবং সেই সাথে এই বইয়ের সাথে জড়িত (লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, প্রকাশনী...) সকলকে আল্লাহ দ্বীনের খিদমতে নিঃস্বার্থভাবে কবুল করুন -এই দোয়াও করি। . একনজরে— বইয়ের নামঃ- সভ্যতার এপিঠ ওপিঠ লেখকঃ- মুহাম্মদ আবদুল্লাহ খান সম্পাদনাঃ- সালমান মোহাম্মদ প্রকাশনীঃ- মাকতাবাতু ইবরাহীম বইয়ের ধরণঃ- ইসলামি গবেষণা, সমালোচনা ও প্রবন্ধ মোট পৃষ্ঠাঃ- ১৬০ প্রচ্ছদ মূল্যঃ - ২২০ টাকা কভার: পেপারব্যক -------------------------
নতুন লেখক হিসেবে ভালই লিখেছে...অনেক বেশি সফলতা কামনা করছি....
ইসলামের সাথে বস্তুবাদী সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংঘাতটা অতি প্রকট এবং সাদাবিদ্যমান থাকবে, এটাই হল চরম সত্য। ইসলামী সভ্যতার মূল কথা হলো মানুষকে মাখলুক তথা সৃষ্টির দাসত্ব হতে বের করে এনে খালিক তথা স্রষ্টা— মহান আল্লাহর পথ দেখানো। যাতে মানুষের উভয় জীবন সাফল্যমন্ডিত হয়। আর বস্তুবাদী সভ্যতার সারকথা হলো- জাগতিক লোভ-লালসার বশে মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করা। অতঃপর সৃষ্টির দাসত্বের পোশাক পরিয়ে দেয়া। যাতে তার ইহকাল ও পরকাল- দুটোই বরবাদ হয়ে। বক্ষমান বইটিতে দুই সভ্যতার এই দুই চিত্র পাঠকের সামনে স্পষ্ট আকারে তুলে ধরতে চেয়েছেন লেখক আবদুল্লাহ খাঁন। যে স্বপ্ন আর আশা নিয়ে লেখক তার বইটি পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন ও আশা পূরণ হোক- এই প্রত্যাশা করি। আগামী দিনে মুসলিম উম্মাহকে "আত্মপরিচয়ের সংকট থেকে উত্তরণে" বইটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় আশা রাখছি।
Many Many Thanks to your great contributions to islam faith. May Allah bless you.























