রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা
বই কালেকশন

Buy রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা Online in Bangladesh

লেখক: তপন রায়চৌধুরী

5.00
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: তপন রায়চৌধুরী
  • Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
  • Isbn: 9788177563481
  • Number Of Pages: 165
  • Language: বাংলা
  • Edition: 9th Print, 2019
৳ 600৳ 600
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

“রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা” বইয়ের প্রথম ফ্ল্যাপের কথা: এ -যুগের বাংলা সাহিত্যে আনকোরা স্বাদ যোজনা করল। এই গ্রন্থ। তিরিশ আর চল্লিশের দশকে পূর্ববঙ্গের একটি অঞ্চল— বরিশাল জেলা—আর কলকাতার ছাত্রজীবন এর পটভূমি। কিন্তু বিষয়বস্তু মামুলী অর্থে স্মৃতিচারণ বা সমাজচিত্র নয়, আত্মচারিত তো নয়ই। রচনাটির কেন্দ্রে রয়েছে এক বিচিত্র কৌতুকবোধ—গালগল্প, পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যার অনবদ্য প্রকাশ। লেখায় বরিশালী সংস্কৃতি’র বলিষ্ঠ বিবরণও আছে, বহু ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলেরই “দেবগন্ধৰ্ববিনিন্দিতা’ ভাষায়। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে লেখক, কিন্তু সর্বত্র দিতে ভরসা করেননি। কারণ, তার ভাষায়, ‘সেন্সররা আপত্তি করতেন’। সংস্কৃত-ঘেঁষা গুরুগভীর শব্দের সঙ্গে বরিশালী ভাষা মিশিয়ে এক নতুন ও বিশেষভাবে স্বকীয় রচনাশৈলী সৃষ্টি করেছেন। এখানে সুরসিক লেখক। তার উপাদেয় ভঙ্গিতে একদিকে যেন হুতোমী, অন্যদিকে সৈয়দ মুজতবা আলীর অনন্য অনুরণন। শিক্ষিত, মার্জিত, বুদ্ধিদীপ্ত হাস্যরসে উজ্জ্বল চিরকালীন এ-গ্রন্থটিতে আমাদের সমাজ-জীবনের কিছু বিপর্যয়ের কথাও—যেমন, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দেশবিভাগ—এমনভাবে রয়েছে যে, আজকের জাতীয় সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে আরেক দিক থেকে তাৎপৰ্যময় হয়ে ওঠে এই বিবরণ। ১৯৯২ সালের শারদীয় ‘দেশ’-এ এ-লেখার কিছু অংশ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের সঙ্গে-সঙ্গেই সর্বস্তরের পাঠকমহলে পায় বিপুল সমাদর ও সংবর্ধনা। বর্তমান গ্ৰন্থ সেই রচনারই পরিমার্জিত-পরিবর্ধিত সংস্করণ। একটি সম্পূর্ণ নতুন পরিচ্ছেদ এখানে যোগ করা হয়েছে। গ্রন্থটির এই দ্বিতীয় সংস্করণে পরিশিষ্ট রূপে যোগ করা হল লেখকের আরও কিছু রচনা, যা লেখকের ভাষায় ‘সমগ্র অপসংস্কৃতি সংগ্ৰহ। দ্বিতীয় সংস্করণের নিবেদন: দ্বিতীয় সংস্করণ করার কারণ দুটি। প্রথম, রোমন্থনেরই সুরে ‘দেশ” এবং সানন্দা’য় চারটি ছ্যাবলা রচনা প্রকাশিত হয়। এ ধরণের অপসংস্কৃতি যাদের অপছন্দ নয়, ভাবলাম তাদের জন্য এ লেখাকটিও বইটার সঙ্গে জুড়ে দিই। গত ক’বছরে ইতিহাসভিত্তিক রচনা কিছু লিখেছি যা কেউ পড়েছে এমন প্রমাণ পাইনি। তবে ‘রোমন্থন” তথা ছ্যাবলা প্ৰবন্ধ পড়ে। কিন্তু অনেকেই মাঝে মাঝে পিঠ চাপড়ান। বলেন, “দাদা, আরও লিখুন।” আরও লেখা বোধ হয় হয়ে উঠবে না। যা লোকে পড়বে না, তারই আর কিছু লেখা বাকি আছে। তাই আমার “সমগ্র অপসংস্কৃতি সংগ্ৰহী” পাঠককে উপহার দিচ্ছি। দ্বিতীয় কারণ হল-“রোমস্থনের নায়ক বরিশাল তথা কীর্তিপাশা। আমার অনুজপ্রতিম মিহির সেনগুপ্ত বইটি পড়ে নাইয়া’ পত্রিকায় প্রচণ্ড বরিশালী ভাষায় ফাউল্কান অর্থাৎ উল্লাসে উল্লম্ফন করেন। তাঁর বক্তব্য আমার লেখাটি সম্বন্ধে বিশেষ ভাবে প্রাসঙ্গিক। পরে তিনি ‘সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম’ নামে অনেকাংশে বরিশালী জবানে বরিশাল-কীর্তিপাশা-রুণাসি নিয়ে একটি অসাধারণ গ্রন্থ রচনা করেন। বাঙালী মাত্রেই জানেন মানবজাতি দুই ভাগে বিভক্ত—Bengali আর non-Bengali তেমনি বরিশালবাসীর চোখে—জগত জুড়িয়া দুই জাতি আছেবরিশাইল্যা আর non-বরিশাইল্যা। তবে দ্বিতীয় জাতিটি ধর্তব্য নয়। NonBarisali পাঠকদের মিহিরের বইটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য নন্দন’ পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লিখি। যথাক্রমে মিহিরের এবং আমার এই দুটি লেখা বর্তমান সংস্করণে জুড়ে দেওয়া হল। আশা করি অপসংস্কৃতিপ্রিয় গৌড়জন নিরবধি না হলেও দু-চার মাস এই বন্দরস আনন্দে পান করবেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাগুলি লেখকের পত্নী এবং তস্যা ভগিনী অতসী। কপি করে দিয়ে বিশেষ উপকার করেছেন, অতএব তারা ধন্যবাদাহঁ। সূচীপত্র:* প্রারম্ভিক মুখব্যাদান ১১* কথারম্ভ ১৫* রোমাঞ্চক/রোমহর্ষক ইতিহাস ২৩* নিজ মৌজা কীর্তিপাশা।। ২৮* শাসন, শোষণ ও প্ৰজাপালন ৩৭* জনৈক ব্ৰহ্মদৈত্য ও তার সহগামী কয়েকটি ভূত ৪৬* শহর বইরশাল ৫৬* ক্রান্তিকাল ৮০ পরিশিষ্ট ১। রোমন্থন প্রসঙ্গে: ক) আহ্রদে ফাউকানো অথবা ভাটিপুত্রর পত্র-বাখোয়াজি মিহির সেনগুপ্ত ১০৩ খ) অচেনা পিতৃভূমি, অজানা আত্মজন ১৩২ ২। অপসংস্কৃতিমূলক রচনা: ক) অথ। কারি-সংবাদ তথা বালতি-তত্ত্ব ১৩৯ খ) বুঝভুম্বুল ১৪৬ গ) হৃদয়বিদারক ১৫৩ ঘ) পরীক্ষা-নিরীক্ষা ১৫৯

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

5.00
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
farhad ahmed
farhad ahmed ভেরিফাইড
16 Jan 2020

মাত্র দুইটা বই লিখেছেন বাংলায়! দু'টাই মুগ্ধ করেছে পাঠককে। সাধারণ বাঙালির দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে এই ইতিহাসবিদ লেখককে। মোগল ইতিহাস নিয়ে ইংরেজিতে লেখা তার ইতিহাসগ্রন্থের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কিন্তু এবার ঘরের ছেলে মনের কথাগুলো লিখলেন মাতৃভাষায়, একদম বৈঠকখানার আড্ডার ভঙ্গিতে। বইয়ের নামের সাথে জুড়ে দিলেন 'পরচরিতচর্চা'। লেখকের স্থির বিশ্বাস ছিল আর যাতেই অরুচি থাকুক পরচর্চায় বাঙালির অরুচি হবার সম্ভবনা নাই (যদিও আদতে এটি পরচর্চা নয়)। হয়েছেও তাই, বাঙালি পাঠক বইখানা সাগ্রহে গ্রহণ করেছেন। "রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা" তপন রায়চৌধুরীর প্রথম বাংলা বই। 'এলাম, দেখলাম, জয় করলাম....' রীতিতে প্রথম বইয়েই বাঙালি পাঠকের মন জয় করে নিতে পেরেছেন লেখক। বই মাত্রই তার একটা 'ক্যাটাগরি' থাকে। এটি যে ঠিক 'আত্মচরিত' নয় বইয়ের নামের সাথে 'পরচরিতচর্চা' শব্দটি যুক্ত করে প্রথমেই সে কথাটা পরিস্কার করেছেন লেখক। খানিকটা স্মৃতিচারণ, খানিকটা ইতিহাসকে এমন সরস সাহিত্যশৈলীতে প্রকাশ করেছেন যে পাঠক এটাকে কখনো কখনো রম্যরচনা ভেবেও ভুল করে থাকেন। তবে এটা রসহীন ইতিহাসও নয়, ভিত্তিহীন রম্যরচনাও নয়।এই সবকিছুর মিশ্রণে একটা অনন্য সাধারণ শিল্পকর্ম। পূর্বপুরুষের সংক্ষিপ্ত পরিচয় থেকে শুরু করে দেশ বিভাগের সময় অব্দি সময়কালের টুকরো টুকরো ঘটনা বইটির বিষয়বস্তু। ক্ষয়িষ্ণু জমিদার বাড়ির অন্দরে বেড়ে উঠা তপন বাবুর নানা পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা যেমন তুলে ধরেছেন৷ বলেছেন বরিশালের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথাও। বরিশালবাসীর পৌরুষ, তাদের স্বাধীনচেতা মনন, তাদের সংস্কৃতি- সংস্কার, অভাব-অভিযোগের কথা হাস্যরসের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তুলে ধরেছেন তৎকালীন রাজনীতি, বিশ্বযুদ্ধের অস্থিরতা, দুর্ভিক্ষ, ইংরেজ শাসন শোষণের চিত্র। এঁকেছেন সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ দুটি জাতির মাঝে আস্তে আস্তে চিড় ধরে সৃষ্টি হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার লোমহর্ষক চিত্র এবং তার অনিবার্য পরিণাম দেশভাগের চিত্র। "রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা" গ্রন্থের মূল আর্কষণ এর উপস্থাপন শৈলীতে। ইংরেজিতে 'wit and humour' বলতে যা বুঝায় এখানে তার স্বাদ পাওয়া যায়। শ্লেষ, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, রূপক, উপমার মাধ্যমে সাধারণ বিষয়গুলোকেই উপভোগ্য করে তুলেছেন লেখক। তৎসম শব্দের সাথে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে এক অপূর্ব শিল্পরস সৃষ্টি করেছেন লেখক। সমসাময়িক রাজনীতি, সাহিত্য, বিশেষত হিন্দু পুরাণ এবং ইতিহাসের যতসামান্য জ্ঞান থাকলে বইটা অধিক উপভোগ্য হয়ে উঠবে। তপন রায়চৌধুরী ৪৭ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে বরিশাল থেকে স্থায়ীভাবে চলে যান পশ্চিমবঙ্গে। জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছেন পাশ্চাত্যের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে। বর্ণিল জীবনের মাঝেও এই সফল মানুষটির জন্মভূমির প্রতি ছিল অকৃত্রিম টান। ষাট পেড়িয়ে "রোমন্থন..." লিখতে বসে এর প্রতিটি পাতায় হাস্যপরিহাসের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়েছেন সেই মমতার পরশ। আরেক বরিশালবাসী জীবনানন্দ দাশের মতো হয়তো বলেননি 'আবার আসিব ফিরে... '। তবে পরবর্তী বই "বাঙালনামা"র পাতায় পাতায় বরিশাল তথা বঙ্গভূমির প্রতি তার গভীর অনুরাগের চিহ্ন রেখে গেছেন।

Dr. Asif Shufian Arnab
Dr. Asif Shufian Arnab ভেরিফাইড
30 Dec 2019

লেখার ভঙ্গি অনেকটা মুজতবা আলীর মতই লেগেছে আমার কাছে। রম্য রচনায় এত চমৎকার ভঙ্গি সচরাচর দেখা যায় না। আফসোস লেখক লিখেছেন খুব অল্প। ইংরেজি বই আছে কিছু কিন্তু তা ইতিহাসে বই। এই বই প্রকাশের পর আরেকটি বৃহৎ বই প্রকাশ হয়েছে, নাম বাঙ্গালনামা। সেটাও আত্মজীবনী। তা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম। আর সকলকে আমন্ত্রণ জানালাম অদ্ভুত সুন্দর এই রম্য আত্মজীবনী পড়ে দেখার জন্য।

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)