

Buy কুরবানি নিয়ে যত প্রশ্ন Online in Bangladesh
লেখক: ডা. শামসুল আরেফীন
- Author: ডা. শামসুল আরেফীন
- Publisher: চেতনা প্রকাশন
- Number Of Pages: 120
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ধর্ম বলবে মমতার কথা, দয়ার কথা। এ কেমন ধর্ম, যা প্রাণ হত্যার কথা বলে? ঠিক আছে, প্রাণী হত্যা করা যাবে; কিন্তু প্রাণ হত্যা করে উৎসব কেন! কারও জীবন কেড়ে নিয়ে উৎসব — এটা কেমন নৈতিকতা! ইসলাম কত নির্মম ধর্ম, কত অমানবিক! মানবিক মানে 'যা মানুষের মানায়'। অমানবিক মানে 'মানুষের যা মানায় না', 'যা মানুষের করা উচিত না'। তার মানে, প্রাণীকে হত্যা করা মানুষের মানায় না, মানুষ হিসেবে এটা করা উচিত না। এসব প্রশ্ন যারা করে তাদের মূল উদ্দেশ্য ইসলামের বিরোধিতা করা। এদের নিজেদের কোনো স্থিরতা নেই। এরা দাবি করে নিজেরা বিবিজ্ঞাননমননস্ক, অথচ এদের উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে গেলে বিবিজ্ঞানকেও আর গুণবে না।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
সেরা।

এক কথায়, অসাধারণ। কোরবানি নিয়ে আপত্তি তোলা সকল প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এই বইয়ে। অতএব, বইটি পড়লে উপকৃত হবেন, ইনশাআল্লাহ।
কুরবানির আগমনী বার্তা নিয়ে আসে এক অদ্ভুত দ্বিচারিতা: বছরের পর বছর ধরে যাঁরা গরুর রেজালা, বিফ স্টেক, কাবাব আর রকমারি মাংসের ভোজের উচ্ছ্বাসে নিজেদের সামাজিক মাধ্যম ভরিয়ে রাখেন, কুরবানির সময় এলেই হঠাৎ তাঁদের হৃদয়ে প্রবল এক ‘মৌসুমী’ পশুপ্রেমের ঢেউ আছড়ে পড়ে। এই সময়ে তাঁরাই হয়ে ওঠেন ধর্ম, মানবতা আর নৈতিকতার স্বঘোষিত ‘মসিহা’ ‘চ্যাম্পিয়ন’। সদম্ভে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন সমাজের দিকে— যেন প্রাণীহত্যা শুধুমাত্র অমানবিকই নয়, বরং ধর্মান্ধতার চূড়ান্ত নিদর্শন! কুরবানি যেন এক প্রাচীন বর্বরতা, ধর্ম যেন এক নির্মম প্রতিষ্ঠান, আর ঈমান যেন এক বোধহীন আনুগত্য। "প্রাণী হত্যা করে কি উৎসব হয়?", "ধর্ম কি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?", "শিশুদের সামনে কুরবানির দৃশ্য তাদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না?", "এ কেমন ধর্ম যা প্রাণহত্যাকে উৎসবে পরিণত করে?"— এমন আরও কত প্রশ্ন! এ ধরনের কথাবার্তায় অনেক সরলমনা, বিশ্বাসী মুসলমান বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তাদের মনে সংশয় জাগে—আসলেই হয়তো বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখা দরকার। কারণ 'মানবতা'—শব্দটি শুনতে ভারী মননশীল, মায়াময়, আর আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ। এর উচ্চারণও এমনভাবে হয়, যেন এটি সব যুক্তি, সব ধর্মীয় চেতনা আর সব বোধের ঊর্ধ্বে এক পরম সত্য! তাই 'মানবতা' শব্দটি যখন বারবার সামনে আসে, তখন দ্বিধা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তথাকথিত 'মানবতা' আসলে কার সংজ্ঞায় নির্মিত? কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর পরিসর নির্ধারিত হয়, আর কে ঠিক করেন এর নৈতিক সীমারেখা? ইসলাম কি দয়া, মমতা আর করুণা শেখায় না? করুণা, সহমর্মিতা কি ইসলামি জীবনবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়? অবশ্যই শেখায়। তবে সেই দয়া বা করুণা কেবল আবেগনির্ভর কল্পনা বা নিছক ভাবালুতা নয়—তা নির্মিত আল্লাহর বিধানের আলোয়, যার প্রতিটি পরতেই রয়েছে অপরিমেয় ভারসাম্য, চিরন্তন প্রজ্ঞা এবং সুগভীর তাৎপর্য। কুরবানি নিছকই প্রাণী হত্যা নয়, বরং এটি আত্মত্যাগের এক সুমহান প্রতীক—যার রয়েছে গভীর আত্মিক, ঐতিহাসিক এবং সামাজিক তাৎপর্য। যারা প্রশ্ন তোলে—“প্রাণী হত্যা করে উৎসব কেন?”, তাদের জেনে রাখা উচিত— ইসলাম কুরবানির মাধ্যমে যে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও ঈমানের শিক্ষা দেয়, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নৈতিক অধ্যায়। এটি ত্যাগের এক মহৎ মহড়া, অন্তরের পরিশুদ্ধি ও জাগতিক মোহমুক্তির অনুশীলন। রক্তের নয়, অন্তরের পরিবর্তনের উৎসব। “আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই পৌঁছে না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ্জ, ২২:৩৭) এই প্রেক্ষাপটে ডা. শামসুল আরেফীন ভাইয়ের ‘কুরবানি নিয়ে যত প্রশ্ন’ বইটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন—কীভাবে আবেগ, অপূর্ণ জ্ঞান আর কথিত মানবতার মোড়কে কুরবানির মতো মহান ইবাদতের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়। আর সেইসব প্রশ্নের জবাব তিনি দিয়েছেন যুক্তি, দলিল ও প্রেক্ষাপটভিত্তিক বিশ্লেষণের আলোকে—গভীরভাবে, দায়িত্বশীলভাবে। বইটি শুধু প্রশ্নের জবাব দেয় না, বরং পাঠককে শেখায় কিভাবে মনে-প্রাণে আত্মসচেতন এক মুসলমান হিসেবে কুরবানিকে উপলব্ধি করতে হয়। কীভাবে কুরবানি শুধুই পশু জবাই নয়, বরং আত্মিক বিকাশের এক পরিশুদ্ধ পথ।

কুরবানি নিয়ে নানা ধরনের প্রাসঙ্গিক জিজ্ঞাসা অনেকেরই থাকে। বইটা থেকে সে সম্পর্কে ভালো মানের বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে গবেষণার ভিত্তিতে উত্তর পাওয়া যাবে। আমার কাছে কম কথায় সুন্দর ভাবে প্রাসঙ্গিক উত্তর ও আলোচনা মনে হয়েছে।
☞ যারা নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে চরম গরুখোর দাবি করে, বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির সাথে গরুর গোস্ত ছাড়া চলেই না তারা যখন কুরবানীর আগে গরুর ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়, - আহ! আমাদের কান্না কি তোমরা শুনতে পাও❓ ☞ আহ! তোমরা কি অমানবিক ❗নিরীহ প্রাণীর জীবন নিচ্ছ। -অথচ ফেসবুকে এই পোষ্ট দিয়েই বন্ধুদের সাথে বারবিকিউ, চিকেন রোস্ট, শিক কাবাব খেয়ে দিব্যি আড্ডা দিচ্ছে। ✔ আর এ সকল ভন্ডদের জন্যই শক্তি ভাইয়ের এই বইটি তাদের জন্য - "যেমন কুকুর তেমন মুগুর" হিসেবে।























