

Buy প্রকৃত আলিমের সন্ধানে Online in Bangladesh
লেখক: ড. আহমদ আলী
- Author: ড. আহমদ আলী
- Publisher: গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
- Isbn: 9789849633787
- Number Of Pages: 208
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
আলিমগণ হলেন আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। পৃথিবীতে তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ সত্যের দিশা পায়, আলোর পথ লাভ করে। তাঁরা অদৃশ্য হয়ে গেলে কিংবা কোথাও আচ্ছাদিত হয়ে পড়লে নিকষকালো অন্ধকারে ডুবে যায় এই পৃথিবী। গোটা মানবসমাজ হয়ে পড়ে গভীর আঁধারে দিশেহারা। আলিমদের মর্যাদা নক্ষত্রতুল্য হলেও সর্বসাধারণের পক্ষে কে আলিমে রব্বানি, কে আলিমে সূ; কে হকপন্থি আর কে বাতিল; কে সত্যিকার আলিম আর কে ভণ্ড—তা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রকৃত আলিম বলতে কাদের বোঝানো হয়, তাঁদের যোগ্যতা, গুণাবলি ও দায়িত্বসমূহ কী প্রভৃতি বিষয়ের ওপর তাত্ত্বিক ও বাস্তবিক আলোচনা আমরা এই গ্রন্থে দেখতে পাব।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
📌গ্রন্থ পর্যালোচনা বই : প্রকৃত আলিমের সন্ধানে লেখক : ড. আহমদ আলী নির্ধারিত মূল্য : ২৫০ টাকা মাত্র পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২০৭ ✍️ গ্রন্থ পর্যালোচক : 𝐑𝐚𝐬𝐡𝐞𝐝 𝐌𝐨𝐡𝐚𝐦𝐦𝐚𝐝 𝐙𝐢𝐚 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা : উম্মাহর দ্বীনি তাহজীব ও তামাদ্দুন রক্ষার প্রধান দায়িত্ব আলিমগণের কাধেই ন্যস্ত। এ ক্ষেত্রে অবহেলা বা বিমুখতা প্রদর্শন মহান আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি এবং দুনিয়াতে বিপর্যয় নেমে আসার প্রত্যক্ষ কারণ। বনী ইসরাইলের ইহুদী আলিমগণের ভয়াবহ পরিণতির কুরআনী সাক্ষ্য এর জ্বলন্ত প্রমান। ইসলামে আলিমগণের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে ইতোপূর্বে বিভিন্ন ভাষায় বহু বইপুস্তক রচিত হয়েছে। বিশেষকরে আরবী ভাষায় এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে বাংলাভাষায় যথেষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ক মানসম্মত গ্রন্থের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। আমার জানামতে, ড. আহমদ আলীর এ গ্রন্থটি আলিমগণের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে চমৎকার একটি তথ্যসমৃদ্ধ সংযোজন, যা আলোচ্য ক্ষেত্রে পথিকৃৎ - এর মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। 📗গ্রন্থ পরিচিতি : আমাদের এ দ্বীন শাশ্বত ও চিরনির্ভুল। প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবা' কিরামের দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণের পর আজ অবধি যুগে যুগে সত্যপন্থী উলামারাই এ দ্বীনের ধারকবাহকের গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছেন। মূলত মহান আল্লাহর বিশেষ একটি সুন্নাহ এই যে, তিনি তাঁর দ্বীনের সংরক্ষণের জন্য মানুষের মধ্য থেকে যোগ্যতম ব্যক্তি নির্বাচিত করেন সময়ের প্রয়োজনে। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী আলিমগণের সামগ্রিক পরিচিতি ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদভাবে আলোকপাত করেছে। আলিমের পরিচয়, আলিমের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও গুণাবলি, আলিমের প্রকারভেদ, আমল ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলিমের শ্রেণিভেদ, উম্মাহর প্রতি আলিমে রব্বানির দায়িত্ব - কর্তব্য, আলিমের সূ এর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যাবলি, আলিমে সূ এর ভয়াবহতা এবং আলিমে সূ এর পরিণতি ও শাস্তি ইত্যাদি শিরোনামের অধীনে লেখক বিস্তৃত দালিলিক আলোচনার প্রয়াস পেয়েছেন। সমন্বিত তথ্যের সমাহার : কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের চিরসত্য এ দ্বীনের যেকোন আহকাম বিশ্লেষণের প্রধান ও মৌলিক দুটি উৎস। লেখক এ গ্রন্থটিতে কুরআন সুন্নাহ থেকেই মৌলিক সকল উদ্ধৃতি সংগ্রহ করে নিজ বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে উপসংহার টানার চেষ্টা করেছেন। ফলশ্রুতিতে গ্রন্থের প্রতিটি মুখ্য আলোচনাই হয়ে উঠেছে দালিলিকভাবে মজবুত, শক্তিশালী ও জীবন্ত। ৩০০ এরো অধিক রেফারেন্সের বেশীরভাগই কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত। প্রসঙ্গক্রমে কুরআনের বহু আয়াতের চমৎকার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। পাশাপাশি লেখক আমাদের পূর্বসূরি সত্যান্বেষী আলিমগণের প্রাসঙ্গিক কিছু বক্তব্যও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে উল্লেখ করেছেন। যা বিষয়বস্তুকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে। শ্রেণীবিভাগ : সম্মানিত লেখক গ্রন্থের আলোচনায় আলিমগণের মধ্যে যে দুইটি শ্রেণি ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই প্রচলিত ছিলো, সেই আলিমে রব্বানি ও আলিমে সূ - এ শ্রেণীদ্বয়ের উপর ব্যাপক তথ্যবহুল বর্ণনা এনেছেন। মূলত আলিমে রব্বানি এবং আলিমে সূ - এ পরিভাষাদ্বয় কুরআন ও হাদীসেই বর্নিত হয়েছে এমন পরিভাষা। এগুলো লেখকের কোন নিজস্ব আবিষ্কার নয়। এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট নস বা উদ্ধৃতি বিদ্যমান। তাই এ শ্রেণিবিন্যাসের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের যৌক্তিক কোন সুযোগ নাই। ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি : আলিমগণের সার্বিক দায়িত্বের মধ্যে ফতোয়া প্রদান, ওয়াজ, দা'ওয়াহ, ইরশাদ, তাবলীগ ইত্যাদি কাজের বিনিময় নেয়া না নেয়া সম্পর্কে বর্তমানে আমাদের সমাজে নানামাত্রিক বিতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জায়িজ নাজায়িজের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই প্রান্তিকতাবাদী। তাই বিনিময় গ্রহণের বিষয়ে লেখক প্রয়োজনীয় ফিকহী আলোচনার অবতারণা করেছেন। এ বিষয়ে ফক্বিহগণের অভিমতের বিশ্লেষণ করে নিজ দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন। যা গ্রন্থের বিষয়বস্তুকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। বৈচিত্র্যময় উদ্ধৃতির উপস্থিতি : বিজ্ঞ লেখক এ রচনায় কুরআন - সুন্নাহর পাশাপাশি প্রয়োজনমত সালফে সালিহীনের বিভিন্ন বক্তব্যেরও প্রামাণিক বিশ্লেষণ করেছেন। তাই এখানে আমরা যেমন দেখতে পাই ইমাম চতুষ্টয়ের বক্তব্য তেমনি দেখতে পাই আবু হামিদ গাজালীর ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, জাহাবীর সিয়ারু 'আলামিন নুবালা, খতীবে বাগদাদির আল ফকিহ ওয়া মুতাফাক্কিহ, শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়ার আল ইস্তিকামাত ও ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকিম, ইবনুল কাইয়্যিমের আল ফাওয়ায়িদ ও মিফতাহু দারিস সা'আদাহ, ইমাম নববীর আদাবুল ফাতওয়া, আল মাওয়ার্দীর আদাবুদ্দুনইয়া ওয়াদ দ্বীন, আজুররীর আখলাকুল উলামা, ইবনু কাসিরের তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, সাদির তাইসিরুল কারিমীর রাহমান প্রভৃতি বিখ্যাত কিতাবের নানা বক্তব্যও। অন্যদিকে কিছু কিছু স্থানে কবিতারও বিভিন্ন পঙক্তি আনা হয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম শাফিয়ার 'দিওয়ান' এবং মিসরের নীলনদের কবি খ্যাত হাফিজ ইবরাহিমের 'দিওয়ানু হাফিজ' থেকেও কতিপয় পঙক্তি লেখক উল্লেখ করেছেন। ফলে উদ্ধৃতির সমাবেশে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার বৈচিত্র্যপূর্ণ অবস্থান। লেখকের দৃষ্টিতে বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আলিম : বর্তমান দুনিয়ায় বিশেষজ্ঞ আলিমের উপস্থিতি অবশ্যই রয়েছে। যদিও তা কম। মুজাতিহদ পর্যায়ের আলিমের মধ্যে পাকিস্তানের জাস্টিস মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী ( জন্ম - ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ) ও শায়খ ড. ইউসুফ আল কারজাভি ( জন্ম - ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ) এর নাম উল্লেখ করা যায়। এ সম্পর্কে লেখক গ্রন্থের ৩৭ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, "বিশেষজ্ঞ আলিম বলতে গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী আলিমগণকে বোঝানো হয়, যারা ইজতিহাদের মর্যাদায় উন্নীত না হলেও শরিয়াহ সংশ্লিষ্ট সকল জ্ঞান বিজ্ঞান পূর্ণমাত্রায় অর্জন করেছেন এবং পঠন-পাঠন, লিখন ও গবেষণাকর্মে দীর্ঘকাল নিয়োজিত থেকে সকল ক্ষেত্রে শাস্ত্রীয় পরিপকৃতা অর্জন করেছেন। সেইসঙ্গে পূর্বসূরি মুজতাহিদগণের অনুসৃত ইজতিহাদের পদ্ধতির সাথেও পরিচিত হওয়ার কারণে তাঁদের সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের অন্তর্নিহিত ভাব ও তাৎপর্য অনুধাবনের যোগ্যতাও অর্জন করেছেন। এই শ্রেণির আলিমগণকে যদিও সামগ্রিক বিবেচনায় মুজতাহিদরূপে গণ্য করা হয় না, তবুও তাঁরা অন্যান্য আলিমের তুলনায় কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশেষ মর্যাদা লাভ করবেন। যেমন ১. আহকাম ও মাসায়িলের পাশাপাশি দলিল-প্রমাণাদি সম্পর্কেও তাঁদের মৌলিক জ্ঞান থাকবে। ২. তাঁরা নিজ নিজ মাজহাবের মুফতির মর্যাদা লাভ করবেন এবং কোনো বিষয়ে নিজের মাজহাবের মধ্যে একাধিক অভিমত থাকলে যুগের দাবি ও সময়ের চাহিদা মোতাবেক যেকোনো একটি বেছে নিয়ে ফতোয়া দিতে পারবেন। ৩. নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলির ক্ষেত্রে মাজহাবের নির্ধারিত উসুল ও মূলনীতিসমূহের আলোকে সমাধান পেশ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, বর্তমান ইলমি জগতে সর্বত্র এ জাতীয় আলিম খুঁজে পাওয়া কঠিন। এদের সংখ্যা অতি অল্প। আমার জানামতে, বর্তমান যুগে এ জাতীয় আলিমগণের মধ্যে ড. ইউসুফ আল কারজাভি ও মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানী (হাফিজাহুমাল্লাহ) প্রমুখের নাম বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আমার পরামর্শ : গার্ডিয়ান কর্তৃক বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক আরবী শব্দ বিকৃত হয়ে গেছে। গার্ডিয়ান কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার বিশেষ কয়েকটি পরামর্শ হলো ; (১) আরবী শব্দাবলির প্রতিবর্ণায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহ্য মেনে চলা। এক্ষেত্রে পাঠকবর্গের উপকারিতাকে মূল উদ্দেশ্য বিবেচ্য করতে হবে। (২). কুরআনের আয়াত, হাদীস ও আরবী গদ্য - পদ্যের টেক্সটগুলো লেখা ও হরকত প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো সাবধানতা অবলম্বন করা। কারণ আরবী ব্যাকরণে অর্থের বিবেচনায় হরকতের একটি অবিভাজ্য ও অবিচ্ছেদ্য গুরুত্ব রয়েছে। (৩) গ্রন্থের কিছু কিছু জায়গায় মুদ্রণপ্রমাদ দৃষ্টির গোচরে পড়ে, যা পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন করা দরকার। পরিশেষে মূল্যবান ও সময়োপযোগী এ রচনাটির লেখক, প্রকাশক, নিরীক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে মহান আল্লাহ উত্তম বিনিময় দান করুন, এ দোয়া রইলো। গার্ডিয়ান পাবলিকেশনকে আল্লাহ যেন কবুল করেন।
আহমদ আলী স্যার ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা করেন। ভালো একটি বই। তবে এই বইটি আম পাবলিকদের কতটা বুঝে আসবে তা জানি না, তবে স্কলারদের এই বইটি পড়া উচিত। আলিম, ইমাম এবং ওয়াজিনদের এই বইটি অবশ্যই পড়া উচিত।























