

Buy প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প Online in Bangladesh
লেখক: প্রেমেন্দ্র মিত্র
- Author: প্রেমেন্দ্র মিত্র
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129520548
- Number Of Pages: 239
- Language: বাংলা
- Edition: 7th Edition, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প” বইয়ের সূচীপত্র:* শুধু কেরানী* পুন্নাম* ভবিষ্যতের ভার* হয়তো* সাগরসংগম* মৃত্তিকা* অনাবশ্যক* মহানগর* জনৈক কাপুরুষের কাহিনী* কুয়াশায়* সংসার সীমান্তে* পুনর্মিলন* ভস্মশেষ* শৃঙ্খল* স্টোভ* চিরদিনের ইতিহাস* তেলেনাপোতা আবিষ্কার* ময়ুরাক্ষী* লেভেল ক্রসিং* মল্লিকা* রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন* গ্রন্থপরিচয়
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বইয়ের নাম: প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প ধরণ: ছোটগল্প সংকলন সম্পাদনা: সৌরীন ভট্টাচার্য প্রকাশক: দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা প্রকাশকাল: মে, ২০০১ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৪০ মুদ্রিত মূল্য: ১০০ টাকা (বর্তমান মূল্য বেশি হবে) রিভিউ লেখকের রেটিং: ৪.৯/৫ ❐প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পর্কে কিছু কথা: কি খেয়াল চাপলো মাথায় যে ‘যত খুশি লিখে যাব কিন্তু ছাপাবো না’- এমন এক কঠিন সংকল্প করে বসেছিলেন প্রেমেন্দ্র। নেহায়েত নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখার বাসনা জাগলেও চল্লিশের আগে কোনোমতেই তাকে প্রশ্রয় দেয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তাঁর এ সংকল্প মাঝপথে এসেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, বিশে পা দিয়েই প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় প্রথম গল্প। এই সংকল্প ভাঙার পেছনের গল্পটি আরও চমকপ্রদ। প্রেমেন্দ্র তখন ঢাকার জগন্নাথ কলেজের বিজ্ঞানের ছাত্র। কোনো এক ছুটিতে কয়েকদিনের জন্য কলকাতায় এসে একটি মেসে আশ্রয় নেন তিনি। ছুটির দিন হওয়ায় মোটামুটি ফাঁকাই ছিল মেস। প্রেমেন্দ্র যখন নিজের ঘরে শুয়ে পত্রিকা পড়ছিলেন, তখনই ঘরের কুলঙ্গি (খোপ) থেকে একটি পোস্টকার্ড খসে পড়ে মেঝেতে। পোস্টকার্ডটি তুলে নিয়ে পড়তে শুরু করেন তিনি। আঁকাবাঁকা হাতের লেখায় ভুল বানানে একটি গ্রাম্য বধূ সে পোস্টকার্ডে কলকাতার অফিসে চাকরি করতে যাওয়া তার স্বামীকে গ্রামের ঘর সংসারের অভাব অভিযোগ মেশানো নানা সমস্যার সঙ্গে নিজের অগোচরে যে মধুর একটি প্রণয় ব্যাকুলতার আভাস দিয়েছে তা প্রেমেন্দ্রকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সে রাতেই তিনি দুটি গল্প লিখে ফেলেন এবং প্রবাসী পত্রিকায় ডাকযোগে পাঠিয়ে দেন। দুটি গল্পই প্রবাসীতে ছাপা হয়; একটি ‘শুধু কেরানী’, অপরটি ‘গোপনচারিণী’। একটি পুরোনো আধময়লা পোস্টকার্ডের দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে গল্প লেখার মত যে দুঃসাহসিক কাজ সেদিন মাথাভরা চুলওয়ালা বুদ্ধিদীপ্ত চোখের সুদর্শন যুবকটি করেছিলেন, তাতে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ❏বই নিয়ে বিস্তারিত: কলকাতার দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত এই সংস্করণটিতে প্রেমেন্দ্র মিত্রের একুশটি ছোটগল্প স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে বিখ্যাত ঘনাদা সিরিজেরও একটি গল্প আছে। অধিকাংশ গল্পই বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের সাংসারিক, আত্নিক বা সামাজিক জটিলতা নিয়ে। তবে সেগুলোকে মোটেই জটিল করে লেখেননি প্রেমেন্দ্র, তাঁর সমসাময়িকদের অধিকাংশের রচনা যখন সংলাপ অতিকথন দোষে দুষ্ট বলে পরিগণিত ছিল, তখনও তিনি নির্বিকারভাবে ছোট অথচ তীব্র সংলাপের মাধ্যমে একের পর এক গল্প রচনা করে গিয়েছেন। দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা তাঁর প্রিয় বিষয়। এই একই থিম বারবার ফিরে এসেছে বিভিন্ন গল্পে। প্রেমেন্দ্র মিত্র কেন বাংলা সাহিত্যে অনন্য? এর উত্তর গল্পগুলোর মধ্যেই পাবেন পাঠক। দুঃখবাদ (sadism) দ্বারা প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রভাবিত ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়, এবং সেই কারণেই বোধহয় তাঁর লেখায় এক ধরণের অন্ধকার খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু তা অযাচিত নয়। আর ছোটগল্পের কথাই যখন হচ্ছে, তখন রবীন্দ্রনাথের ওই লাইনটি নিশ্চয়ই আপনার মনে বাজছে- শেষ হয়েও হইলো না শেষ। কিন্তু ঠিক এই কথাটিই প্রেমেন্দ্রর গল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এককথায়, ছোট পরিসরের পূর্ণতা বলতে যা বোঝায় প্রেমেন্দ্রর ছোটগল্পগুলো ঠিক তাইই। তবে অতৃপ্তি যে একেবারেই থাকবে না তাও নয়, একটি স্যাড এন্ডিং এর অতৃপ্তি অনেককেই পীড়া দেবে। বর্ণনাভঙ্গির সাবলীলতা তো রয়েছেই, উপরন্তু কিছু গল্পের বাচনশৈলীর অভিনবত্ব প্রেমেন্দ্র মিত্রের ট্রেডমার্ক হয়ে আছে আজও। এক বিশেষ পেশার মানুষদের জীবন সম্পর্কেও বিষদ জানাশোনা ছিল প্রেমেন্দ্র মিত্রের। পতিতালয়ের চারদেয়ালের আড়ালের অন্ধকারকে তিনি যেভাবে তাঁর একাধিক গল্পে তুলে ধরেছেন তাতে মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় লেখকের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল পতিতাদের। সমাজ বিচ্ছিন্ন কোনো সম্প্রদায় নয়, বরং সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ হিসেবেই পতিতাদের বিচরণ করতে দেখা গেছে প্রেমেন্দ্রর লেখনীতে। সত্যিকারের দায়বদ্ধতা থেকেই লিখতেন প্রেমেন্দ্র। যে সে দায় নয়, একেবারে প্রাণের দায়। প্রথম জীবনের সেই চল্লিশ বছরের আগে লেখা না ছাপানোর সংকল্পের রেশ ধরেই ১৯৪৪ সালে, অর্থাৎ ঠিক চল্লিশ বছর বয়সেই ‘কেন লিখি’র জবাবদিহি করতে গিয়ে প্রেমেন্দ্র বলেছিলেন- ‘যত দিন যাচ্ছে ততই বুঝতে পারছি সব কিছু ছেড়ে কলম ধরা যায় না, কলম সত্যিকার ধরতে হলে জীবনের কোনো কিছুকেই ছাড়া যায় না।’ জীবনের কোনো কিছুকেই না ছেড়ে ছোট অবয়বে তাকে প্রকাশ করার ক্ষমতাই মূলত প্রেমেন্দ্র মিত্রকে বাংলা সাহিত্যে অমর করে রেখেছে। পাঠক উপযোগিতার ব্যাপারে বলতে গেলে অল্প ধৈর্য্যের পাঠকদের জন্য আদর্শ বই এটি। তবে গল্পগুলোর নিজস্ব একটি ঢং রয়েছে- অধিকাংশ গল্পের একটি অন্ধকার পরিণতিতে ঘনীভূত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কাহিনীর বাঁক খুব সামান্য, গল্পের শুরু ধীরগতিতে নিশ্চিত এক অন্ধকার শেষের দিকে ধাবিত। পাঠক এই বিশেষ ঢংটির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে না পারলে গল্পগুলো নিরস মনে হবে। আর আঠারোর নিচের কাউকে এই বইটি পড়ার জন্য উৎসাহিত করব না, কারণ মানব সম্পর্কের জটিল দিকগুলোকে পড়তে গিয়ে ভুল বুঝলে ব্যক্তিজীবনে তার গভীর নেতিবাচক ছাপ পড়ার আশংকা থেকে যায়। যেটুকু বললাম, সেটুকু খুবই সামান্য। পাঠকের উপলব্ধির ওপরই বড় অংশটি ছেড়ে দিলাম। (সৈয়দ আসির হা-মীম বৃন্ত)





















