পলাশির অজানা কাহিনী
বই কালেকশন

Buy পলাশির অজানা কাহিনী Online in Bangladesh

লেখক: সুশীল চৌধুরী

4.75
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: সুশীল চৌধুরী
  • Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
  • Isbn: 8177563807
  • Number Of Pages: 192
  • Language: বাংলা
  • Edition: 5th Printed, 2013
৳ 800৳ 800
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

ফ্ল্যাপে লিখা কথা পলাশির ঘটনাবলী ও যুদ্ধ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এমন একটি বদ্ধমূল ধারণা প্রচলিত আছে যে, সিরাজদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করবার জন্য মীরজাফর, জগৎশেঠ প্রমুখ তখনকার কয়েকজন বণিক-ব্যাংকার-অভিজাত মানুষ চক্রান্ত সাজিয়েছিলেন। পেছন থেকে তাঁদের সাহায্য করেছিল ইংরেজরা। পলাশির পেছনে ইংরেজদের কোনও ‘পূর্বপরিকল্পনা’ ছিল না, তাদের বাংলাবিজয় নেহাতই ‘আকস্মি ‘ ঘটনা। এমনকী, অনেক ঐতিহাসিক এও মনে করেন, বাংলার ‘আভ্যন্তরীণ সংকট’ ই ইংরেজদের বাংলায় ডেকে আনে। এই গ্রন্থ কিন্তু ঠিক এর উল্টো কথাই বলেছে। পলাশির ষড়যন্ত্র ও প্রাক্‌-পলাশি ঘটনাবলীর বিশদ ও সূক্ষ্ণ বিশ্লেষণ করে এবং ডাচ ও ইংরেজ কোম্পানির নথিপত্র, কোম্পানির কর্মচারীদের লেখা থেকে অসংখ্য তথ্য সংগ্রহ করে লেখক সন্দেহাতীতভাবে দেখিয়েছেন যে, পলাশি চক্রান্তের মূল নায়ক ইংরেজরাই। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মদত ছাড়া ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধ কোনওভাবেই সম্ভব হত না। তারাই একদিকে ভারতীয়দের নানা প্রভোলণ ও প্রচ্ছন্ন ভয় দেখিয়ে, অন্যদিকে কাকুতি-মিনতি করে অন্যদের নিজস্ব চতুর ‘পরিকল্পনা’য় সামিল করিয়েছিল। সেই সময় ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য নিদারুণ সংকটে পড়ে যাওয়ায়, কোম্পানির কর্মচারীদের কাছে ছলে-বলে কৌশলে বঙ্গবিজয় ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। পলাশির যুদ্ধ তারই পরিণতি। এই গ্রন্থের লেখক পলাশি নিয়ে বহু ধারণাকে আসার প্রমাণিত করেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন আবিষ্কৃত নতুন তথ্য ও সত্যের। সূচিপত্র* ভূমিকা* প্রাক্‌-পলাশি বাংলার রূপরেখা* সিরাজ চরিত্র কথা* ইউরোপীয় কোম্পানি ও এশীয় বণিক সম্প্রদায়* সিরাজদ্দৌল্লা ও ইংরেজ কোম্পানির সংঘাত* পলাশি বিপ্লবের অনিবার্যতা* ষড়যন্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ* চক্রান্তের মূল নায়করা* পলাশি অভিমুখে : ইংরেজ পরিকল্পনা* পলাশির পরিণাম : ‍সুদূরপ্রসারী প্রভাব* উপসংহার* নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি* নির্ঘণ্ট

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.75
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
আওরঙ্গজেব চৌধুরী রিফাত
আওরঙ্গজেব চৌধুরী রিফাত ভেরিফাইড
08 May 2020

#বুক_রিভিউঃ একটা কথা প্রচলিত আছে যে ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের দ্বারা লিখিত হয়। এজন্যই ইংরেজ শাসনামলে লিখিত ইতিহাসগ্রন্থগুলো পড়লে আপনি দেখবেন নবাব সিরাজুদ্দৌলা ছিলেন একজন নারীলোভী, লম্পট এবং মানুষরুপী এক নরপিশাচ। তিনি ছিলেন দয়ামায়াহীন, নির্দয়, নৈতিকতাহীন এক মুর্তিমান শয়তান। তিনি নাকি গর্ভবতী নারীর পেট চিরে সন্তান বের করে আকাশে ছুড়ে দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ পেতেন! একবার নাকি তার নির্দেশে বুড়িগঙ্গার তীরে একটা লঞ্চ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ডুবন্ত মানুষের আর্তনাদ শুনে তিনি আনন্দ পাচ্ছিলেন! কেউ তার রোষদৃষ্টিতে পড়লে তাকে অত্যাচার করে অন্ধকুপে ফেলে দেওয়া ছিল অবধারিত। মোটকথা সিরাজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল দেশবাসী। ইংরেজ শাসনামলে লিখিত বইগুলোতে আরেকটি জিনিস খুব প্রকটভাবে দেখা যায় যে, অত্যাচারী সিরাজুদ্দৌলার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষ ছিল বদ্ধ পরিকর। তারা ইংরেজ বণিকদের পাণিপ্রার্থী হয়ে সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছিল। এবং স্বর্গ থেকে নেমে আসা দেবতার ভুমিকা নিয়ে ইংরেজ বণিকগণ সিরাজুদ্দৌলা নামক অসুরের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করেন। এসবের সত্যতা কতটুকু? ঐতিহাসিক সুশীল চৌধুরী বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে এর সবই ছিল ইংরেজদের সমর্থনপুষ্ট দালালদের প্রচারিত প্রোপাগান্ডা। মুলত ইংরেজরাই ছিল পলাশীর ষড়যন্ত্রের মুল কারিগর। বাংলার প্রভুত ধনসম্পদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি, অন্যদিকে বাংলার মসনদ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট, এসবকিছুই ক্লাইভকে প্রলুব্ধ করেছিল ছলে বলে কৌশলে এদেশের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে। যুদ্ধের পর যেহেতু ইংরেজরা বিজয়ীর আসন দখল করেছিল, তাই এখন তাদের অপকর্মকে ঢাকতে এবং ক্ষমতাদখলকে বৈধ করতে হলে প্রতিপক্ষ সিরাজকে ভিলেন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এরই ফলশ্রুতিতে ইংরেজ সমর্থনপুষ্ট এদেশীয় দালালদের দ্বারা লিখিত হয় "সিয়ার-উল-মুতাখখারিন", "রিয়াজুস সালাতিন" প্রভৃতি গ্রন্থ। যেগুলোকে ইংরেজদের দেবতার আসনে বসিয়ে সিরাজুদ্দৌলাকে অত্যাচারী নৃপতিরুপে দেখানো হয়েছে। যার প্রত্যেকটিই ছিল চরম মিথ্যাচার এবং নবাব সিরাজুদ্দৌলার প্রতি অবিচার। "সিরাজ চরিত" অধ্যায়ে লেখক এটাও স্বীকার করেছেন যে সিরাজ চরিত্র শতভাগ নিখুত ছিল না। নবাবপুর্ব সিরাজ চরিত্রের অন্ধকার দিকগুলো তিনি তুলে ধরেছেন। তবে আলীবর্দি খানের মৃত্যুর পর তার চরিত্রে যে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল তা তিনি নবাবের শত্রুদের বরাত দিয়েই প্রমাণ করেছেন। তার বিশ্লেষণে এটা পরিষ্কার যে নবাবপূর্ব সিরাজ এবং নবাব পরবর্তী সিরাজের মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ ছিল। বইটিতে আরো উঠে এসেছে জগতশেঠ, রায়দুর্লভ, মীরজাফরদের অবস্থান নিয়ে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ। আলীবর্দি খানের পরিবারে শুরু থেকেই চলে আসা ক্ষমতার দ্বন্দে ঘষেটি বেগম, শওকত জংদের ভুমিকাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে নিখুতভাবে। সামান্য একটা উদাহরণ দেওয়া যায় মীরজাফরকে নিয়ে। মদ্যপ, কাপুরুষ ও নারীলোভী এই ব্যক্তিটির ভুমিকা আমরা সকলেই জানি, কিন্তু লেখক দেখিয়েছেন যে তাকে যতটা ভিলেন হিসেবে দেখানো হয় তিনি হয়তবা ততটা দোষী ছিলেন না। মুলত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন ইংরেজদের ক্রীড়নক। লোভ দেখিয়ে ইংরেজরা তাকে ব্যবহার করেছিল মাত্র। একটি সত্যই বারবার পাঠকের সামনে আসবে তা হল মীরজাফর, জগতশেঠ, রায়দুর্লভ, ঘষেটি বেগম প্রমুখ সিরাজুদ্দৌলার শত্রু হলেও তারা সম্মিলিতভাবে কখনোই নবাবকে চুড়ান্তভাবে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারতেন না বা সাহস করতেন না। মুলত ইংরেজদের প্রত্যক্ষ মদদে তারা এই সাহস পেয়েছিলেন এবং শেষপর্যন্ত এরা সকলেই ইংরেজদের শিকারে পরিণত হয়েছেন। বইটিতে আরো দেখানো হয়েছে সিরাজের শাসনামলে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসা কিভাবে মার খাচ্ছিল এবং এদেশীয় বণিক সম্প্রদায় ঠিক কি কারণে সিরাজের উপর অসন্তুষ্ট ছিল্। পলাশীর যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি বাংলা এবং ইউরোপে কি কি পরিবর্তন এনেছিল এবং এখনো কিভাবে তা আমাদের প্রভাবিত করেছে তাও বিস্তারিত এসেছে এই বইটিতে। বিশেষত এককালের সমৃদ্ধশালী বাংলার ক্রমাগত অর্থনৈতিক ভগ্নদশা আর ইউরোপের ক্রমাগত উত্থান যে একই সুত্রে গাথা, প্রচ্ছন্নভাবে এই সত্যটা ফুটে উঠেছে "পলাশীর পরিণামঃসুদুরপ্রসারী প্রভাব" অধ্যায়ে। এগারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত ১৭৮ পৃষ্ঠার বইটি অনেক অজানা বিষয়ে আলোকপাত করবে। বহুমাত্রিক এই বইটিতে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে বহু বছর ধরে আমরা জানতাম না কিংবা ভুল জেনে এসেছি। ইতিহাস প্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি একটি অমুল্য সম্পদ।

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)