

Buy নাগরিক পেন্ডুলাম Online in Bangladesh
লেখক: অলভী সরকার
- Author: অলভী সরকার
- Publisher: শ্রাবণ প্রকাশনী
- Isbn: 9789849114529
- Number Of Pages: 64
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“নাগরিক পেন্ডুলাম” বইয়ের প্রথম ফ্ল্যাপ এর লেখা: ‘শহুরে সভ্যতায় নিরুপায় ব্যক্তিগত জানালার কাচ’ তবু বিদ্রোহের বিপরর স্থান আছে বৈকি! ‘কেউ কি জানতাে, শহরের বুকে জমে, আছে এতাে মাটি? মুদ্রারও উল্টোপিঠ থাকে; সত্যের আড়ালেও সত্যের বাস। ‘যতােটা পুণ্য চোখ মেলে দেখি, ততােটা পাপের আড়ত পেছনে রােজ’ এখানে তাই, ‘প্রেমে ও প্রয়াণে কোনাে তফাত ছিলাে না। অবশেষে‘তােমার পায়ের কাছে প্রতিশব্দ, তােমার বুকের কাছে ঝােড়াে কালবেলা; এ শহরে জলজ্যান্ত মৃত্যু এসে ঘুমিয়েছে প্রেমপত্রে কাটাকুটি খেলা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

৪৭টি কবিতার সংকলন ‘নাগরিক পেন্ডুলাম’। একজন তরুণ কবির চোখে দেখা নগরের নানা রূপ, সৌন্দর্য ও আলো-আঁঁধারের চিত্রকল্প আছে এই গ্রন্থটিতে। ‘নাগরিক’ কবিতায় বলা হয়েছে, ‘শিলালিপি গ্যাছে, তাম্রলিপিও;/ কাগুজে শহর কাগজের ঘরে বন্দী।/ কেউ কি জানতো, মৃত্যু এখানে/ কৃষ্ণচূড়ার ফুলদানি পায়;/ মানুষের গায় জমে যায় মেঘ,/ বৃষ্টির জলে পাপ-পুণ্যের সন্ধি।’ আবার বলা হয়েছে, ‘তোমার কাঁধের কাছে দীর্ঘশ্বাস,/ তোমার বুকের কাছে শুয়ে আছে/ বিষণ্ন নর্তকী।’ বস্তুত নাগরিক-জীবনের প্রেম, বিরহ-বেদনা ও নস্টালজিয়াই এই কাব্যগ্রন্থের মূল উপজীব্য।
কবিকে ধন্যবাদ ভাল কবিতার জন্য। আমি কবিকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। একটা অটোগ্রাফের প্রয়োজন ছিল। আমার একবন্ধু ‘নাগরিক পেন্ডুলাম’ বইয়ের নামটি বলেছিলেন। যেন তার জন্য একটি কপি সংগ্রহ করি। তো আমি যখন রকমারি.কম এ অর্ডার দিতে গেলাম তখন এই বইটি তালিকাভুক্ত ছিল না। আমার বন্ধুকে ফোন করে জানালাম বইয়ের নাম ঠিক আছে তো! তখন আমাকে টেক্সট করে নাম দিল: নাগরিক পেন্ডুলাম-অলভী সরকার, শ্রাবণ প্রকাশনী এবং কবিতার বই। আমি ফোন করলাম রকমারি.কম এ। ওরাই অবশেষে আমাকে খুঁজে দিল বইটি। দুটো ‘নাগরিক পেন্ডুলাম’ অর্ডার দিলাম একটি আমার অপরটি বন্ধুর জন্য; সঙ্গে নির্মলেন্দু গুনের একটি নতুন বই- এসো হে ভৈরব। দুদিনেই রকমারি.কম থেকে বইটি এসে হাতে পৌঁছুল। ধন্যবাদ আমার বন্ধু এবং রকমারি.কম কে। একটি ভাল তরুণ লেখকের সন্ধান এবং বইপ্রাপ্তির সময় বাঁচানোর জন্য। এই বইয়ের প্রথম কবিতার প্রথম চার লাইনই আমাকে মুগ্ধ করলো- “ঘুম ভেঙে রোজ যাকে ভাবি সন্ধ্যায় তাকে ভুলে যায়; এখানে এখন চুল চেরা ভুলে ক্ষতি নাই।” (পৃষ্ঠা-১১, প্রহসন, নাগরিক পেন্ডুলাম) আমাদের নিত্যদিনের দর্শন। অথচ ভেবেই দেখিনি কখনো। কতকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি প্রতিদিন। বাসে ওঠার তাড়াহুড়ো, রিক্সাওলার সঙ্গে ঝগড়া কিছুই আর মনে থাকে। সকালে ভাবি অমুক বন্ধুকে ফোন দেব আজ বহুদিন কথা হয়নি, দেওয়া হয়না। কাজের চাপে ভুলে যায় একদিন সময় পেরিয়ে যায়। বহুদিন পর যখন তাকে ফোন দিই সে অভিমান ভুলে কথা বলে। “আমি চেয়েছিলাম তুমি আমার মতো হও, তুমি চাইলে রোজ অবিকল আমি তোমার মতো; কারো মতোই আমরা দুজনে হইনি কখনোই, ভাগ্যজোরে টিকে গ্যাছে জমজ দুটি ক্ষত।” (পৃষ্ঠা-১৩, রঙমিলান্তি, নাগরিক পেন্ডুলাম) জীবনের এই দুর্বোধ্য দর্শন কত সহজে উপস্থাপিত হয়েছে। পেছনের জীবনের হাজারো স্মৃতি মনে পড়ে গেল। ব্যক্তিগত জীবন আর তার ব্যস্তায় কী এক ক্ষত চিহ্ন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সত্যিই অসাধারণ। “মানুষের ঘরগুলো ছোট হতে হতেে এতো ছোট হয়ে গ্যাছে আজ; শহুরে সভ্যতায় নিরুপায় ব্যক্তিগত জানালার কাচ।” (পৃষ্ঠা-৬২, নাগরিক পেন্ডুলাম, নাগরিক পেন্ডুলাম) শহরের জীবনের জন্য অসাধরণ লাইনগুলো। শহুরে আমাদের জীবন দর্শন। একটি বইয়ের সবগুলো কবিতার মান ভাল। এরকম বই পাওয়া দুস্কর। এই তরুণ কবিকে ধন্যবাদ।























