

Buy মুসলিমবঙ্গ ( দ্বীন, কওম,যমীন) Online in Bangladesh
লেখক: আসিফ আদনান
- Author: আসিফ আদনান
- Publisher: ইলমহাউস পাবলিকেশন
- Number Of Pages: 440
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2026
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, প্রলয়ের আগমুহূর্তেও মানুষ ভাবে—সবকিছু আগের মতোই চলবে। কিন্তু সভ্যতার ভিত যখন ভেতর থেকে পচে যায়, তখন জোড়াতালি দিয়ে নিয়তি এড়ানো যায় না। আমরা এমন এক সময়ের বাসিন্দা, যখন চেনা পৃথিবী বিদায় নিচ্ছে, আর অনিশ্চিত নতুন ভবিষ্যৎ জন্মযন্ত্রণায় ছটফট করছে।প্রগাঢ় পরিবর্তনের ধাক্কা আছড়ে পড়েছে এই বদ্বীপেও। পরাশক্তিদের রেষারেষি, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ আর অভ্যন্তরীণ অবক্ষয়ের মুখে এই কওম ও যমীনের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন।এই ক্রান্তিকালে আমাদের নিজস্ব প্রকল্প কী? আমরা কি হারিয়ে যাব? অথবা অন্যের উচ্ছিষ্ট খেয়ে তেলাপোকার মতো কোনোমতে বেঁচে থাকাকেই ভাবব সফলতা? নাকি নিজেদের আপন পথ গড়ে নেওয়ার হিম্মত দেখাব?বিদ্যমান ব্যবস্থা মৃত; সমাধান দিতে সে অক্ষম। পুরোনো পথ আর ধার করা পঁচা-গলা তন্ত্রমন্ত্র আমাদের কেবল পরাজয় আর লাঞ্ছনাই উপহার দিয়েছে। বারবার প্রচেষ্টা, রক্তের নাযরানা আর কুরবানির পরও তিন শতাব্দীর অপমানের অধ্যায় শেষ হয়নি।অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে আমূল রূপান্তর অনিবার্য। গোলামির জিঞ্জির ভেঙে, তিন শতকের গ্লানি মুছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটাই পথ: তাওহীদের বুনিয়াদের ওপর এক নতুন সত্তার অভ্যুদয়—মুসলিমবঙ্গ।এই বই সেই রূপান্তরের রূপরেখা। ইতিহাস আমাদের দুয়ারে দাঁড়িয়ে। আমরা কি যুগসন্ধির দায় মেটাতে প্রস্তুত?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
'মুসলিম বঙ্গ': *প্রথম অধ্যায়, যুগসন্ধি*: এই অধ্যায়ে লেখক 'আসিফ আদনান' বাংলদেশের আসন্ন সংকট ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশ কীভাবে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর স্বার্থে দাবার ঘুটি হয়ে বসে আছে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থা যে এটির সমাধান দিতে অক্ষম, সেটি ব্যখ্যা করা হয়েছে। পশ্চিমাদের,আন্তর্জাতিক আইনের,NGO,জাতিসংঘের দ্বিমুখীতা, তাদের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বের এককেন্দ্রিক(unipolar) থেকে বহু কেন্দ্রিক(multipolar) হয়ে যাওয়া,পশ্চিমাদের ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বাদ-মতবাদ,তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ইত্যাদি। এই সকল সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। *দ্বিতীয় অধ্যায়, খাঁচা*: এই অধ্যায়ে লেখক বুঝিয়েছেন যে, ইসলামপন্থিরা যে কীভাবে একটি 'খাঁচায়' আটকে আছে। ব্যখ্যা করা হয়েছে কীভাবে একদল শাসক ঘোষ্ঠী পশ্চিমা ও সেক্যুলার এলিট দের দালালি করে। বাংলাদেশে ইসলাম বিদ্বেষ, বিশ্বে ও পশ্চিমাতে,ইউরোপে ইসলাম বিদ্বেষ, ইসলামবিদ্বেষের শিকড় ও কারণ ও উদ্দেশ্য। যে মিথ্যা, বিজাতীয় সংস্কৃতি ও সিস্টেম জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে জনসাধারণের মাঝে, ব্যক্তিগত পরিষরে ইসলাম কে ঠেলে দেওয়া, কেউ ইসলামি শাসন,শরিয়াহ্ চাইলে তাকে 'জঙ্গি' বলে দমন-নিপীড়ন করা, এটির বৈধতা দেওয়া। মিডিয়া, সংস্কৃতি, শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি শাসন,শরিয়াহ্ চাওয়াকে কীভাবে 'সন্ত্রাসী' রূপ দেওয়া হয়েছে, হালাল কে হারাম ও হারাম কে হালাল করা হয়েছে। কীভাবে ও কেন এই তাগুত,সেক্যুলার,জাহিলি কাঠামোতে ইসলামকে 'উগ্রবাদ' হিসেবে ব্যখ্যা করা হয় ও এর কারণ। আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো কীভাবে ও কেন সৈরাচার হয়ে উঠে। সেক্যলারিজমের আড়ালে তাদের আসল উদ্দেশ্য। *তৃতীয় অধ্যায় 'বুনিয়াদ'*: এই অধ্যায়ে লেখক দেখিয়েছিলেন যে, কীভাবে মানুষকে এসব মানুষকে জিনিস বোঝাতে হবে, নববী দাওয়াহর আলোকে, কীভাবে মানুষের মনোজগতে বিপ্লব ঘটাতে হবে, কীভাবে হক ও বাতিল', 'ইসলাম ও তাগুত' কে মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কেন ইসলাম ও আধুনিক তন্ত্র-মন্ত্র,ইসলাম ও জাহিলিয়াত এর দ্বন্দ ,ইসলাম ও সেক্যলারিজমের দ্বন্দ্ব আমাদের দাওয়াহ'র কেন্দ্র হবে। আধুনিক জাহিলী রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো কীভাবে নিজেকে প্রভূ ও ইলাহ দাবি করে,'তাগুত' কী, সেটা ব্যখ্যা করা হয়েছে। কেন আধুনিক 'সেক্যুলার' রাষ্ট্র নামেই 'সেক্যুলার'। বস্তুত এটি ইসলাম কে সংকচিত করার একটা উপায়। কীভাবে সামাজিক শক্তি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, এর প্রকৃত সংজ্ঞা। সর্বোপরি, লেখক এই অধ্যায়ে কীভাবে 'বুনিয়াদ' গড়তে হবে,সেটা দেখিয়েছেন। 'বুনিয়াদ' কী কী ধাপে আগাবে ও কীভাবে আগাবে সেটি ব্যখ্যা করা হয়েছে। কীভাবে এই পথ কঠিন ও অনিশ্চিত,কীভাবে এই দীর্ঘ মেয়াদি,অনিশ্চিত পথেই বুনিয়াদ গড়তে হবে। *চতুর্থ অধ্যায়, অগ্রপশ্চাত*: এই অধ্যায়ে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন অথবা গণ আন্দোলন সফল হয়েছিল বিশেষ করে "ফরায়েজী আন্দোলন"। 'ফরায়েজীদের' মানুষকে দ্বীনের পথে পুনর্জাগরণ, বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে তাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রে ভিতরেই কার্যত আরেক ইসলামি,শরিয়াহ্ শাসিত রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। কীভাবে তারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ,ব্রিটিশদের অনুগত জমিদার শ্রেণির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন, তারা কীভাবে বুনিয়াদ গড়েছেন, কেন ইনকিলাব ও সশস্ত্র সংগ্রাম তারা গড়ে তুলেননি তাদের পতনের কারণ, তাদের থেকে আমাদের শিক্ষা। *পঞ্চম অধ্যায়, 'জিজ্ঞাসা':* এই অধ্যায় শুরু হয়েছে ৩টি প্রশ্ন দিয়ে: ১। সামাজিক আন্দোলন, সামাজিক প্রতিরোধ এগুলো এখনো কার্যকরী? বুনিয়াদ- ইনকিলাব কীভাবে হবে? ২। গনতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা কেন সম্ভব নয়? ৩। ইনকিলাব তৈরি হবে কীভাবে? লেখক প্রথম দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই অধ্যায়ে। লেখক দেখিয়েছেন কেন সামাজিক শক্তি ও সামাজিক আন্দোলন এই বর্তমান আধুনিক যুগেও কার্যকর। লেখক ঐতিহাসিক/ ইতিহাস থেকে ও রেফারেন্স দিয়েছেন। এছাড়াও লেখক দেখিয়েছেন, গণতন্ত্র দিয়ে কেনো ইসলাম প্রতিষ্ঠা কার্যত ভাবে অসম্ভব। গণতন্ত্রের ভিত্তি বা বুনিয়াদই হচ্ছে মানুষের তৈরি আইন বাস্তবায়ন। সেটা হোক সাধারণ মানুষ কিংবা 'ডিপস্টেট নেটওয়ার্ক। এটির মানে দাঁড়ায়, আল্লাহর আইন- বিধান ছেড়ে নিজের মতো আইন বানানো। এটি সরাসরি আল্লাহর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা। এটি আকিদাহ গত দিক দিয়েও কুফরি এবং তাগুত। লেখক এটি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। এ ছাড়াও লেখক দেখিয়েছেন, এই সংসদীয় গণতন্ত্র পদ্ধতিতে আসলে কীভাবে আমেরিকা/যায়নবাদী/ ডিপস্টেট এলিট গোষ্ঠীর ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক আদর্শ, বাদ-মতবাদ, মূল্যবোধ গ্রহণ করতে হয় এবং ইসলামের আদর্শ ফেলে দিতে হয়। লেখক 'গণতন্ত্রের ভ্রান্তিবিলাস' এবং ভেল্কিবাজীও ব্যাখ্যা করেছেন। গণতন্ত্রের যেইখানে জন্ম, সেখানেই যে কার্যত গণতন্ত্র নেই, সেটি ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। গণতন্ত্রের নামে কীভাবে যায়নবাদী, গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক ও টেক জায়ান্টদের বিশাল এলিট শ্রেণির 'ডিপস্টেট নেটওয়ার্ক' বিভিন্ন স্তরে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রন করে, সেটি দেখিয়েছেন। লেখক পুরো আধুনিক গণতান্ত্রিক অবকাঠামোর মুখোশ উম্নোচন করেছেন এই অধ্যায়ে। এ অধ্যায়ে লেখক আরো দেখিয়েছেন,গনতন্ত্র এবং ইসলামি 'শূরা' ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোগত পার্থক্য। *ষষ্ঠ অধ্যায়, দিকদর্শন*: এ অধ্যায়ে লেখক পঞ্চম অধ্যায়ের তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন। এই অধ্যায়ে লেখক বিভিন্ন ধারার ও পদ্ধতির বিপ্লব নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেমন: নিরস্ত্র ও সশস্ত্র গণঅভ্যূথান গেরিলা, হাইব্রিড বিপ্লব ইত্যাদি। আলেম-উলামা দের তিনি বিভিন্ন বিপ্লবের রূপরেখা নিয়ে ও আলোচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিপ্লব, বিপ্লবের পদ্ধতি ও প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা ও করেছেন। যেমন, প্রথম ও দ্বিতীয় আফগান ইসলামি ইমারত, ইরানি শিয়া বিপ্লব, রুশ বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, নেপাল বিপ্লব ইত্যাদি। তিনি গেরিলা বিপ্লব সফল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত ও সামনে এনেছেন, তিনি দেখিয়েছেন, আফগানিস্তানে সবগুলো শর্তই কীভাবে ছিলো। লেখক, আমাদের করণীয় কি সেটাও ব্যখ্যা করেছেন, আমাদের অনেকেই মনে করে, আমরা ইনকিলাবি পর্যায়ে আছি। না, আমরা এখনো বুনিয়াদি পর্যায়েই আছি। আমাদের আগে পরিপূর্ণভাবে বুনিয়াদ গড়তে হবে। দাওয়াহ, মেরুকরণ ইতাদি। তারপর, সামাজিক শক্তি ও সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। নিজেদের বিকল্প কাঠামো দাঁড় করাতে হবে। তারপর, আন্দোলনের সক্ষমতা, ভূপ্রাকৃতি, ইত্যাদি অবস্থা বিবেচনা করে ইনকিলাবের পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে ও অগ্রসর হতে হবে, কিন্তু যদি ইনকিলাবের ভিত্তি, অর্থাৎ বুনিয়াদ দুর্বল হয়, তাহলে শুরুতেই বিপ্লব থেমে যাবে। যদি বুনিয়াদ শক্তিশালী হয়, তাহলে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিপ্লব টিকে থাকবে। লেখক ভবিষতের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন, এবং দেখিয়েছেন, সব ক্ষেত্রেই বুনিয়াদ কীভাবে লাভজনক, ক্ষতির আশংকা নেই। সর্বোপরি,লেখক এই অধ্যায়ে মুসলিমবঙ্গ কায়েমের রূপরেখা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন *সপ্তম অধ্যায়,মুসলিমবঙ্গ: অস্তিত্বের নিয়তি*: এই অধ্যায়ে লেখক পূর্ববর্তী অধ্যায় গুলোর ছোটো সামারি করেছেন। এই অধ্যায় টি বেশ রক্ত গরম করার মতো,অর্থাৎ উদ্দীপিত করার মতো। লেখক এর শেষ বাক্য এই বইয়ে: "আল্লাহ্ সাক্ষী , আমি পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি" প্রমাণ করে এই বই কতটা গুরত্ব পূর্ণ। এ বই উম্মাহর পথ চলার পাথেয়। আল্লাহ এই বই,বইয়ের লেখক ও পাঠক দের কবুল করুক। তাদের পাঠক থেকে কর্মীতে রুপান্তর করুক, আমিন।



অসাধারণ লেখনী
এটাকে কালজয়ী পুস্তক বললে ভুল হবেনা, সেক্যুলারিজম বনাম ইসলামের যুদ্ধ, যুগ থেকে যুগান্তরে, বর্তমান ও ভবিষ্যত, আমাদের করণীয় কর্তব্যগুলো সুচারুরূপে এভাবে হয়তো এই বাংলায় কেউ তুলে ধরেনি, রাষ্ট্র কখনোই ইসলামকে বেঁধে রাখতে পারে না, ইসলাম স্বকিও জীবন ব্যবস্থা, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব আজ ইসলামকে বেড়ি পড়িয়েছে রাষ্ট্রের মাধ্যমে, কিভাবে? তা জানতে হলে পড়ুন, আর হ্যা চা বা কফি সাথে নিয়ে বসে একটানা পড়ে ফেলুন, ইনশাআল্লাহ আলো আসবেই, আলোর জন্মই আঁধার চিঁড়ে সুন্দর একটি সকালের সূচনা করা






চমৎকার একটি বই। সুযোগ করে সবার পড়া দরকার।

onek vlo,,,pore onek kisu shik jabe...alhamdulillah
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটিতে কত পৃষ্ঠা ? হার্ডকভার না পেপারব্যাক ?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি হার্ডকভার সংস্করণে রয়েছে। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪০। ধন্যবাদ।
বইটিতে কত পৃষ্ঠা ? হার্ডকভার না পেপারব্যাক ?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি হার্ডকভার সংস্করণে রয়েছে। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪০। ধন্যবাদ।























