

Buy মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর একটি নির্দলীয় ইতিহাস Online in Bangladesh
লেখক: গোলাম মুরশিদ
- Author: গোলাম মুরশিদ
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789848765371
- Number Of Pages: 264
- Language: বাংলা
- Edition: 11th Printed, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
যে সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা এসেছিল, তা মানুষের মনে কী স্বপ্ন জন্ম দিয়েছিল, বাস্তবে তাঁরা কী পেলেন এবং কোন আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নির্মিত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোন পথে গেল সেই বাংলাদেশÑসে সম্পর্কে নিরপেক্ষ ইতিহাস দুর্লভ। এ বইয়ে লেখক মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পরের বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি সঠিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
Good

Good

এটা অসাধারণ একটি বই, যেখানে অন্যরকমের নিরপেক্ষতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার পঠিত প্রিয় একটি বই।
Excillent

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের যাদের ‘ইতিহাস’ জানার ইচ্ছা, দুঃখজনকভাবে এই বইটি থেকে তারা ইতিহাসের একরকম একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট বচন ছাড়া অন্যকিছু জানতে পারবেন না। কেন একপেশে? বা পক্ষপাতদুষ্ট? কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। এই বইতে পলাশীর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে প্রসঙ্গত, কিন্তু সেখানে মীর জাফর আর মীর কাশিমদের নাম অনুপস্থিত! বিশাল পরিসরে মুক্তিযুদ্ধের ‘ইতিহাস’ রচনা করা হয়েছে এই বইতে যার কোথাও গোলাম আযম, খাজা খয়ের উদ্দিনের নাম গন্ধও নেই! অবশ্য গোলাম আযমবিহীন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নির্দলীয় বলাই যায় এবং সেইহেতুই বোধকরি বইটির নাম! এই বইটি লিখতে গোলাম মুরশিদ সবচেয়ে বেশি তথ্য সাহায্য নিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসারদের লিখিত বিভিন্ন বই থেকে (সবচেয়ে বেশি ৪৬ বার তিনি উদ্ধৃত করেছেন সিদ্দিক সালিককে)। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় স্থানে আছেন রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, তাঁর বই থেকে তথ্য নিয়েছেন মাত্র ১৭ বার। আবার, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানও দখল করেছেন পাকসেনারাই! নিয়াজী এবং রাও ফরমান আলীর বই থেকে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য নিয়েছেন ১২ বার করে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা অসংখ্য বই এবং গবেষণাকে তার বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি, বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে পাকিস্তানি সেনা অফিসারদের মিথ্যাচারকে। বোধহয় একারণেই পাকি সেনার স্তুতগীত গেয়েছেন, “সিদ্দিক সালিক সেনাবাহিনীর সদস্য হলেও তাঁর খানিকটা ইতিহাস বোধ ছিলো এবং কোথাও কোথাও বেশ নিরপেক্ষ বিবরণ দিয়েছেন”। যথারীতি তিনিও প্রশ্ন তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে। তিনি লিখেছেন “তবে মনে হয়, তিরিশ লাখ লোকের জীবনহানি হয়েছিলো বলে যে দাবি করা হয়, তা কিংবদন্তী মাত্র। বাংলাদেশে ফিরে এসে শেখ মুজিব রেসকোর্সের ভাষণে তিরিশ লাখের কথা বলেছিলেন। তিনি অনুমান করেই বলে থাকবেন”। তারপরই লিখেছেন, “রুডলফ রামেলের অনুমান পাকিস্তান দশ লাখের চেয়েও বেশি লোককে হত্যা করেছিলো (আর.জে. রামেল, ১৯৯৬)। যদি তিরিশ লাখ অথবা দশ লাখের বেশির অনুমানে অতিরঞ্জনও থাকে, তা হলে অন্তত তিন/চার লাখ লোক যে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহ করার কারণ নেই”। অত্যাশ্চার্য ব্যাপারটা হল, বঙ্গবন্ধু আর রামেলের তথ্যকে অনুমান বলে উড়িয়ে দিয়ে ‘তিন চার লাখের’ হিসাব দিলেও এই তথ্য তিনি কোথায় পেয়েছেন তা উল্লেখ করেননি। অথচ কি নির্বিবাদে লিখে গেলেন তাঁর এই অনুমানের কথা। গবেষক সাহেব আরও লিখেছেন, “শরণার্থী শিবিরে যে উদ্বাস্তুরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেও যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহের অভাব দেখা গিয়েছিলো। কারণ, তাঁরা বেশির ভাগই গিয়েছিলেন সপরিবারে। দেশে ফেরার আগ্রহ তাদেঁর ছিলো তুলনামূলকভাবে কম”। আচ্ছা, বেশ কৌতুহল জাগানিয়া তো। কিন্তু এই তথ্যের উৎস? তাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত! তিনি কলকাতায় সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মুজিব বাহিনীর নানাবিধ ষড়যন্ত্রের বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, কিন্তু অজ্ঞাত (নাকি নির্দলীয়!) কারণে গোলাম আযমদের ষড়যন্ত্র নিয়ে তিনি টু শব্দটি করেন না। এই হলো প্রথমা এবং গোলাম মুরশিদ প্রণীত মুক্তিযুদ্ধের নির্দলীয় ইতিহাস! অনেক ‘গবেষণা’ করে লেখা এই ইতিহাসগ্রন্থ কোনোভাবেই ইতিহাস গ্রন্থ না, স্রেফ গোলাম মুরশিদের ব্যক্তিগত বয়ান, তারও বেশিরভাগটা তথ্য তিনি নিয়েছেন পাকিস্তানি সেনা অফিসারদের কাছ থেকে। (ব্লগার সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর লেখা পরিমার্জন করে উপর্যুক্ত রিভিউটি লেখা হয়েছে)





















