

Buy কথা সামান্যই Online in Bangladesh
লেখক: সৈয়দ শামসুল হক
- Author: সৈয়দ শামসুল হক
- Publisher: সাহিত্য প্রকাশ
- Isbn: 9844654432
- Number Of Pages: 396
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Printed, 2012
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
সূচি* সবিনয় নিবেদন* সামান্য* আত্না* অভিমান* মই* জাহাজ* খুঁটি* স্যাণ্ডেল* সুপারি* জানালা* ছাপা অক্ষর* না * কাজ * ছেঁদো* শেষ কথা* মনে হয়* খাওয়া* খাই খাই* ভাষা* ভাষাবোধ* মাথা* ডিকশোনারি* মনে রাখা* শব্দ* লুকোচুরি* লাগসই* ঈদ * শব্দের রঞ্জন * লাভক্ষতি* হিসাব* নগদ বাকি* স্ব* রাম* বন্ধু* ডাক* বুদ্ধি* চেয়ার* ভাষা ব্যবহার* নতুন* কথা * কাঁচা* সংখ্যা* অসংখ্য* সাধু* তিরস্কার* রূপবান* ক্লীব* রগড়* তো * মেঘ* ধুম* পরামর্শ* লোক* সাধারণ* অতীত* কর* ভাদ্র* কৃশর* ভালোবাসা* মিল * প্রবাদ* চন্দ্রবিন্দু* প্যাঁচ* চাপ * জোনাকি* মানুষ* ভ্রমণ* বিশেষণ* আপনপর* রাম ছাগল* অন্যশব্দ* তারিখ* ঢেঁকি* ডাক্তার* ভরসা* খারাপ* চেহারা* মুখ* ফোটা* ঘাস* মুখের কথা* বোঝা* ওঠানামা* নিষেধ* আচাভুয়া* কল্পনা* সুখ * সংসার* ঘর* ফল* পথিক* পাগল* বর্ণচোরা* চোর* শব্দগতি* শেষ
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
কবি,কথাশিল্পী,নাট্যকার—সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক,ষাটবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার শ্রদ্ধা ও অভিবাদন গ্রহণ করুন।আপনি ভালো ক'রেই জানেন এক বামনপল্লীর অধিবাসী আমরা,যে-পল্লীতে অতিকায়দের আবির্ভাব দুর্লভ ও বিব্রতকর ঘটনা;এবং যদি কোনো অতিকায় আপন দুর্ভাগ্যবশত আবির্ভূত হয় মাঝারি ও নিম্নমাঝারির কীর্তনমুখর এ-পল্লীতে,তাকে আমরা নিজেদের মাপ অনুসারে কেটে নিয়ে স্বস্তি পাই।এ-কাজ আমরা ক'রে আসছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।আপনার কথা ভাবলে আমি বোধ করি আপনার অতিকায় প্রতিভায় আমরা স্বস্তি পাই নি;তাই আমাদের মাপ অনুসারে কেটে নিয়েছি আপনাকে;–আপনার অতিকায়তা সুখকর নয় আমাদের জন্যে;আপনি যে অতিকায় তা আমরা স্বীকার করতে চাই নি;বরং আপনাকে বহু ক্ষুদ্রকায়ের থেকে ক্ষুদ্র দেখার একটি অভ্যাস আমরা গ'ড়ে তুলে স্বস্তি পাচ্ছি।অন্ধ যেমন কখনো সম্পূর্ণ হাতি দেখে উঠতে পারে না,আমরাও সম্পূর্ণ আপনাকে,সৈয়দ শামসুল হককে,দেখতে পাই নি।অন্ধদের আচরণ, আমি বুঝি, নিরন্তর পীড়ন করেছে আপনাকে;তাই আপনি মহাভারতীয় একটি শব্দ—'সব্যসাচী'–পুনরাবিষ্কার করেছেন নিজের জন্যে;নিজেকে দেখেছেন আধুনিক অর্জুনরূপে। বামনপল্লীতে অর্জুন বেমানান;তবে আমাদের ভাগ্য দু-একটি অর্জুন আমাদের পল্লীতেও জন্মগ্রহণ করে।আমরা স্বস্তি পাই,সুখী হই,একমাত্রিকতায়;আপনি বহুমাত্রিক,এটাই আমাদের অস্বস্তির প্রধান কারণ।যিনি শুধুই কবিতা লেখেন,তাঁকে আমরা বলি কবি;তাঁর নামের সাথে কবির আগে বিশেষণের পর বিশেষণ আমরা ব্যবহার করি;যিনি শুধুই উপন্যাস লেখেন,তাঁকে বলি ঔপন্যাসিক, যিনি শুধুই নাটক লেখে, তাঁকে বলি নাট্যকার;কিন্তু যিনি ঋদ্ধ করেন সাহিত্যের নানান শাখা,যিনি হন সৈয়দ শামসুল হক,তাঁকে কী বলবো আমরা ঠিক ক'রে উঠতে পারি না।কবি বলবো,না ঔপন্যাসিক, না নাট্যকার? তাঁকে এক শব্দে আমরা ডাকতে পারি না ব'লে তাঁকে দেখি খণ্ডিত ক'রে;খণ্ডিত করতে গিয়ে তাঁকে ক্ষুদ্র ক'রে তুলি গৌণদের থেকে।আমাদের খণ্ডিতকরণপ্রবণতার এক বড়ো শিকার আপনি,সৈয়দ শামসুল হক,আপনি তা জানেন,এবং তা নিশ্চয়ই আপনাকে দশকের পর দশক পীড়িত ক'রে আসছে।আপমি নিজেই জানেন কবিতা, কথাশিল্প,নাটক মিলিয়ে আপনার উচ্চতার স্রষ্টা আধুনিক বাঙলা সাহিত্যে তিনচারজনের বেশি,এবং সমগ্র বাঙলা সাহিত্যেও খুব বেশি মিলবে না।আমাদের খণ্ডিতকরণরোগের বড়ো এক শিকার হয়ে আছেন মহৎ বুদ্ধদেব বসু ;রবীন্দ্রনাথের পর যাঁর সমতুল্য আর কেউ নেই;তাঁর মহিমা আমরা যেমন বুঝি না,আমরা বুঝি না আপনার মহিমাও।কথাশিল্পী হিশেবেই আপনার পরিচয় বেশি,কিন্তু আপনি যে ওই এলাকায় আমাদের প্রধানতম,তা আমরা বলি না,বলতে ভয় পাই,বা আমরা বুঝে উঠতে পারি না।আমাদের বামনপল্লীতে পুরোনোর মূল্য বেশি,আর এ-পল্লীতে কোনো কথা একবার র'টে গেলে তার থেকে আমাদের আর মুক্তি ঘটে না,চিরকাল আমাদের ওই রটনা রটিয়ে যেতে হয়।কথাসাহিত্যের কথা উঠলে আজো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ আর শওকত ওসমানের কথা বলি,বিশেষ করে বলি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র কথা,যেনো তিনিই আমাদের শ্রেষ্ঠ,এমনকি চিরকালের শ্রেষ্ঠ,কথাশিল্পী ;আমরা এখনো ভুল ধারণার মধ্যে রয়েছি।সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ আর শওকত ওসমানের মধ্যে মুসলমানিত্বের পরিচয় লেগে আছে গাঢ়ভাবে,আর শিল্পকলার বিচিত্র সৌন্দর্যও দুর্লভ তাঁদের কথাসাহিত্যে।আর তাঁরা কি অনেকটা উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মনে রেখেই লেখেন নি তাঁদের উপন্যাসগুলো?আপনিই তো প্রথম লিখেছেন আমাদের আপত্তিকর উপন্যাস,যা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিব্রত করেছে;এবং দেখিয়ে দিয়েছে শিল্পকলা পাঠ্যপুস্তক নয়।আমাদের কথাসাহিত্যকে প্রথম বিচিত্র শিল্পসৌন্দর্যখচিত ক'রে তুলেছেন আপনি;এবং আপনার সৃষ্টিশীলতাও বিস্ময়কর। আপনি নিরীক্ষার পর নিরীক্ষা করেছেন শিল্প ও সৌন্দর্য সৃষ্টির;আপনার কথাশিল্প ও কবিতা ও নাটক নিরীক্ষার বিস্ময়কর বিশ্ব,যার কোনো তুলনা বাঙালি মুসলমানের মধ্যে দেখি না।সমগ্র বাঙলা সাহিত্যেও কি খুব বেশি দেখি?বাঙলা কথাশিল্পে জীবন যতোটা বড়ো হয়ে আছে,ততোটা কি বড়ো হ'তে পেরেছে শিল্পকলা ও সৌন্দর্য? তারাশঙ্কর বা বিভূতিভূষণ বা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ে যতোটা জীবন পাই,ততোটা কি পাই সৌন্দর্য ও শিল্পকলা;এবং তাঁদের আজো আমরা যতোটা কিংবদন্তি ভাবি তাঁরা কি ততো বড়ো?তাঁরা কি বাঙলা উপন্যাসকে প্রথার মধ্যেই রেখে দেন নি,শিল্পকলার থেকে স্থূল জীবন নিয়েই বেশি মেতে থাকেন নি?আপনি বেরিয়ে এসেছিলেন ওই প্রথার ভেতর থেকে।শিল্পকলায় নিরীক্ষা মূল্যবান,কিন্তু নিরীক্ষা যদি শুধুই নিরীক্ষা হয়ে থাকে,তাহলে তার বিশেষ মূল্য থাকে না;শিল্পকলায় মূল্যবান হচ্ছে সফল নিরীক্ষা,যা আপনার কথাশিল্প থেকে কবিতা থেকে নাটক পর্যন্ত বিস্তৃত।আমি এখানে আপনার উপন্যাস বা গল্প বা কবিতা বা নাটকের ভাষ্য লিখতে চাই না,হয়তো কোনোদিনই লিখে উঠতে পারবো না,শুধু জানাতে চাই যে আপনার মহত্ত্ব আমি সব সময়ই উপলব্ধি করি।আপনার বাঙালিত্ব ও আন্তর্জাতিকত্ব যেমন শিল্পিত,তেমনি শিল্পিত আপনার প্রেম ও কাম এবং জীবন।আপনার কবিতার উপাখ্যানতা যেমন শিল্পিত,তেমনি শিল্পিত তার গীতিময়তা;এবং বিস্ময়কর আপনার নাটক—অলীক কুনাট্য রঙ্গের দেশে আপনি নাটককে ক'রে তুলেছেন শিল্পকলা।নাটক আমার কাছে দৃশ্যকাব্য নয়,পাঠ্যকাব্য;মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, বুদ্ধদেব,আর আপনার নাটকেই আমি পাই ওই পাঠ্যকাব্যত্ব—সুন্দরী নটী,সুন্দর নট,সুন্দর রঙ্গমঞ্চ বাদ দেয়ার পর যা থাকে,তাই হচ্ছে নাটক,যা পাঠ্য,যা দেখার নয়,অনুভব আর উপলব্ধির।নাটক শুধু উল্লাস আর করতালিতে সমাপ্ত নয়।আপনি যখন তৎসম থেকে চলতি যান,এবং চলতি থেকে আঞ্চলিকে,তখন যা সৃষ্টি হয়,তা হচ্ছে শিল্পকলা;এবং আপনার প্রজন্মের কেউ ওই শিল্পকলাকে আপনার মতো অনুভব করেন নি।আপনি বাঙলা গদ্যকে পরিস্রুত করেছেন,শিল্পকলা ক'রে তুলেছেন।আপনার মধ্যে আমি দেখি সৌন্দর্য আর শিল্পকলা, যা জীবনের থেকে মহৎ,এবং অবিনশ্বর। —হুমায়ুন আজাদ অগ্রন্থিত প্রবন্ধ
all are great book,i like must
এ বইটি যে হাতে নিয়েছেন, আপনি এর পাতা ওলটান বা না-ওলটান, দু'এক পাতা পড়ুন বা না-পড়ুন, আমি খুশি । জীবনে দু'বারই মাত্র দুটি দুর্লভ সাক্ষাৎ হয়েছিল আপনার সঙ্গে। সে অনেকদিন আগে আপনি কাপ্তাই হ্রদের বুকে লঞ্চে কোথাও যাচ্ছিলেন, আমি যাচ্ছিলাম মহালছড়ি। আপনি নিচের ডেকে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বেঞ্চের ওপর পা লম্বা করে, আপনার বুকের ওপর উপুড় করা ছিল আমারই এক উপন্যাস। আর সেবার রাজধানীর চন্দ্ৰিমা উদ্যানে গাছের কোলে বিকেল নেমেছে, আপনি বান্ধবীর কোলে মাথা রেখে তার মুখের পানে চেয়ে ছিলেন যেন চাঁদ উঠেছে আকাশে, আপনার হাতে আলগা হয়ে আছে আমার একটি কবিতার বই। দু'বারই আপনাকে কিন্তু পড়তে দেখি নি। দেখেছি, উপন্যাস আপনার চােখে ঘুম এনে দিয়েছে, কবিতা আপনার চােখ দুটিকে বই থেকে বান্ধবীর দিকে ফিরিয়েছে। কিন্তু এই যে বই এখন আপনার হাতে এ উপন্যাসও নয়, কবিতাও নয়। আপনি এখনো পড়ে ওঠেন নি বলে আপনাকে আমার পাঠকও বলতে পারছি না। আপনি এখন হ্রদে কি উদ্যানে নাকি বিছানায় বা বইদোকানে, তাও জানি না। এ বই আপনাকে দুপুরের ভাত-ঘুম এনে দেবে, কি বিকেলে বান্ধবীর কোল দেবে- বলতে পারছি না। যদি কিছু দেয়, কিছু শব্দের সাহায়ে আপনাকে আমোদ দেবে। হয়তো ভাবাবেও। গোটাকয় পাতা উলটে দেখবেন কি? এ বইয়ে আমি কথা বলতে চেয়েছি আপনারই ভাষা আর ভাষায় আপনারই কলম কি উচ্চারণে যে শব্দগুলো আসে তার গুটিকয় নিয়ে । আপনাকে প্রথমেই আশ্বস্ত করি, আমি ভাষাবিদ নই, পণ্ডিত তো নই-ই। তাই এ বই আমার হাতে অ্যাকাডেমিক হবার জো ছিল না। সৃষ্টিশীল লেখক অনেকের যেমন আছে দৃঢ়-গম্ভীর প্রবন্ধ সঙ্কলন- তাও এটি নয়। তবে এটি কী? বাকিটুকু বইটি পড়েই জেনে নিন।






















