

Buy কী লিখি তোমায় Online in Bangladesh
লেখক: শিরিন শবনম
- Author: শিরিন শবনম
- Publisher: চলন্তিকা
- Isbn: 978-984-29392-2-8
- Number Of Pages: 120
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2026
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
প্রকৃতি, মানুষ সবকিছুই আমার প্রেমের অনুসঙ্গ আর প্রেম আমার লেখার উপাত্ত।প্রেম কখনোই ধ্বংস করে না। প্রেম হৃদয়ে লহর তোলা এক সুরের মূর্ছনা। যা কেবল নিজ হৃদয়ের গোপন ধন। হৃদয়ের অলিন্দে প্রেমের যে গভীর, জটিল, অথচ নির্মল অনুরণন ধরা পড়ে — তা আসলে আত্মার পরতে পরতে লেখা এক নীরব সমর্পণ।অভিমান, প্রেম ও হৃদয়—এই তিন অবস্থার মধ্য দিয়ে এক একটি সম্পর্ক, একটি আত্মিক টান, এক অন্তরঙ্গ সত্তা কীভাবে রূপ নেয়, গড়ে ওঠে, আবার ভেঙে পড়ে আবার উঠে দাঁড়ায়— এই কবিতাগুলো তার প্রতিফলন ধরার প্রয়াস।সাহিত্য মানুষের মনের আয়না। কবিতা সেই আয়নায় প্রতিসরিত হওয়া হৃদয়ের এক নিরেট প্রতিচ্ছবি।গল্প, কবিতা সব শব্দের খেলা। মিথ্যে নয় উপলব্ধি। সত্য নয় বহিরাবরণ। হৃদয়ের সব অনুরণন শব্দে ধরা যায় না, কিন্তু অনুভূতি যখন কারো না কারো অনুভূতির সাথে মিলে যায় তখন সে লেখা স্বার্থকতা পায়। সাহিত্য তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন পাঠকের অনুভূতিতে নাড়া দিয়ে বলে, "এ তো আমারই কথা।"শুরুর "কী লিখি তোমায়" চিঠি দিবসের আহ্বানে লেখা। কাল্পনিক কিন্তু ভিতরমনের চিরকালীন নিঃসঙ্গতার অনুরণন। এই চিঠি নিঃসঙ্গতার অন্তঃসলিলা থেকে উঠে আসা এক অমর স্বীকারোক্তি—প্রেম, বেদনা আর আত্মমগ্নতার মিশ্রণে এক নারীর সমগ্র সত্তা উজাড় করে দেয়া আকুতি। এক অচেনা অথচ অন্তরঙ্গ পুরুষের কাছে এই লিখন একসাথে প্রেমপত্র, কবিতা আর আত্মার ভাষ্য।শেষের “শেষ পৃষ্ঠার ইতিহীন চিঠি” এক অন্তর্লীন স্বীকারোক্তি, যেখানে প্রেম, বেদনা, বিস্মৃতি আর আত্মোপলব্ধি মিলেমিশে গেছে অনন্য শিল্পরূপে। শব্দগুলো শুধু বলা নয়—শ্রুতির বাইরে এক অন্তরঙ্গ সঙ্গীতের মতো হৃদয়ে বাজে। সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব পেরিয়ে যে অমলিন অনুভূতি, তাকে কাব্যিকতার ছোঁয়া দেয়ার প্রচেষ্টা।কী এক দূর্দান্ত সাহসে ভর করে কাব্য মূদ্রণে এসেছি জানি না। কবিতার অ, আ, ক,খ কিছুই আমার জানা নেই। আন্তমিল, ছন্দ বা ব্যাকরণের কিছুই আমি বুঝি না। আমার তাই কবিতা হয় না। শব্দের বুননে, ভূষণে আমি বলি আমার উপলব্ধির কথা।এইরকম একাত্তরটি মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধিকথন এই গদ্যকাব্য এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য। পাঠকের আগ্রহে এই গ্রন্থে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধিজাত লেখাগুলো ঠাঁই পেয়েছে।বন্ধুদের আগ্রহে মূদ্রণে সাহসী হয়েছি ভয় মনে পুষে রেখে। পাঠক যদি গ্রহণ করেন তবেই আমার ভয় দূর হয়।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
#কী_লিখি_তোমায় বই: কী লিখি তোমায় লেখক: শিরিন শবনম প্রচ্ছদ: ফারিহা তাবাসসুম প্রকাশনী: চলন্তিকা মূল্য: ৩৫০ টাকা কিছু বই কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং অনুভব করার জন্য। শিরিন শবনমের “কী লিখি তোমায়” ঠিক তেমনই একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি কেবল কতগুলো শব্দের সমষ্টি নয়, বরং চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে রাখা একরাশ অপ্রকাশিত আবেগের নাম। শিরিন শবনমের 'কি লিখি তোমায়' বইটির ভাষা যেমন সহজ, তেমনি প্রতিটা লেখায় লুকিয়ে আছে গভীর আবেগ। বইটির প্রতিটি লেখা এক একটি অন্তরঙ্গ স্বীকারোক্তির মতো। পড়তে পড়তে মনে হয়, লেখিকা যেন পাঠকের মনের অব্যক্ত কথাগুলোই কাগজে রূপ দিয়েছেন। কোনো জটিল শব্দ ছাড়াই খুব সাধারণ ভঙ্গিতে গভীর অনুভূতির কথা বলা হয়েছে। লেখার ভেতরে একটা চাপা সুর আছে যা হৃদয়ে নাড়া দেয়। এই বইটি মূলত তাদের জন্য যারা কোলাহলের চেয়ে নিস্তব্ধতা বেশি পছন্দ করেন। যারা শব্দের ভিড়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চান, একাকী বিকেলে এক কাপ চায়ের সাথে এই বইটি হতে পারে আপনার দারুণ এক সঙ্গী।


বিভিন্ন মুডের জন্য বিভিন্ন কবিতা। মাঝে মাঝে এমন কবিতার বই ভালই লাগে !



#কী_লিখি_তোমায় " আমি এ জীবনেই তোমাকে পেয়েছি--অমর হয়ে থাকা কিছু কথামালায়। আমার শুধু জানার ছিলো, তোমার চোখে-- ... কে আমি? তুমি ভয় পেলে। পালালে। আমি কেন খুঁজব? আমি শুধু আমার প্রেমকে লালন করি! (কবিতা : কী লিখি তোমায় ) ✍️ কবিতা হলো হৃদয়ের সেই অব্যক্ত সুর, যা কখনো শব্দে ফোটে, আবার কখনো নীরবতার আড়ালে রয়ে যায়। সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় লেখক ও কবি শিরিন শবনম এক পরিচিত নাম। তাঁর নতুন কাব্যগ্রন্থ "কী লিখি তোমায়" যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান আর কিছু না বলা চিঠির কাব্যিক সংকলন। কবিতার আড়ালে জীবনের গল্প বলে যাওয়া কিন্তু সহজ কথা নয়। " তোমার হাসির বাইরে নেই অন্য কোনো প্রত্যাশা আমার নেই আর কিছুর কোনো আয়োজন। সব স্বপ্নকথার আগামীর পথ চিনতে চায় না, তবু জোছনারা গড়িয়ে আসে শূন্য বিছানায়। " ( কবিতা: মায়ার কাঁপন ) ✍️ হৃদয়ের গোপন ভাঁজে জমানো একগুচ্ছ অপ্রকাশিত চিঠির সমন্বয় যেন এই কাব্যগ্রন্থটি। কিছু বই থাকে যা কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং অনুভব করার জন্য। শিরিন শবনম-এর 'কী লিখি তোমায়' ঠিক তেমনই একটি সৃষ্টি। বইটির নামেই যেন এক অদ্ভুত মায়া, দ্বিধা আর অব্যক্ত হাহাকার মিশে আছে। প্রচ্ছদশিল্পী ফারিহা তাবাসসুমের তুলিতে বইটির অবয়বে যে বিষণ্ণ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, তা পাঠককে শুরুতেই এক নিঃসঙ্গ অথচ স্নিগ্ধ জগতের হাতছানি দেয়। "স্থবির হলো সময়, দুর্যোধনের গদায় হলো অকাল বোধন ফিরে গেল শব্দের কাকলীর, অনাঘ্রাত স্বপ্নরা শোরগোল তুলল কালের যাত্রাপথ প্রেমের শবদাহে নিষ্ঠুর নির্দয় এক এপিটাফ হলো লেখা -- ( কবিতা : এপিটাফ ) বইটি ৭২টি মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধির এক অনন্য সংকলন। আমাদের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে যখন মনের ভেতর কথার পাহাড় জমে থাকে, কিন্তু সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না। লেখিকা সেই থমকে যাওয়া মুহূর্তগুলোকেই অত্যন্ত সাহসের সাথে শব্দের রূপ দিয়েছেন। এটি কেবল গদ্যকাব্য নয়, বরং এক নারীর সমগ্র সত্তা উজাড় করে দেওয়া এক দীর্ঘ আকুতি। এখানে প্রেম মানে কেবল পাওয়া নয়, বরং এক নীরব আত্মনিবেদন। কোথাও অভিমান আছে, কোথাও অনন্ত অপেক্ষা, আবার কোথাও নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার লড়াই। লেখিকার ভাষাভঙ্গি কোনো কঠিন ব্যাকরণ বা ছন্দের নিগড়ে বন্দি নয়, বরং তা সহজ, সাবলীল এবং সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে। পড়তে পড়তে মনে হয়, এ যেন কোনো ডায়েরির পাতা থেকে উঠে আসা সেই সব সত্য, যা আমরা সচরাচর কাউকে বলতে পারি না। "আমি জানি, তুমি বাঁধা পড়েছ তোমার নিজের মনের ভাঙা আরশিতে। টুকরো হয়ে যাওয়া সব প্রতিবিম্ব মিলেমিশে তা যখন একটি মুখে এসেই মিশে। " ( কবিতা : হৃদয়ের ক্যানভাস - ২) ✍️ সবশেষে বলব, 'কী লিখি তোমায়' কেবল একটি বই নয়, এটি একাকী মুহূর্তের এক বিশ্বস্ত সঙ্গী। যারা শব্দের চেয়ে অনুভবের গভীরতা বেশি খোঁজেন, তাদের বুকশেলফে এই বইটি এক বিশুদ্ধ ও সাহসী সংযোজন হিসেবে টিকে থাকবে। সমকালীন সাহিত্যের ভিড়ে এটি একটি স্নিগ্ধ পশলা বৃষ্টির মতো, যা পাঠকের মনে দীর্ঘক্ষণ রেশ রেখে যায়। "আমার অনাঘ্রত প্রেম তোমার কাছেই থাকুক তোমার বিস্মৃতি তোমার নীরবতার হিমে ম্লান হবে না তা শব্দ বাক্যে সাজাবে হয়তো তারে তোমার কুয়াশা দিনে হে সখা, হে প্রিয়তম! থাক শুধু অমলিন এইটুকু পরিচয়! ... ইতিহীন ইতি । ( কবিতা : শেষ পৃষ্ঠার ইতিহীন চিঠি )


শিরিন শবনমের কাব্যগ্রন্থ ‘কী লিখি তোমায়’ হাতে পাওয়ার পর থেকে এক অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করছে। বইয়ের মলাটটা ঠিক যেন মনের আয়না—সেই নীল ফুলের স্তবক আর জ্বলন্ত মোমবাতি এক সৃজনশীলতার কথা বলে। বইটির সূচিপত্র দেখলেই বোঝা যায় এটি কোনো সাধারণ কবিতার বই নয়। ‘আদিম আলোকপ্রভা’, ‘নিউরনের করিডোর’ কিংবা ‘অদেখা সময় গড়ায়’-এর মতো শিরোনামগুলোই বলে দেয় কতটা গভীর অর্ন্তরদৃষ্টিতে লেখক জীবকে দেখে। ফ্ল্যাপে লেখক লিখেছে তিনি কবিতার ব্যাকরণ বা ছন্দ বোঝেন না, কিন্তু তাহার এই ‘উপলব্ধিকথন’গুলো আসলে আত্মার গভীর থেকে আসা এক একটি বিশুদ্ধ সুর। প্রতিটি লেখায় এক ধরণের সাহসিকতা আছে, যা পাঠকদের মনে করিয়ে দেয় যে—কবিতা আসলে মানুষের মনের এক স্বচ্ছ প্রতিফলন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ ‘কী লিখি তোমায়’ থেকে ‘শেষ পৃষ্ঠার ইতিহীন চিঠি’ পর্যন্ত প্রতিটি পাতায় লেখক নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। লেখকের এই কাব্যিক পথচলা দীর্ঘ হোক। কলমের এই সাহসের জয় হোক। আমি নিশ্চিত, বইয়ের এই শব্দের বুনন আর অনুভূতির ছোঁয়া প্রতিটি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করবে। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো।
শিরিন শবনমের "কী লিখি তোমায়" কাব্য গ্রন্থটির প্রত্যেকটা কবিতা যেনো রত্নাকর থেকে বেড়িয়ে আসা একেকটা অমূল্য রত্ন যা স্বতন্ত্রভাবে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত....! প্রেমের অনুভূতি হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এবং ব্যক্তিভেদে তা আলাদা হয়ে থাকে, কিন্তু এই প্রতিভাবান কবি যেনো সকল প্রেম পিয়াসিদের একই বীণার তারে বেঁধে একই সুর বাজিয়েছেন । তাই কবিতা পড়ে প্রতিটা পাঠকের মনে হয় এ যেনো আমারি কথা, এ যেনো আমারি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ।























