

Buy হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ ধর্মের ইতিহাস Online in Bangladesh
লেখক: ড. জিয়াউর রহমান আযমী
- Author: ড. জিয়াউর রহমান আযমী
- Publisher: কালান্তর প্রকাশনী (সিলেট)
- Isbn: 978-984-96590-0-6
- Number Of Pages: 175
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ভারতবর্ষ হলো হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মের উৎপত্তিস্থল। এই চারটি ধর্ম একত্রে ভারতীয় ধর্ম নামে পরিচিত। বর্তমানে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্ম যথাক্রমে বিশ্বের তৃতীয় ও চতুর্থ বৃহত্তম ধর্মবিশ্বাস। এই ধর্মগুলোর প্রতিটির মধ্যেই রয়েছে প্রগাঢ় সম্পর্ক। ভারতীয় সমাজে এসব ধর্মের প্রভাব ছিল অপরিসীম।হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মের ইতিহাস গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে ভারতবর্ষের ধর্মসমূহের উপাখ্যান। আর এগুলোর রেফারেন্স আনা হয়েছে সেসব ধর্মের লেখকদের লেখা থেকেই। গ্রন্থটিতে দেখানো হয়েছে সেখানের অসংখ্য মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে গাছ-পাথর, মানুষ-জিন ও প্রাকৃতিক শক্তিগুলোকে উপাস্যরূপে কীভাবে গ্রহণ করেছে।গ্রন্থটি অধ্যয়নে পাঠক হয়তো সৌভাগ্যের পরশে সিজদাবনত হবেন দয়াময় রবের দরবারে। অনুধাবন করবেন, আল্লাহর দরবারের একটি সিজদা কীভাবে আপনাকে মুক্তি দিয়েছে অসংখ্য সৃষ্টির সামনে মাথা ঝোঁকানো থেকে। আলহামদুলিল্লাহি আলা নিমািতল ইসলাম।গ্রন্থটি রচনা করেছেন ড. জিয়াউর রাহমান আজমি। ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের বিলিরিয়াগঞ্জে এক ধনাঢ্য হিন্দু-পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাঁর নাম ছিল বাঁকেলাল। ১৬ বছর বয়সে তিনি মাধ্যমিক স্তরে অধ্যায়নকালে ইসলামগ্রহণ করেন। পরে জিয়াউর রাহমান নাম গ্রহণ করেন। স্বজাতির নিগ্রহের শিকার হয়ে তিনি প্রথমে পাকিস্তান, এরপর সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মক্কার কিং আবদুল অািজজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।কর্মজীবনে তিনি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর নিযুক্ত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। হাদিস অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জুলাই এই মহান মনীষী ইনতিকাল করেন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

চারটি ধর্ম সম্পর্কে বিশদভাবে বলা হয়েছে।বিশেষ করে হিন্দু ধর্ম নিয়ে।এ সব ধর্মের মধ্যকার আন্তসম্পর্ক আর যোগাযোগ ভালোভাবে বুঝা যায়।অনেক কিছু জানতে পেরেছি।
বইটি অসাধারণ তবে আমার একটা জায়গায় প্রশ্ন রয়েছে: লেখক ৭৯ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন "বিষ্নু মোট ১০টি অবতারে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তন্মধ্যে রাম ও কৃষ্ন বেশি পরিচিত।" লেখক ৯৫ পৃষ্ঠায় লেখেন "তিনিই ব্রম্মার অবতার কৃষ্ন"। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী ব্রম্মা হল সৃষ্টির দেবতা আর বিষ্নু হচ্ছে খাদ্যের দেবতা।
মূলত হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এই চারটি ধর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রয়োজনীয় ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দু ধর্ম নিয়ে এমন সাজানো গোছানো আলোচনা আমি কোথাও পাইনি। পাশাপাশি লেখক প্রতিটি ধর্মের প্রারম্ভিক ইতিহাস, ধর্ম গ্রন্থের ইতিহাস ও এর প্রকারভেদ, সমাজের শ্রেণিবিন্যাস, এদের আচারবিধি, উপদল, উপাসনা, ধর্মবিশ্বাস, ধর্মগুরু ইত্যাদি নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে লেখক প্রতিটি আলোচনার পরে উক্ত বিষয়কে সেই ধর্মের ধর্মবেত্তাদের দিয়েই চমৎকারভাবে খণ্ডন করেছেন। এরপর সেই বিষয়ে কুরআন থেকে ইসলামের মাহাত্ম তুলে ধরেছেন। লেখক পূর্বে হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন বিধায় তাঁর কাছে এর নিগূঢ় রহস্যগুলো উন্মোচন ছিলো।

মুকারানাতুল আদইয়ানের শিক্ষার্থী ও দায়ীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য একটি বই। লেখক নিজেও একজন নওমুসলিম। ফলে তুলনামুলক বয়ানটা তিনি বেশ সাবলিলভাবেই দিতে পেরেছেন। যা সাধারণ পাঠকদের ও বোধগম্য হবে ইনশাআল্লাহ। এমন একটি প্রয়োজনীয় বই আমাদের হাতে ঝরঝরে অনুবাদে তুলে দেয়ায় এর প্রকাশক অনুবাদক সবাইকে আল্লাহ উত্তম জাযা দান করুন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মের ইতিহাস~ তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে যারা পড়তে আগ্রহী তারা এই বইটির মাধ্যমে শুরু করতে পারেন। বইটিতে অনুবাদক প্রসিদ্ধ চারটি ধর্ম নিয়েই সহজভাবে অনুবাদ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পাঠকের পড়তে যেয়ে মনে হবে না এটি একটি অনুবাদ৷ বেশ সহজ সাবলীলভাবে ভারতবর্ষের চারটি ধর্ম নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে৷























