

Buy দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান Online in Bangladesh
লেখক: মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহা. ইয়াহইয়া
- Author: মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহা. ইয়াহইয়া
- Publisher: আল-আমিন রিসার্চ পাবলিকেশন
- Number Of Pages: 400
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দেওবন্দ আন্দোলন'; ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান বইটি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড সমূহের ফযিলত জামাতে 'তাহরিকে দেওবন্দ' বিষয়ে পাঠদানের জন্য রচিত পাঠ্যপুস্তক। যুগ-চাহিদার প্রেক্ষিতে তা রচনা করেছেন উস্তাযুল আসাতিযা, লেখক ও গবেষক জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকার উস্তাযুল হাদিস মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহ.। বইটির বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লেখকের কথায় এবং অন্যান্য আলেম লেখক ও গবেষকের আলোচনায় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ দিন যাবৎ এটি পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। অনেক সময় ছাত্র ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বইটি সহজ-সরল ভাষায় আরও সংক্ষেপে উপস্থাপনের অনুরোধ করা হয়। বেফাকের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও বইয়ের কলেবর কমানোর দাবি জানানো হয়। সুতরাং এই সংস্করণে বইটি আংশিক পরিমার্জন করা হয়েছে। কম প্রয়োজনীয় কিছু বিষয় একেবারে বাদ না দিয়ে টিকায় সংযুক্ত করা হয়েছে। যাতে আলোচ্য বিষয়ের ধারাবাহিকতা বুঝতে কষ্ট না হয়। ভাষা ও বানানরীতি সহজ ও আধুনিক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় টীকা ও উদ্ধৃতি সংযোজন করা হয়েছে। পাঠচর্চায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং বেফাকের প্রশ্নমালা যুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি, বইটি সবারই কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

যতটুকু শুনেছি, এই বই কওমি মাদ্রাসার বোর্ড বইসমূহ থেকে বাতিল করা হয়েছে। জানি না কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তারা ভুল করেছে। এই বইটি অনেক তথ্যবহুল। যারা ইতিহাস পড়তে পছন্দ করেন, অবশ্যই বইটি নিবেন।
ইতিহাস অনেকের কাছেই একঘেঁয়ে লাগে। কিন্তু এমন কোনো বই পড়েছেন কি, যেটা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে শত বছর আগে ফিরে গিয়েছেন, সবকিছু চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন? যেটা পড়তে পড়তে আরো বেশি জানার আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে? 'দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান' বইটি পড়তে পড়তে যেন চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছিলাম, আকবরের দ্বীনে ইলাহির বিরুদ্ধে মুজাদ্দিদে আলফে সানির সংগ্রাম ও সংস্কারমূলক ভূমিকা, সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে গিয়ে দীপ্ত কণ্ঠে হক্ব প্রচার, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী ও তাঁর সঙ্গীদের কার্যক্রম, তাঁর সু্যোগ্য পুত্র মর্দে মু*জা*হি*দ শাহ আব্দুল আযিয ও আহমদ শহীদদের সংগ্রামী জীবন, খেয়ে না খেয়ে কণ্টকাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে, পাহাড়ি পাথুরে পথে ক্ষত বিক্ষত হয়ে, নানা বাধা বিপত্তিরও মোকাবেলা করে ইসলাম কায়েমে তাঁদের দুর্বার গতিতে ছুটে যাওয়া, অপরাজেয় হয়ে টিকে থাকা ও ইসলামের শত্রুদের আতঙ্ক হয়ে যাওয়া, আজকের মাজলুম উম্মতের এই কাশ্মীরেও পৌছেছিলো যাঁদের সংগ্রাম সাধনা... তাঁদের আদর্শে প্রভাবিত হয়ে বাংলাদেশে ইংরেজ নীলকরদের বিরুদ্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন, তাঁদের আদর্শ ধারণকারী আরো একজন–নিসার আলি ওরফে তিতুমীরের প্রচেষ্টা মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার, যিনি বায়াত হয়েছিলেন আহমদ শহীদ (রহ) এর কাছে। তিতুমির মক্কায় অবস্থানকালীন ৫ বছর সাধনায় অর্জন করেছিলেন দ্বীনি ইলম ও রুহানিয়্যাত। এরপর সিপাহি বিপ্লবে মুসলিমদের তেজোদ্দীপ্ত ভূমিকা, পরবর্তীতে ইংরেজদের দ্বারা রচিত এক নির্মম ইতিহাস, গণহারে আলেম ও সাধারণ মুসলিম নিধনের মিশন... এমনকি কেউ মারা গেলে জানাজা পড়ানোর মতো আলেমও তারা অবশিষ্ট রাখেনি! আল্লহ তাঁর দ্বীনের আলো কখনোই নিভে যেতে দেন না, প্রেক্ষাপট তৈরি হলো দেওবন্দ আন্দোলনের। উম্মাহর সেই ঘোর সংকটকালে, কাশেম নানুতুবি, হাজী আবেদ হুসাইন, মাওলানা জুলফিকার আলি, মাওলানা ফজলুর রহমান প্রমুখদের আল্লহ কবুল করলেন আযাদী আন্দোলনের এক নয়া অধ্যায় রচনায়। ইংরেজবিরোধী আগ্রাসনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে দেওবন্দ। যে সময়ে সকল মাদ্রাসা বিলুপ্ত করে দেওয়া হচ্ছিলো, কেড়ে নেওয়া হচ্ছিলো জমি, সে সময় ইলমের নূর পুনরায় ছড়িয়ে দেয় দেওবন্দ। যে সময় ইংরেজদের মদদে কাদিয়ানি, বিদআতি, শিয়া, পশ্চিমা চিন্তা ও ওরিয়েন্টালিস্টদের দ্বারা প্রভাবিত শ্রেণি, হিন্দু আর্য সম্প্রদায়ের ফিতনা, খ্রিষ্টান মিশনারীদের দৌরাত্ম, মাহদি দাবিদারদের অপতৎপরতা, ইনকারে হাদিসের ফিতনাসহ নানান আকিদার বিচ্যুতিতে মুরতাদ হয়ে যাচ্ছিলো অনেকে। প্রয়োজন ছিলো সঠিক ইলমের বিস্তার ও দাওয়ারি তৎপরতা। অক্লান্ত নির্ঘুম সংগ্রামে উলামায়ে দেওবন্দ ছুটে বেড়িয়েছেন ভারতবর্ষের সকল দিকে, বিলিয়েছেন ইসলামের নূর। পাশাপাশি ইংরেজদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সংঘটিত করা ও তাদের আগ্রাসন থেকে ভারতবর্ষকে মুক্ত করতে মদনী (রহ) ও তাঁর সাথীরা চালিয়েছেন কঠোর সংগ্রাম। নতুন সৃষ্টি হওয়া পাকিস্তানেও তাঁদের কার্যক্রম থেমে থাকেনি, পাকিস্তানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও তাঁরা চুপ থাকেননি, সর্বাবস্থায় ইনসাফপূর্ণ ইসলামি খি*লা*ফ*ত কায়েম, শ*র*য়ী আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংগ্রাম করে গেছেন। রহিমাহুমুল্লহ। এসব ইতিহাসে ডুব দিয়ে বই বন্ধ করে বাস্তবে ফিরে এলে এক ভীষণ শূন্যতা অনুভব হচ্ছিলো, কোথায় আমাদের সেই নেতারা! সূরা বাকারার সেই আয়াতটা মাথায় বেজে উঠছিলো, তিলকা উম্মাতুন কদ খলাত, আর সেই আয়াতটাও, আসলুহা সাবিতুন ওয়া ফারউহা ফিস সামা–... অবশ্য এখনো ভারতবর্ষের উম্মতের মাথার উপর বটগাছের ছায়া হয়ে আছে উলামায়ে দেওবন্দ, সচেতন করে যাচ্ছে উম্মাহকে, লড়ে যাচ্ছে বিদআতি, কাদিয়ানি, মিশনারী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ও হাজার হাজার বিধর্মীকে ইসলামের আলোয় আনতে উসিলা হচ্ছে, ভ্রান্ত সব আদর্শ ও ইজমের আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও সচেতনতা ছড়াচ্ছে। হাফিজাহুমুল্লহ। দিনশেষে একটি দল থাকবেই হকপন্থীদের আকিদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার, ওয়াহাবি ট্যাগ দেওয়ার। সেসব ভ্রান্তি নিরসনে সঠিক ইতিহাস জানার এবং নিজেদের ইলমি যোগ্যতা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।























