

Buy বং থেকে বাংলা Online in Bangladesh
লেখক: রিজিয়া রহমান
- Author: রিজিয়া রহমান
- Publisher: ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ
- Isbn: 9789849046318
- Number Of Pages: 304
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"বং থেকে বাংলা" বইয়ের সম্পর্কে কিছু কথা:বাংলা, বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা বিবর্তন শেষে দীর্ঘদিনে একটি জাতির পূর্ণতা প্রাপ্তি ও স্বাধীন জাতি হিসেবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ভাবে মাথা তুলে দাঁড়াবার ইতিহাস-ই বং থেকে বাংলা উপন্যাসের মূল পটভূমি। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে শুরু করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিজয় গৌরব অর্জন পর্যন্ত প্রায় আড়াইহাজার বছরব্যাপী প্রবহমান ইতিহাসবর্ণিত এই উপন্যাসে রয়েছে একটি বিবর্জিত মানবগােষ্ঠীর জাগরণ ও উত্থানের কাহিনি। বইটি লিখতে সময় লেগেছিল প্রায় ৪ বছর-১৯৭২ থেকে ১৯৭৫।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

Very Good.
রিজিয়া রহমান বাংলা সাহিত্যের একজন কিংবদন্তি লেখিকা।উপন্যাস ও ছোট গল্পের শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ। 'বং থেকে বাংলা' তাঁর ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক একটি গ্রন্থ। বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের উত্থানের ইতিহাস এই গ্রন্থে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ধারাবাহিকভাবে। ২৫০০ বছরের আগের বং কিভাবে বং থেকে বঙাল এবং পরে বাংলা হয়ে উঠলো, সেই ইতিহাস তিনি অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন যা আপনাকে বাংলা তথা বাঙালি জাতি সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা প্রদান করবে।

বিষয়বস্তু ভাল। কিন্তু লেখার মান গড়।
ঐতিহাসিক উপন্যাস সবসময়ই পড়তে আমার ভাল লাগে। এই উপন্যাসটি অনেকদিন ধরে পড়ার লিস্টে ছিল, আলসেমি করেই পড়া হয়নি। আজ দুপুরে হঠাৎ বুকসেলফের ঘাটতে গিয়ে ভাবলাম আজকে এটা পড়তেই হবে। আর সারাদুপুর আমি আজ ভ্রমণ করলাম বং থেকে সমতট, বংগাল থেকে পূর্ব পাকিস্তান আর শেষে এসে পৌঁছলাম চিরচেনা বাংলাদেশে। তিনশ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসের ব্যাপ্তি আড়াই হাজার বছরের- অতি প্রাচীন কাল হতে ১৯৭১ পর্যন্ত। বং আর এলা নামের দুই তরুণ-তরুণীর সাথে আমরা পা রাখি নদী, বন আর নরম মাটির এক বদ্বীপে, যার তখনো কোন নাম নেই, সময়ের সাথে আমরা পরিচিত হই বংগাল জাতির সাথে, যাদের নামে এই ভূমির নাম হয় বংগাল। সেই সাথে থাকে আর্য যুবক নীলাক্ষ যে কিনা এক বংগাল রমণী প্রেমে হয়ে ওঠে বংগাল, আবার বনিক নীলাদ্রীর সাথে দেখি বৈদিক আর বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে বেড়ে চলা সংঘাত। পাল রাজা আর সেন রাজাদের যুগে জাতিচূত্য কমল আর মলুহা গ্রহন করে ভেদাভেদ বিহীন ধর্ম ইসলাম। দেখি দুর্ভিক্ষের সময় মাকে তার সন্তানের হত্যা করতে। পর্তুগীজ যুবক সিলভেরা বাংলার নারীর প্রেমে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়, নিমাই প্রচার করে মানবপ্রেমের গান। নীলকুঠির অত্যাচার আর বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন আর অবশেষে যুদ্ধের পরে সোনার বাংলাদেশ। এ যেন ইতিহাসের পেছনের ইতিহাস। তাই কখন যে হারিয়ে যাই সেই সময়ে মনেই থাকে না। প্রতিটি যুগ আর চরিত্রের বিস্তার মাত্র ৩০-৪০ পাতা হলেও, এইটুকু সময়ে একাত্ম হয়ে যাই তাদের সাথে, তাদের চোখে দেখি তাদের সময়, অনুভব করি তাদের হাসি কান্না। লেখিকা খুব দরদ দিয়ে, এবং খুব যত্ন নিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রতিটি সময়ের চিত্র। লেখাও অনেক সুখপাঠ্য, তাই কখন যে বই শেষ হয়ে যায় টেরই পেলাম না। খুব কম সময়ের মধ্যে বাংলার ইতিহাস জানার জন্য অত্যন্ত সুখপাঠ্য এই বই। শুধু উপন্যাস হিসেবে বিচার করলেও আমার পড়া ঐতিহাসিক বইয়ের মধ্যে প্রথম পাঁচের মধ্যেই থাকবে অসাধারন এই বইটা।
মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসের মাঝে লেখিকা অনেক সুন্দর করে বাংলার ইতিহাস তুলে ধরেছেন গল্পের মধ্যে দিয়ে। বহু বহু বছর পূর্বে, সেই পাথর যুগ হতে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের গল্প লেখা হয়েছে এবইয়ে। প্রতিটি সময়ে আলাদা চরিত্র, আলাদা মানুষেরা গল্পে এসেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে যোগাযোগ হলো তারা সবাই এই ভূখণ্ডের মানুষ। 'বং' থেকে কিভাবে 'বাংলা' হলো, সে ইতিহাস গল্পের আকারে লিখেছেন রিজিয়া রহমান।























