

Buy অন্য চোখে Online in Bangladesh
লেখক: বুদ্ধদেব গুহ
- Author: বুদ্ধদেব গুহ
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788177560442
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2000
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘ভ্ৰমণ’ পত্রিকাতে গত চার পাঁচ বছরে ‘অন্য চোখে’ শীর্ষক কিছু লেখা লিখেছিলাম। বনভ্ৰমণ আর বনভোজন যে এক নয়, বন-ভ্রমণও এক বিশেষ শিল্প এ কথা বহুদিন ধরে পাঠক-পাঠিকার মনে গেথে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। তাতে ফল যে হয়েছে তা জেনে ভাল লাগে। চোখ-নাক-কান সব মানুষেরই থাকে কিন্তু বনগামী মানুষের চোখ-নাক-কানকে বনের সব দৃশ্য গন্ধ এবং শব্দকে পুরোপুরি ইন্দ্ৰিয়গ্রাহ্য করে তোলাতে কিছু সচেতন চেষ্টার হয়ত প্রয়োজন হয়। যাতে সেই সচেতনতা পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে উজ্জীবিত হয়। সেই উদ্দেশ্যেই এই সংকলনের নামকরণ করলাম ‘অন্য চোখে’। সাম্প্রতিক অতীতে একটি পাক্ষিক পত্রিকাতে দুটি লেখা লিখেছিলাম। সে দুটিও সংকলিত হল। সংবাদ প্রতিদিন-এর রবিবাসরীয়তে ‘হায়! বড়মিঞা’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল সাম্প্রতিক অতীতে সেটিও সংযোজিত হল। -বুদ্ধদেব গুহ
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বিখ্যাত লেখক বুদ্ধদেব গুহ তার প্রতিটি লেখাতেই প্রকৃতির বর্ণনা তুলে ধরেন দক্ষতার সাথে।
বিখ্যাত লেখক বুদ্ধদেব গুহ তার প্রতিটি লেখাতেই প্রকৃতির বর্ণনা তুলে ধরেন দক্ষতার সাথে।লেখকের প্রতিভা, প্রচেষ্টা, প্রবল পর্যবেক্ষনশক্তি এক অর্থে নিজস্ব আলাদা সত্তাই রয়েছে প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করার।ভালবাসার। 'অন্য চোখে' একটি ভ্রমণ বিষয়ক রচনা। লেখকের অন্যান্য সাহিত্যকর্মে সবসময়ই প্রকৃতির কথা উঠে এসেছে।এবং এই বইতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।প্রকৃতিকে তিনি খুজতেন তার জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপকে।তাই তিনি সবার চেয়ে ভিন্ন দৃষ্টিতে তথা অন্য চোখে দেখতেন প্রকৃতিকে।কর্মসূত্রে প্রকৃতির কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছিলেন বলেই তাঁর এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি কয়েছিল। কিন্তু এই বইয়ের বিষয়বস্তু লেখকের অন্যান্য বইয়ের সাথে মিল থাক্লেও সবচাইতে বড় অমিল রয়েছে বর্ণনায়। কারন লেখকের অন্যান্য বইতে বর্ণনা রয়েছে এ দেশের প্রকৃতির। কিন্তু এ বইতে রয়েছে বিদেশের প্রকৃতির বর্ণনা। সেই সাথে আর রয়েছে প্রবাসজীবনের একাকীত্ব এর অনুভুতি। ইংল্যান্ড, ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশ, কানাডা, আমেরিকা, হাওয়াই, জাপান, থাইল্যান্ড ও পূর্বআফ্রিকা তার দেখা।বহু বিচিত্রতায় ভরপুর এবং অভিজ্ঞতাময় তার জীবন।পূর্বভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি ও বনের মানুষের সঙ্গেও তার সুদীর্ঘকালের পরিচয়।এসব কর্মের কারনে বিভিন্ন ভাবে তিনি প্রকৃতিকে আবিস্কার করতে পেরেছেন।এবং এই প্রবাসবাসে একাকী জীবনে প্রকৃতিকে তিনি যে রুপে দেখেছেন তা বলেছেন তার লেখায়। বইটিও পাঠককে কিছু সময়ের জন্য হলেও সম্মোহিত করবে।আর সে সম্মোহন এর ঘোর ভাঙতে একটু দেরিই হবে বৈকি। তাই নিঃসন্দেহে এটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই। যারা প্রকিতিপ্রেমী তাদের অবশ্যই বইটি পড়া উচিত।
বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব গুহকে যে জীবনানন্দের যোগ্য উত্তরসূরি বলে ভাবা হয়, তা কি আর এমনি এমনি? জীবনানন্দ হয়ত একজনই, প্রায়োগিক দিক থেকে তাকে ছোঁয়া দুঃসাধ্য। কিন্তু তবু প্রতিভা, প্রচেষ্টা, প্রবল পর্যবেক্ষনশক্তি, প্রকৃতি প্রেম --- এই চতুষ্টয়ের সন্নিবেশে বাংলা সাহিত্যে নিজের জন্য একটা আলাদা জায়গা গড়ে তুলেছেন বুদ্ধদেব গুহ। এ বিষয়ে যদি কারো বিন্দুমাত্র সন্দেহ থেকে থাকে, সেইসব সন্দেহবাতিক যাদেরকে ভদ্র ভাষায় আমরা বলি সমালোচক, তাদের মুখের ওপর একদম যথাযথ প্রত্যুত্তর দেবে 'অন্য চোখে' বইটি। বইয়ের নাম 'অন্য চোখে' দেয়াটা হয়েছে একটা 'মাস্টার স্ট্রোক'। প্রকৃতিকে কিংবা দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপকে তিনি যে আর সবার চেয়ে কতটা ভিন্ন দৃষ্টিতে তথা অন্য চোখে দেখতেন, সেটিরই তো যথাযথ বহিঃপ্রকাশ তিনি ঘটিয়েছেন এই বইতে। তাই বইয়ের নাম 'অন্য চোখে' হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। 'অন্য চোখে' মূলত একটি ভ্রমণ বিষয়ক রচনা। লেখকের অন্যান্য সাহিত্যকর্মের মত এটিও যথারীতি অপূর্ব সুন্দর একটি বই। লেখকের অধিকাংশ রচনাতেই যে প্রকৃতির কথা উঠে এসেছে তা তো আগেই বলেছি। এই বইতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু তবু এই বইটি স্বাভাবিকভাবেই একটু ভিন্ন ধরণের। তার কারণ প্রথমত এটি ভ্রমণকাহিনী। আর দ্বিতীয়ত, তার অপরাপর সাহিত্যকর্মে স্বদেশি প্রকৃতির রুপ ব্যঞ্জনার কথা প্রতিফলিত হলেও এই বইতে তিনি তুলে ধরেছেন প্রবাস জীবনে একাকিত্বে, একেবারে ব্যক্তি জীবনের দৃষ্টিতে আবিষ্কার করা এক নতুন প্রকৃতি ও তার বিভিন্ন উপাদানের প্রতি নিজের বিহ্বলতা। প্রকৃতি, প্রকৃতির হরেক সম্পদ আর জনজীবনকে একীভূত করে লেখা বই এটি। পড়তে পড়তে হারিয়ে যাওয়া যাবে জনকোলাহল থেকে অনেক দূরে। প্রকৃতির মধ্যে। বারবার চমকে উঠতে হবে লেখকের পর্যবেক্ষন ক্ষমতা আর প্রকৃতিপ্রেমের প্রমাণ পেয়ে। সেসব চমকের ঘোর ভাঙতে একটু দেরিই হবে বৈকি। কেননা আপনাকে চমকে দিতে তিনি যে ভয়ংকর সুন্দর শব্দচয়নের আশ্রয় নিয়েছেন, সেটি আপনাকে আরও বেশি করে অভিভুত করবে। সর্বোপরি সাহিত্যকে বাস্তবিকই শিল্পের মহিমা কেন দেয়া হয়, তার প্রমাণ মিলবে 'অন্য চোখে' বইতে। লেখক তার লেখনীর সর্বোৎকৃষ্ট ছাপটি রেখেছেন এই বইতে। তাই নিঃসন্দেহে এটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই। আর তাই এই বই আপনাকে পড়তেই হবে!
জঙ্গল ও প্রকৃতির প্রতি অভিঘাত অনুভব করে কলম ধরেছেন এমন লেখক হিসেবেই আমরা জানি বুদ্ধদেব গুহকে । শিমুল পলাশ কুসুম ফুলের সৌন্দর্যের কথা আমরা জানি তার কাছ থেকেই।কর্মসূত্রে প্রকৃতির অনেক কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছিলেন বলেই তাঁর এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হয়েছিল হয়ত। তিনি মূলত বন, অরণ্য এবং প্রকৃতি বিষয়ক লেখার জন্য পরিচিত । তার শিল্পের অধরা মাধুরী পাঠককে নিয়ে গেছে কোয়েলের কাছে চিনিয়েছে ভয়ংকর সুন্দর অরণ্যকে । নরনারীর প্রেমকে আশ্চর্য সৌন্দর্য দিয়ে উপস্থাপন করেছেন পাঠকদের সামনে । এ বইতেও প্রকৃতির প্রতি লেখকের বিশেষ দূর্বলতাটি আবারও প্রকাশ পেয়েছে । বহু বিচিত্রতায় ভরপুর এবং অভিজ্ঞতাময় তার জীবন। ইংল্যান্ড, ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশ, কানাডা, আমেরিকা, হাওয়াই, জাপান, থাইল্যান্ড ও পূর্বআফ্রিকা তার দেখা। পূর্বভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি ও বনের মানুষের সঙ্গেও তার সুদীর্ঘকালের নিবিড় ও অন্তরংগ পরিচয়। সাহিত্য-রচনায় মস্তিষ্কের তুলনায় হৃদয়ের ভূমিকা বড়- এই মতে তিনি বিশ্বাসী। হলুদ চাঁদ ও এক পাত্র খুশি ,কোয়েলের কাছে,ঋজুদা সঙ্গে জঙ্গলে এমন সব লেখা আমাদের উপহার দিয়েছেন যিনি তার 'অন্য চোখে' পড়ে দেখবেন অবশ্যই ।।
সাহিত্য-রচনায় মস্তিষ্কের তুলনায় হৃদয়ের ভূমিকা বড়- এই মতে তিনি বিশ্বাসী।এই বইয়েও তার সার্থক প্রতিফলন ঘটিয়েছন তিনি।প্রকৃতির প্রতি লেখকের বিশেষ দূর্বলতাটি আবারও প্রকাশ পেয়েছে এই বইয়ে।কর্মসূত্রে প্রকৃতির অনেক কাছাকাছি আসার সুযোগ পেয়েছিলেন বলেই তাঁর এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি কয়েছিল। সর্বপরি তাঁর অন্যান্য বইয়ের মত এই বইটিও যে পাঠককে কিছু সময়ের জন্য হলেও সম্মোহিত করবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।






















