

Buy এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য স্বাধীনতার প্রথম দশক (১৯৭১-১৯৮১) Online in Bangladesh
লেখক: মে. জে. মইনুল হোসেন চৌধুরী (অব.)
- Author: মে. জে. মইনুল হোসেন চৌধুরী (অব.)
- Publisher: মাওলা ব্রাদার্স
- Isbn: 9844101751
- Number Of Pages: 176
- Language: বাংলা
- Edition: 4th Print, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপস্বাধীনতোত্তর আমাদের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান ইত্যাদি নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা-কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ লিখেছেন। কিন্তু সে-সব গ্রন্থের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অবঃ) মইনুল হোসেন চৌধুরীর এ- বইটির তফাত হলো পূর্বোক্ত গ্রন্থগুলোর যাঁরা লেখক তাঁদের প্রায় সকলেই ঘটনাপ্রবাহের হয় ভিকটিম নয় বেনিফিসিয়ারি। তাঁদের সে অবস্থানগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের রচনায়, কমবেশি, ঘটেছে। অন্যপক্ষে একজন দায়িত্বশীল, কর্তব্যনিষ্ঠ, আইনানুগ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ সেনা-কর্মকর্তা হিসেবে লেখক শেষদিন পর্যন্ত পক্ষপাতহীনভাবে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থেকেছেন। আর এই দায়িত্ব পালনের সূত্রেই খুব কাছ থেকে সবকিছুকে দেখার, উপলব্ধি করবার সুযোগ তাঁর হয়েছে। সময়ের উচিত দূরত্বে দাঁড়িয়ে নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে সে দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন লেখক তাঁর এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য : স্বাধীনতার প্রথম দশক প্রন্থটিতে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতীয় স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েও লেখক ঘটনার মূল্যায়নে তাঁর দৃষ্টিকে দেখেছেন অনাচ্ছন্ন, দায়বদ্ধ থেকেছেন ইতিহাসের প্রতি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতীয় স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েও লেখক ঘটনার মূল্যায়নে তাঁর দৃষ্টিকে দেখেছেন অনাচ্ছন্ন, দায়বদ্ধ থেকেছেন ইতিহাসের প্রতি। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই রচনাটি যখন ধারাবাহিকভাবে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল তখনই তা সবার আগ্রহ ও মনোযোগ আকর্ষণ করে। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক চালচিত্র বুঝতেও বইটি পাঠকদের সহায়তা করবে বলে আমাদের ধারণা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

ইতিহাস আসলে যারা জানার ইচ্ছা রাখেনা, তারাই বলে ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। এই বইটি সহ আমি আরো ১৫/১৬ টি বই পড়া শেষ করলাম। যা জানতে পারলাম এসকল বই থেকে যে তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর মাঝে ক্ষমতার প্রচুর লোভ ছিলো। যার কারণেই শেখ মুজিব হত্যা, জেনারেল জিয়া হত্যা সংঘটিত হয়। দেশের চরম শত্রু ছিলো জাসদ, এরশাদের দূর্নীতি এবং অনিয়মের কথা, শেখ মুজিবের ব্যার্থতা, জিয়াউর রহমানের কেবিনেটে রাজাকার, দূর্নীতিবাজ লোকজন, এসকল বিষয় গুলো প্রায় আমার পড়া সকল বইয়েই কমন পেলাম। তবে এই লেখকের বইয়ে লেখক জিয়াউর রহমানের ব্যাপারে কিছু কথা আড়াল করেছেন, যা স্পষ্ট। এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত।
৭০-৮০ এই দশকের ইতিহাসের পাঠ টা ৮০ পরবর্তী প্রজন্মের কাছেই কেমন যে ধোঁয়াচ্ছন্ন। আর নতুন প্রজন্মের কথা তো ভাবাই যায় না। কিন্তু উক্ত সময়ের ইতিহাসের বইগুলো কিনতে অথবা পড়তে, আমার মত ইতিহাসপ্রেমী পাঠক যার কিনা আমাদের দেশি ইতিহাস লেখকদের লেখা পড়ার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল না, তারা হয়ত একটু ইত:স্তত বোধই করতেন। কারন এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কে অধিকাংশ লেখকই নির্মোহ জায়গা থেকে দেখেন নাই অথবা দেখাতে চান নাই। কিন্তু এই বইটি পড়ে আমি এতই মুগ্ধ হয়ে গেছি যে লেখক সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মইনুল হোসেন কে শ্রদ্ধা না জানিয়ে থাকতে পারা গেল না।। আপনাকে এই দেশটার জন্মের কঠিন সময়ে কঠিন সব দায়িত্ব গুলো পালন করার জন্যে আমার প্রজন্মের পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে গেলাম। বাংলাদেশ আপনাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে লেখা অন্যতম সেরা বই। লেখক এখানে লিখেছেন তার মধ্যে ৯৯% ই তার চোখে দেখা দাবি করলে তা ভূল হবেনা। তিনি অত্যন্ত যত্নের সাথে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যেন ইতিহাসের সাথে তার ব্যাক্তিগত মতামত মিশ্রিত হয়ে ইতিহাস বিকৃত না হয়। কিছু কিছু জটিল বিষয় তিনি খুব সহজ ও অল্পকথায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমার পড়া মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী Eyewitness Account এর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের বই। বইটি তিনি শুরু করেছেন মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে এবং শেষ করেছেনও মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে।


বইটিতে মূলত ৭১ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী শাসক এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ পর্যন্ত সময়াকালের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে বেশ অনেকগুলো বিষয় জানা থাকলেও নতুন করে বেশ কিছু বিষয় জানতে পেরেছি। এন্থনি মাসকারেনহাসের লিগেসি অফ ব্লাড যে এরশাদের প্রণোদনাতে লেখা, এটি জানা ছিলো না। তার কাছে থেকে বাংলাদেশ সরকার তৎকালীন সময়ে ২৫ হাজার পাউন্ড পেত, যা কিনা কখনই ফেরত পাওয়া যায় নি এই বিষয়টি বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। এর বাইরেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে জড়িতদেরকে কিভাবে পরবর্তী সময়েগুলোতে বিভিন্ন পদে স্থাপন করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, এদের বিষয়তে তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনী ও রাজনীতিবিদরা কি ধারণা পোষণ করতেন, এ বিষয়ে বেশ ভালো একটা ধারণা পাওয়া যায়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উত্থানের আলোচনা উঠে এসেছে এই বইতে, যেটা আগে সেভাবে পড়া হয় নি। সব মিলিয়ে চমৎকারই বলতে হবে বইটিকে। লেখনী খুব একটা সাবলীল বা গোছানো মনে হয় নি। তবে ফ্যাক্ট টেলিং এর ক্ষেত্রে নিউট্রালিটি বজায় রাখাটা বেশ কষ্টসাধ্য হলেও, এই ক্ষেত্রে লেখককে এই দায়িত্ব চমৎকারভাবেই পালন করতে দেখা গিয়েছে বলে মনে করি।


Very good quality books.























