

Buy স্মৃতির শহর (আত্মস্মৃতি) Online in Bangladesh
লেখক: শামসুর রাহমান
- Author: শামসুর রাহমান
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789848765593
- Number Of Pages: 88
- Language: বাংলা
- Edition: 5th Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
কবি শামসুর রাহমান জšে§ছিলেন ঢাকা শহরে (জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯২৯, মৃত্যু: ১৭ আগস্ট ২০০৬)। ঢাকা তখন ছিল ফাঁকা ফাঁকা। মানুষের এমন দমবন্ধ অবস্থার কথা তখন কল্পনাও করা যেত না। এত দালানকোঠা আর পিঁপড়ের সারির মতো গাড়ি ছিল না। ছিল পাড়ায় পাড়ায় আস্তাবল, ঘোড়ার গাড়ি, গাড়োয়ান, বাতিঅলা, ভিস্তিঅলা, ফেরিঅলা। গলির ভেতরে ছোট-বড় বাড়িতে ছিল মানুষের বাস। স্কুল ছিল, মসজিদ-মন্দির ছিল, আর ছিল পালাদ-পার্বণে নানা আনন্দ-উৎসব। এসবের ভেতর দিয়ে শৈশব-কৈশোরে বেড়ে উঠেছেন কবি। সেই সব দিনের আনন্দ-বেদনার স্মৃতিকথা লিখেছেন সরল-সুন্দর গদ্যে। কিশোরদের জন্য তো বটেই, বড়দের জন্যও খুবই উপভোগ্য একটি বই।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
হুমায়ূন আজাদের 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না’ হচ্ছে তার গ্রাম নিয়ে লেখা আত্মস্মৃতি। আর শামসুর রহমানের আত্মস্মৃতি—‘স্মৃতির শহর’ হচ্ছে শহর নিয়ে। ঢাকা শহর নিয়ে। কবির বেড়ে ওঠা, শৈশব-কৈশোর পার করা, একাকী আনমনে ঘুরেবেড়ানো পিঁপড়ার সারির মতো শত-শত দালান বিহীন গ্রামের ন্যায় প্রায় ১০০ বছর পূর্বের সুন্দর ঢাকা শহর নিয়ে। কবি যে সুন্দর ভাষায় তার স্কুলে পড়া বয়সে দেখা ঢাকা শহরের বর্ণনা দিয়েছেন, এককথায় অসাধারণ, অতুলনীয়। কোনো পাঠকের, বিশেষ করে বাংলা-সাহিত্যের কোনো পাঠকের এই বই না-পড়া থাকতে পারে না।

বইয়ের নাম দেখে কে ভাবতে পারবে এর ভিতরে কী আছে! স্মৃতিচারণ তো অনেকেই করে। কিন্তু কবি শামসুর রহমানের মত এভাবে সম্ভব? ইট-পাথরের এই ঢাকা শহরটাই লেখকের কলমে হয়ে উঠেছে রূপকথা। স্মৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা অনুভুতি, ইতিহাস আর চরিত্রের মিশেলে সুখপাঠ্য একটা বই।

অসাধারণ

বইয়ের নামঃস্মৃতির শহর লেখকঃশামসুর রাহমান প্রকাশনীঃপ্রথমা প্রকাশন মূল্যঃ১৭৬টাকা কবি শামসু রাহমান তার এ বইটিতে ঢাকা শহরকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা যেন শিল্পীর তুলির আঁচড়। খুবই সাধারণ অথচ সাধারণত্বের মাঝেই না কত সৌন্দর্য ভাবে একটি বই লেখা যায় তা এই বইটি না পড়লে জানতে পারতাম না।শামসুর রাহমানের মত আমিও পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছি, বেড়ে উঠেছি আর ঢাকাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি বলেই কি না, বইটা পড়ার পর এটির উপর এক অদ্ভুত মায়া পড়ে গেছে, মাঝে মাঝে এমনিতেই পাতা উল্টাতে, একই লাইন বারবার পড়তে খুব ভালো লাগে এখন। আমি এই তেইশ বছরের জীবনে এসেই যতখানি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হই প্রায় সময়ই, এই বই যেন বেদনাবোধটা আরো কয়েকগুণে বাড়িয়ে দিলো। এক অদ্ভুত বেদনা লেখক বইটিতে তুলে ধরেছেন। ঢাকার সেই ভেঙে ফেলা পুরানো বাড়িগুলার মত এক বেদনা, তাদের গায়ে লেপ্টে থাকা শ্যাওলার মতো।'স্মৃতির শহর' পড়তে গিয়ে মস্তিষ্কের এমন এক চিন্তা চলে এলো যেখানে মিষ্টি সব স্মৃতি জমা।প্রথমে পড়তে গিয়ে রহস্যময় মনে হয়েছিল। একটু মন দিতেই লেখকের সাথে সেই আমলের ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাট ঘুরে ফেললাম। শাঁখারি বাজার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ ঘুরে-টুরে লাইব্রেরির গল্পে এসে শেষ হলো বইটা। পড়ার পর থেকেই মুগ্ধতা কাজ করছে। কী চমৎকার একটা বই।লেখকে কলমের নিখুঁত লেখনিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে একেকটা গল্প।

চার শতকের পুরনো শহর ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন শামসুর রাহমান।চল্লিশের দশক থেকে দীর্ঘকাল কাটিয়েছেন একদা তিলোত্তমা এ নগরীতে। মূলত শামসুর রাহমানের কৈশরে দেখা চল্লিশ আর পঞ্চাশের দশকের ঢাকার স্মৃতিময় ঘটনাই এ গ্রন্থের মূল আকর্ষণ। শামসুর রাহমানের শৈশবের ঢাকা কতই না চমৎকার ছিলো। চারপাশে নানা নতুনত্বের ছড়াছড়ি! পিঠে বুড়ি আর তার গল্প, ভিস্তিওয়ালা জীবনে প্রথম স্কুলে যাওয়া। স্কুলে বন্ধুদের সাথে মজা করা, শিক্ষকদের শাসন -স্নেহের বাঁধন আর সেই সাথে ঢাকার (তখন ঢাকা বলতে পুরান ঢাকাকেই বোঝাতো) নবাববাড়ি, মহরমের অনুষ্ঠান, চকবাজার,হোসনীদালান, লালবাগ কেল্লা আর আন্টাঘর (ভিক্টোরিয়া পার্ক) কে ঘিরে কতোশতো ঘটনা আর ইতিহাসের ঘনঘটা। নিঃসন্দেহে ৫ তারকা।























