

Buy গজেন্দ্র কুমার মিত্রের রচনাবলী (১ম- ৯ম খন্ড) Online in Bangladesh
লেখক: গজেন্দ্র কুমার মিত্র
- Author: গজেন্দ্র কুমার মিত্র
- Publisher: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ (ভারত)
- Number Of Pages: 4218
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
গজেন্দ্র কুমার মিত্রের রচনাবলী (১-৯ম খন্ড) ভূমিকাশ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যের জন্য যেমন প্রয়োজন বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গী, তেমনি গরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কল্পনার সহযোগিতা। শ্রীযুক্ত গজেন্দ্রকুমার মিত্রের গল্প-উপন্যাসে এই দুই ধারার যথার্থ' মিলন হয়েছে, তা তাঁর রচনাবলীর এই খণ্ডে দুটি উপন্যাসের ( ‘রাত্রির তপস্যা’—১৯৪৮, ‘কলকাতার কাছেই – ১৯৫৭ ) কথাবস্তু আলোচনা করলেই বোঝা যাবে। একটিতে ('রাত্রির তপস্যা') বাস্তবের সঙ্গে কল্পনার মিশ্রণ ঘটেছে উপন্যাসের স্বাভাবিক রীতিতে। আর একটিতে ( ‘কলকাতার কাছেই' ) কল্পনাবর্জিত নিছক বাস্তবতা, তিক্ত জীবন- ধারণের গ্লানি ও নৈরাশ্য এবং বঞ্চনা প্রতিটি মহত কে দঃসহ করে তুলেছে ।‘রাত্রির তপস্যা’ গজেন্দ্রকুমারের সাহিত্যকৃতির প্রথম পর্বের সার্থক সৃষ্টি। ইতিপূর্বে— তাঁর অনেকগুলি গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে এবং তাতে তাঁর রচনারীতি ও মনঃপ্রকৃতি পূর্ণতা লাভ করেছে। ‘রাত্রির তপস্যা' এই পর্বে র সর্বাধিক পরিণত উপন্যাস ।ভূপেন্দ্র আদর্শবাদী দরিদ্র ছাত্র, নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যৌবনে উপনীত হল এবং মফঃস্বলের শিক্ষকজীবনকে বৃত্তি বলে গ্রহণ করল, কিন্তু কাজে যোগ দিয়ে এবং শিক্ষকবৃত্তির অধঃপতন দেখে বিস্মিত ও বিষণ্ণ হল । দিনগত পাপক্ষয়ের বৃত্তিকে নীচতা ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য সমস্ত বিরুদ্ধতার বিরদ্ধে তার নিঃসঙ্গ সংগ্রাম এই উপন্যাসের মূল কথা। কঠোর বাস্তব ঘটনা ও ক্লেদাক্ত নীচতার পাষাণপ্রাচীরে আহত হয়ে অনেকেরই শিক্ষক- বৃত্তির স্বপ্নের ফলগগুলি ফাটবার অবকাশ পায় না। কেউ আশাহীন আনন্দহীন বৃত্তি ত্যাগ করে অন্য জীবনে চলে যায়, কেউ বৃথা বাদ-প্রতিবাদের মধ্যে না গিয়ে সেই অপ্রীতিকর জীবনকেই আঁকড়ে ধরে কায়ক্লেশে বেঁচে থাকে। আবার মষ্টিমেয় দু-একজন শত্রু যে শিক্ষার উচ্চতম আদর্শ' আঁকড়ে থাকে তা নয়, দূষিত পরিবেশ ও ভ্রষ্টাচার থেকে শিক্ষকদের সেই আদর্শের ছত্রছায়ায় আনতে চেষ্টা করে। হয়তো তারা ব্যর্থ হয়, কিন্তু কখনো নৈরাশ্যের বলি হয় না । ভূপেন্দ্র মরচে-ধরা লৌহপিণ্ডবৎ শিক্ষকজীবনকে স্বর্ণ খণ্ডে রূপান্তরিত করতে চেষ্টা করেছিল। গজেন্দ্রকুমার এই উপন্যাসে এমনি একটি যুবকের স্বপ্নকে সার্থক করতে চেয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে এই উপন্যাসে তিনি শিক্ষা, শিক্ষকজীবন ও গ্রাম্য পরিবেশের যে নিঃশ্বাসরোধী ধূম্রজালের বাতাবরণ এঁকেছেন তার নিষ্প্রাণ, নিরৎসক ও প্রায়-নিঃস্পন্দ পরিবেশ ও চরিত্র আমাদের চেতনাকেও যেন অসাড় করে ফেলে। শিক্ষকজীবনের এই জ্বালা-যন্ত্রণা, হতাশা ও আদর্শ - হীনতার ধূমাঙ্কিত কালিমা ভূপেন্দ্র নিজের জীবন থেকে মুছে ফেলেছে । প্রতিকলে গ্রাম্য পরিবেশ ও আদর্শ ভ্রষ্ট শিক্ষকদের সাহচর্যে থেকেও সে নতুন প্রভাতের স্বপ্ন দেখেছে। হয়তো দুটি-একটি ব্যক্তি, দু-একজন বালক শিক্ষার্থী তার ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এসে শিক্ষার যথার্থ তাৎপর্য উপলব্ধি করেছে, দু-একটি মনে সে প্রদীপ জ্বালাতে সমর্থ হয়েছে। সেইট কুই তার প্রাপ্তি, তাতেই সে সার্থক ।এই খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলকাতার কাছেই' উপন্যাসে যে পরিবারের কাহিনী শহর, হয়েছে, তারপরেও সে ধারা আরো দুটি উপন্যাসে ( ‘উপকণ্ঠে’–১৯৬১, ‘পৌষ-ফাল্গুনের পালা' – ১৯৬৪ ) প্রবাহিত হয়েছে। একটি দরিদ্র পরিবারের তিনপুরুষের দুঃখ-বেদনা হতাশা-ব্যর্থতায় শ্রীহীন আখ্যান দীর্ঘ কালপরিবেশে চেনা অচেনা চরিত্রের ভিড়ের মধ্য দিয়ে যেভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।























