

Buy চ্যাপলিন আজো চমৎকার Online in Bangladesh
লেখক: শাহাদুজ্জামান
- Author: শাহাদুজ্জামান
- Publisher: জনান্তিক
- Isbn: 9847810290105
- Number Of Pages: 88
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ভূমিকা লেখাটি চ্যাপলিনে জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে লিভেছিলাম ১৯৮৯ সালে । ছাপা হয়েছিলো চট্রগাম থেকে প্রকাশিত শিল্পসাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা ‘প্রসঙ্গ’তে। কৈশরিক চাপল্য নিয়ে যে চ্যাপলিনকে নেহাতই একজন মজাদার কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জানতাম, তারুণ্যে তাকে আবিষ্কার করেছিলাম কেন চ্যাপলিনকে জাঁ লুক গদার তুলনা করেছিলেন নিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির সঙ্গে, আইজেনস্টাইন আরিস্তোফিনিসের সঙ্গে আর বুদ্ধবেদ বসু শেক্সপিয়রের সঙ্গে । আমার চ্যাপলিন আবিষ্কারের সেই মুগ্ধতাই ছড়িয়ে আছে দীর্ঘদিন আগের এই লেখাটিতে । কিন্তু চ্যাপলিন পুরনো হবার নয়। লেখাটি এখনও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। নতুন করে লেখাটিকে বই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেবার জন্য জনান্তিকের সাম্য আহমেদকে ধন্যবাদ জানাই । চমৎকার চ্যাপলিন নিরন্তর আমাদের সবার আগ্রহ এবং অধ্যয়নের বিষয় হোক।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

সেরা।
👌💖
অসাধারণ বই

ভাল লাগার মত একটি বই

লোকের চোখের আড়ালে থাকাই শ্রেয়, এটা শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে। কেননা নিজেকে জাহির করা, নিজেকে প্রচার করার অদম্য বাসনা তোমাকে গ্রাস করবে। হিসেব করে পা ফেলো। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। সবাই তোমাকে ডাকবে, নেমতন্ন করবে, নানান জিনিস উদ্বোধন করতে বলবে। সাবধান,সব জায়গায় যেয়ো না!.... আসলে দুনিয়াকে পুরো দেখতে হলে দুনিয়ার বাইরে দাঁড়িয়েই দেখতে হয়, ভেতর থেকে দেখলে সবটুকু নজরে পড়ে না।" ওপরের লাইনগুলো চার্লি চ্যাপলিন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন। সারাজীবন চ্যাপলিন বোধহয় ওপরের লাইনগুলোকেই অনুসরণ করতেন যার প্রতিফলন তাঁর জীবনপথে দেখি। একই বছর লন্ডনে আর অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেয় দুটি শিশু। এই দুটি শিশুই বড় হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছিল। লন্ডনে জন্মছিলেন সর্বকালের সেরা অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন (যদিও চার্লিকে শুধু অভিনেতার ক্যাটেগরিতে ফেলা অসম্ভব), আর অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেয়া মানুষটি আডলফ হিটলার। আমরা সবচে' বেশি শিখি বোধকরি জীবন থেকে, যাকে লাইফ লেসন্স বলে। চ্যাপলিনের ভাষায়,"তারপর ভীষণ রাগে,ঘেন্নায়,দুঃখে,লজ্জায়,ক্রোধে,ক্ষোভে জ্বলতে জ্বলতে, পুড়তে পুড়তে পাগলের মতো, মরীয়ার মতো, উদভ্রান্তের মতো যেদিকে দু'চোখ যায় ছুটতে লাগলাম।" যেসময়ের কথা লিখেছেন চ্যাপলিন, সেসময়ে বাসায় তার খাবার নেই, মা তার পাগল,বাবার খবর নেই। ঠিক সময়ে তিনি বুঝতে শিখেছেন ক্ষুধার ভয়ানক শক্তিকে। সেই শিক্ষা, সেই অভিজ্ঞতা আমৃত্যু মনে রেখেছেন। সৎ মায়ের নির্যাতন কিংবা কৈশোরে মদ খেতে খেতে বাবার মৃত্যু কিছুই ভোলেন নি তিনি। প্রথমবার যখন স্টেজে উঠলেন, চ্যাপলিন হলেন সুপার ফ্লপ। কিন্তু তাতে থেমে থাকেন নি, আশা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন বলেই তিনি আজ "চার্লি চ্যাপলিন "। সবাই তখন টকি(সবাক চলচ্চিত্র) নিয়ে ব্যস্ত। তখনই তিনি নির্মাণ করলেন নির্বাক সিটি লাইট। বুক ধুকধুক করছে, গ্রহণ করবে তো দর্শক? না,চার্লিকে ফিরে তাকাতে হয় নি। নির্মাণ করলেন মঁসিয়ে ভার্দু আর ভার্দুর মুখ দিয়ে বলালেন,"One murder makes a villain... Millions a hero. " দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের উত্তাল সময়ে তৈরি করলেন তাঁর শ্রেষ্ঠকর্ম "দি গ্রেট ডিক্টেটর"।সেই চলচ্চিত্রের অন্তিম পর্বে ডিক্টেটররূপী নাপিত যে বক্তব্য দিয়েছিল তা বিশ্বকে নাড়া দেয় তীব্রভাবে। জন্মছিলেন ব্রিটেনে, আজীবন কাজ করেছেন ইউএসেতে আর অন্তিম সময় কাটান সুইজারল্যান্ডে। বড় বিচিত্র তাঁর জীবন, ব্যক্তিগত জীবনেও কম সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়নি চারবার বিয়ে করবার জন্য।তুমুল জনপ্রিয়তার জন্য নকল চ্যাপলিনদেরও মুখোমুখি হতে হয়েছিল,লড়তে হয়েছে মামলাও। আজীবন শান্তির পক্ষে ছিলেন। নেননি ইউএসের নাগরিকত্ব, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে "কমিউনিস্ট " আখ্যা পেয়ে বিতাড়িত হয়েছিলেন ইউএসএ থেকে। সেই ইউএসএ তাঁকে ১৯৭২ সালে স্পেশাল অস্কার দিয়ে নিজেদের সম্মানিত করেছে,ব্রিটিশ রাণী দিয়েছেন নাইট উপাধী। বড়ই বৈচিত্র্যময় চার্লি চ্যাপলিনের জীবন।মারা গিয়েছেন বহু আগে, কিন্তু তাঁর চলচ্চিত্রগুলো আজো সমানভাবে আমাদের বিনোদিত করে। আর তাইতো সুস্বাদু গদ্যকার শাহাদুজ্জামানের মতো বলতে হয়,"চ্যাপলিন,আজো চমৎকার"























