

Buy ছাব্বিশ দিন Online in Bangladesh
লেখক: জাভেদ হুসেন
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789849981442
- Number Of Pages: 176
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দস্তইয়েফ্স্কি এক প্রকাশকের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন। নতুন একটা উপন্যাস লিখে না দিলে তাঁর লেখা সব উপন্যাসের মালিক হয়ে যাবেন সেই প্রকাশক। হাতে আছে আর ছাব্বিশ দিন। এক পৃষ্ঠাও লেখা হয়নি এখনো। লেখার গতি বাড়ানোর জন্য সহায়তা নিলেন একজন স্টেনোগ্রাফারের। নাম আন্না। এই লেখক আন্নার ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত—মদ্যপ, জুয়াড়ি, মৃগীরোগগ্রস্ত, বদমেজাজি। ধীরে ধীরে আন্না দস্তইয়েফ্স্কির ব্যক্তিত্বের গভীরতর দিকগুলো উন্মোচন করেন। জুয়াড়ি উপন্যাস লেখার এই কাহিনি হয়ে ওঠে দস্তইয়েফ্স্কির মনোজগতের অনুবাদ। মালয়ালম ভাষার গতিশীল এই উপন্যাস ওরু সংকির্থনম পোলে মূল ভাষাতেই বিক্রি হয়েছে তিন লাখ কপির বেশি।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

নিজের ভূমিদাসদের হাতে খুন হয়ে যাওয়া সামরিক সার্জনের সন্তান ফিওদর মিখাইলোভিচ দস্তইয়েফস্কি। জারের বিরুদ্ধে গঠিত বিপ্লবী সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়তির লিখন ভিন্ন হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ার ঠিক কয়েক মুহুর্ত আগে জারের দয়ায় রহিত হয় তা। ফায়ারিং স্কোয়াডের বন্দুকের সামনে থেকে বেঁচে ফিরেন দস্তইয়েফস্কি। মৃত্যুদণ্ড মওকুফ হলেও সাইবেরিয়ার বন্দিশিবিরে তাকে ভোগ করতে হয় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। . কারাবাস থেকে মুক্ত হয়ে ফিওদর দস্তইয়েফস্কি ও মারিয়া দ্মিত্রিয়েভনা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করে। ওদের মধ্যে ছিল আকুল ভালোবাসা। কিন্তু দাম্পত্য জীবন ছিল যন্ত্রণায় ভরা। সে জীবন ছিল একে অপরের ওপর অত্যাচারের শামিল। তবুও মারিয়ার মৃত্যুর পর এক অদ্ভুত ভয়, শূণ্যতা গ্রাস করে দস্তইয়েফস্কিকে। স্ত্রী বিয়োগের শোক থেকে বের হওয়ার আগেই তিন মাসের মাথায় মারা যায় বড় ভাই মিশেলও। প্রিয় মানুষের মৃত্যু মানুষের জীবন কেমন বিরান শূন্য করে তোলে তা তীব্র ভাবে অনুভব করে দস্তইয়েফস্কি। মত্ত হয় জুয়া আর মদের নেশায়। নিজেকে ঠেলে দেয় এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। . দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় রীতিমতো বাধ্য হয়ে প্রকাশক স্তেল্লোফস্কির থেকে তিন হাজার রুবল ঋণ নেয় ফিওদর দস্তইয়েফস্কি। টাকা সে দেয় এক শর্তে। ১৮৬৬ সালের পয়লা নভেম্বরের আগে ওকে ১৬০ পৃষ্ঠার নতুন একটা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি দিতে হবে। যদি দিতে না পারে তাহলে এখন পর্যন্ত যা সে লিখেছে এবং আগামী ৯ বছরে যা লিখবে, সবকিছুর মালিক হবে স্তেল্লোফস্কি। দস্তইয়েফস্কি পাবে না একটা কানাকড়িও। শুধু তাই না, ঋণখেলাপীর জন্য যেতে হবে জেলেও। . বেঁধে দেওয়া সময়সীমার আর বাকি আছে ছাব্বিশ দিন। এক পৃষ্ঠাও লেখা হয়নি এখনো। লেখা দ্রুত শেষ করার জন্য নিয়োগ দিলেন একজন স্টেনোগ্রাফার। নাম আন্না গ্রিগরিয়েভনা স্নিতকিনা। মালয়ালম লেখক পেরুমপদত্তম শ্রীধরনের ‘ছাব্বিশ দিন’ দস্তইয়েফস্কির ছাব্বিশ দিনে ‘জুয়াড়ি’ লেখার আখ্যান। . সুস্বাদু খাবার ভরপেট খাবার পর আমরা যেমন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি, ছাব্বিশ দিন বইটা পড়ে শেষ করার পর আমার অনুভূতিও ঠিক তেমন। বইটা পড়তে গিয়ে আন্নার সাথে সাথে আমিও যেন আবিষ্কার করেছি ব্যক্তি দস্তইয়েফস্কিকে। মূলত জুয়াড়ি উপন্যাস লেখার ছাব্বিশ দিন সময়কালের গল্প হলেও বিভিন্ন প্রসঙ্গে এখানে উঠে এসেছে দস্তইয়েফস্কির বিচিত্র জীবনের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সেসব ঘটনাই তাকে পরিণত করেছে লেখক ফিওদর দস্তইয়েফস্কিতে, প্রভাবিত করেছে তার সৃষ্ট সাহিত্যকে। দুঃখ, দুর্দশায় টইটম্বুর সে কী বিচিত্র এক জীবন! . নিজের চরম দুর্ভাগ্য নিয়ে উপহাস করে দস্তইয়েফস্কি আন্নাকে বলেছিলেন,“আনন্দ! সারা জীবনে এই জিনিসটার দেখা কখনো পাইনি। ঈশ্বর কিছু মানুষকে অভিশাপ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। এ-ও একরকম আশীর্বাদ বলতে পারো। এরপর মজা দেখেন। এই যেমন আমাকে নিয়েও উনি তাই করছেন।” . লেখক পেরুমপদত্তম শ্রীধরন ‘ছাব্বিশ দিন’ বইয়ে তুলে ধরেছেন দস্তইয়েফস্কির নিদারুণ আর্থিক অনটনের কথা। যা পড়ে আমার প্রথমেই মনে পড়ে আমাদের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা, স্ট্যারি নাইটখ্যাত ভিনসেন্ট ভ্যানগগের কথা। দারিদ্র্যতা যেন হুংকার দিয়ে নিজের অস্তিত্বের কথা জানান দেয় দস্তইয়েফস্কির জীবনে। মাসের পর মাসের বাসা ভাড়া বাকি, সাথে পাওনাদারদের দেনা। বাসার রান্নাঘরের তাক, কাপবোর্ড অধিকাংশই ফাঁকা, কানি ভাঙা হাঁড়ির। উটকো ঝামেলা হিসেবে নেশার জন্য টাকার দরকার হলেই দস্তইয়েফস্কির উপর চড়াও হয় মারিয়ার আগের ঘরের সন্তান পাশা। অন্যদিকে বড়ভাই মিশেলের রেখে যাওয়া বিপুল কর্য। কিছুদিন পরপর হাজির হয় মরা ভাইয়ের বউ এমিলি। ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ব আছে মনে করে ধার করে, বন্ধক রেখে, ঘরের জিনিস বিক্রি করে হলেও টাকার জোগান দেয় সে। তবু খালি হাতে ফেরায় না। এই তো একবার ভরা শীতের মাঝে নিজের ওভারকোট বিক্রি করে টাকা দিল এমিলিকে। চরম দারিদ্র্যতায় যেখানে নিজেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সেখানে এসব বাড়তি বোঝাও টানতে হচ্ছে তাকে। এর মাঝে আবার মদ আর সর্বনাশা জুয়ার নেশা। বিভিন্ন জনের থেকে ধারদেনা করে জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায়ই সর্বস্ব খুইয়ে আসেন দস্তইয়েফস্কি। . জীবনের এরকম খুবই সংকটময় মুহূর্তে অতি আকস্মিকভাবে আন্না গ্রিগরিয়েভনা স্নিতকিনার সাক্ষাৎ পায় দস্তইয়েফস্কি। স্তেল্লোফস্কিকে ‘জুয়াড়ি’ জমা দেওয়ার জন্য যখন মাত্র আর ছাব্বিশ দিন বাকি তখন দ্রুত লেখা শেষ করতে আন্নাকে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে নিয়োগ দেয় সে। ২০ বছর বয়সী আন্না দস্তইয়েফস্কির মুখে বলা গল্প শুনে শর্টহ্যান্ড ডিকটেশন নিয়ে পরবর্তীতে লং হ্যান্ডে জমা দিত তার কাছে। স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার সময় নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়েছে দস্তইয়েফস্কির বাড়িতে। সুযোগ পেয়েছে মদ্যপ, জুয়ার নেশায় আসক্ত আজন্ম দুঃখী এই মানুষটাকে কাছে থেকে দেখার, তার হৃদয় সাগরে উঁকি দেওয়ার। . উপন্যাসে গল্পচ্ছলে ব্যক্তি দস্তইয়েফস্কিকে আবিষ্কারের বর্ণনা দিয়েছেন পেরুমপদত্তম। যা দস্তইয়েফস্কির পাঠকদের ভাবনার খোরাক জোগাবে। আন্নার মতো আমারও মনে হয়েছে দস্তইয়েস্কির জীবন এক কল্পনার মতো। বাস্তবের কিছু টুকরা যার এখানে-সেখানে ছড়িয়ে আছে। মৃগীরোগগ্রস্ত, বদমেজাজি এই মানুষটাকে সারাজীবনে কেউ কখনো ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। একটুখানি ভালোবাসার জন্য কাঙাল ছিল লোকটার মন। আর তার সারাজীবনের একমাত্র প্রশান্তি ছিল আন্না। পরবর্তীতে আন্নার সাথে চৌদ্দ বছরের দাম্পত্য জীবনের সময়ই দস্তইয়েফস্কি রচনা করেন তার অমর কিছু সাহিত্যকর্ম। . উপরেই বললাম দস্তইয়েফস্কির জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তার সাহিত্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। যেমন: তার গল্পে কেন শুধু অসুস্থ, খুনী, পাপী, অপরাধীদের ভিড় এই প্রশ্ন দস্তইয়েফস্কির পাঠকদের মাঝে আছে। দস্তইয়েফস্কি উঠে এসেছেন সমাজের একদম নিচুতলা থেকে। তিনি তার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লিখেন। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যু থেকে কয়েক মুহুর্ত দূরে দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতাই ‘ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট’ এর খুনী রাসকোলনিকভের মৃত্যুর আগের মুহূর্তে তুলে ধরেন। নিজের মধ্যে জুয়া খেলার জন্য যে তীব্র আকর্ষণ, তার ওপর ভর করেই দন্তইয়েফস্কি ‘জুয়াড়ি’ উপন্যাসে তার নায়ক আলেক্সেই ইভানোভিচের পুরো অবয়ব তৈরি করেন। এই প্রসঙ্গে আন্নাকে একবার বলেছে, “আমার জীবনটা চূড়ান্ত রকম জঘন্য। এমন জীবন হয়তো অন্যদের মনে ঘৃণা, বিরক্তি ছাড়া আর কিছুর জন্ম দেয় না। আর তুমি আমার গল্পে যা পাবে, আমার জীবন তার থেকে ভিন্ন কিছু না।” . এই বইয়ে প্রকাশ পেয়েছে লেখক পেরুমপদত্তম শ্রীধরনের গভীর জীবনোপলব্ধি। তিনি দস্তইয়েফস্কির মনের গভীরে থাকা অরণ্য, গুহা, পাহাড়চূড়া, গিরিখাত পাঠকদের দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তার জীবনবোধ। আন্নার সাথে দস্তইয়েফস্কির তার বিভিন্ন বই লেখার ইতিবৃত্ত, দর্শন, ব্যক্তিগত মনোভাব পেরুমপদত্তম তুলে ধরেছেন চমৎকারভাবে। ছাব্বিশ দিনে দস্তইয়েফস্কির এই সংক্ষিপ্ত জীবন পাঠে এক ধরনের বিষন্নতা ঘিরে ধরেছিল যেন, উপভোগ করেছি খুবই। মালয়ালম এই উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন জাভেদ হুসেন। অনুবাদ পড়তে গিয়ে ভাষাগত জটিলতার কারণে কোথাও থমকে যেতে হয়নি, গদ্যশৈলী বেশ প্রাঞ্জল এবং সাবলীল লেগেছে। . ‘ছাব্বিশ দিন’ শুধুমাত্র জুয়াড়ি লেখারই আখ্যান না, দস্তইয়েফস্কির মনোজগতের ভাবানুবাদ। যারা দস্তইয়েফস্কির লেখা পূর্বে পড়েছেন, অনুভব করেছেন লেখার মধ্যে মিশে থাকা নিদারুণ যন্ত্রণা, তাদের অবশ্যই বলবো এই উপন্যাস একবার পড়তে। কালজয়ী ঔপন্যাসিক ফিওদর মিখাইলোভিচ দস্তইয়েফস্কির ব্যক্তিত্বের গভীরতর দিক উন্মোচনের এই আখ্যানে আপনাদের স্বাগতম। . ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বই : ছাব্বিশ দিন: দস্তইয়েফস্কির জুয়াড়ি লেখার আখ্যান ➠ লেখক : পেরুমপদত্তম শ্রীধরন ➠ অনুবাদ : জাভেদ হুসেন ➠ জনরা : সমকালীন উপন্যাস ➠ প্রকাশনী : প্রথমা প্রকাশন ➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৭৫























