আধভেজা শহর
বই কালেকশন

Buy আধভেজা শহর Online in Bangladesh

লেখক: লামইয়া চৌধুরী

4.50
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: লামইয়া চৌধুরী
  • Publisher: অন্যপ্রকাশ
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, 2025
৳ 439৳ 50012% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.50
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
50%
4
50%
3
0%
2
0%
1
0%
Zeba Khan
Zeba Khan ভেরিফাইড
18 Jun 2025

onek beshi josss❤️❤️❤️

Sakib
Sakib ভেরিফাইড
20 May 2025

#আধভেজা_শহর #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ আধভেজা শহর •লেখকঃ লামইয়া চৌধুরী •ধরনঃ সামাজিক •প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ •প্রচ্ছদঃ মো.সাদিতউজজামান •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৫৯ •প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০২৫ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ মাঝে মাঝে যখন অন্ধকারে গভীর রাতে আমার একা হয়ে থাকা রুমে আমি পড়ে থাকি, তখন রুমের দেয়ালঘেঁষে থাকা জানালা দিয়ে মাঝে মাঝে বাঁশির সুর বেজে আসে । সেই সুর শুনতে শুনতে কোথাও যেন আমি জীবনের গল্পের টের পাই । এই যে সুর, মাদল, নিরবচ্ছিন্ন বাজতে থাকা বিভিন্ন শব্দের আলোড়ন এগুলো যে অজানা অচেনা জীবনের গল্প ব্যাখ্যা করে, তা কোথাও একটা যেন ভীষণ কেমন একটা অনুভব করায় । তা বইয়ের ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয় না, তবুও তা বুকে দম বেঁধে কিছু একটা নিয়ে আটকে থাকে । তা প্রকাশ করার খেয়ালে মনে সুখ নামে না, তবুও এই সুখ নামক অসুখের আলোড়নে কোথাও ঝড় নামে । এই নির্জীব, শান্ত আর জড় পদার্থের মতো উপস্থিতি না দিয়েও তবুও এই সুরগুলো আমাকে কতশত গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয় । ভীষণ মন ছাপিয়ে বৃষ্টিভেজা রাতের মতো করে কাঁদতে ইচ্ছে করে তখন মনে পড়ে, ওই দমবাঁধা আলোড়নে আমি যেমন করে একটা দিন হেসেছিলাম । আমার প্রিয় পাশের কেউ কিভাবে একটু কথা বলেছিল । এগুলো মনে পড়ে, আর মনে পড়ে যে আমি এগুলো শুধু ভাবতে পারছি কিন্তু ফিরিয়ে আনতে পারছি না । এই মানবজীবনটা এত অদ্ভুত কেনো? কত সহজে দুঃখ কুড়িয়ে নেয়া যায়, সুখ কেনো কুড়োতে গিয়েও আমার আলস্য! ♦নামকরণঃ মানুষ যখন কিছু নিয়ে কল্পনায় কথা সাজায়, ভাবতে বসে তখন এই অনুভূতির পারদ কতটুকু জড়িয়ে বসে মনজুড়ে, তার খেয়াল কখনও রাখা হয় না । কিন্তু সব বিশেষণেই মানুষ ভাবতে থাকা এই আশা এবং চাহিদাগুলোতে মানুষকে নিয়ে বিরাজ করে । নিজের সুখ নামক কামনা মনের কাছে চেয়ে নিতে গেলেও মানুষ বলে ফেলে, আমার যেন অধিকতর সুখ হয় । এত এত সুখ যেন সুখের কান্না অন্তত আসে । এই মন দেয়ালের জড় পদার্থগুলোতেও তখন কোনো না কোনো মানুষ অবশ্যই আসে । নিজেও তো মানুষ হিসেবেই আসে । মানুষ যে জায়গাটিতে থাকে সেই জায়গাটিতে সুখ খুঁজে পায়ই অস্তিত্বের জন্যে । যে অস্তিত্বগুলো রাস্তা বলে আসে না, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোর জন্য আসে । যে সুখে মানুষ ঘরবাড়ি কল্পনা করে, সেই ঘরবাড়ির চুন খসে যাওয়া, দেয়াল ভেঙে পড়া আলগোছে ক্লান্তির কথা মনে আসে না, সেই ঘরবাড়ির রুম জুড়ে আলস্যে ছাড়াই জীবন চলাফেরা করা মানুষগুলোর দিনযাপনের কথা বলার জন্য আসে । এই রাস্তাঘাট, এই ঘরবাড়ি, এই আকাশ সবকিছুতেই মানুষ সুখ খুঁজে পায় । থাকার জন্য সতেজ বাতাস হিসেবে খুঁজে পায় । কিন্তু তা শুধু এই নিশ্চুপ আবহ সৃষ্টিকারী মুহূর্তগুলোর জন্য নয়, তা আবহ সৃষ্টি করে মানুষটির অনুভব পর্যন্ত নিঃশ্বাস নেয়া পর্যন্ত যারা এগিয়ে নিয়ে আসে তাদের জন্য করে । এই জড় পদার্থের মতো বেঁচে থাকা চারপাশের পরিবেশকে ফুটিয়ে তুলতে চাওয়ার আখ্যানে মানুষ দুদণ্ড শান্তি, সুখ কিংবা কষ্ট খোঁজার জন্য হলেও পাশের মানুষগুলোর অস্তিত্ব খুঁজতে চায় । এই বিশেষণগুলোতে কোথাও কোথাও কষ্ট থাকলেও মানুষ অনুভব করার জন্যেই বোধহয় এগিয়ে যায় । মনে রাখতে চায় অহরহ, সযত্নে । শহরের যান্ত্রিকতাও যেন তা কোনোভাবে ভুলিয়ে দিতে পারে না । এখানেও মানুষের উপস্থিতি বারবার মনে করিয়ে দেয় কোথাও আমরা আছি, প্রিয় নিঃশ্বাসেরা আছে । এই শহরে আধভেজা হয়ে থাকা যেন বিশেষণে জীবন্ত অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ন্যায় । যেন এই শহরে অনুভূতি মিশে আছে, সবই বিশেষণে মানুষগুলো ঘিরেই আছে তার অদ্ভুত আলগোছে থাকা এক প্রমাণ । এই ভিজে থাকা শহরগুলো যেন সব বিশেষণগুলোকে ঘুড়ি উড়ে আকাশ ধরতে শিখিয়ে দেয়, পাশের আকাশের সাথে সন্ধি পাততে শিখিয়ে দেয় । যে আকাশ প্রতিটি জীবনধারণের আকাশে ছোঁয়, মানুষের আকাশ । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ আধভেজা শহর: দ্য সিটি অব লাবণ্য! স্বপ্নবাজ লাবণ্য যখন তার মুনির কাকার হাত ধরে মফস্বল ছেড়ে ইট-পাথরের রাজধানীতে পা রাখে, তখন তার চোখে ছিল স্বপ্নের মশাল । এ আধভেজা শহরের ঝড়ো হাওয়ায় কি আদৌ তার মশাল ছড়িয়েছিল উষ্ণতা ? নাকি তা নিভে গিয়েছিল নির্মম অযত্নে ? লাবণ্যর জীবনের শতকরা অঙ্কটা ছিল একদম সাদামাটা । পুঁজি হিসেবে সঙ্গী ছিল মুনির কাকার স্নেহ, স্বপ্ন আর সরলতা । লাভের খাতায় জমা পড়েছিল কয়েকজন বন্ধু, আর ভালোবাসা । কিন্তু চক্রবৃদ্ধি মুনাফার এই শহরে লাভ-লোকসানের হিসেব কি এত সহজে মিলে ? এই শহরে এসে লাবণ্য শিখেছিল পুঁজির অঙ্ক দিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, কিন্তু মুনাফার হিসেব মেলানো দায় । এটাই আধভেজা শহর, যেখানে স্বপ্নের বিনিয়োগে লাভের সাথে লসও সমান ভাগীদার । আর যে হাতজোড়া লাভ-লোকসান দুটোই আগলে রাখতে জানে এ শহর তার হাতের ইশারায় চলে । আগন্তুক হিসেবে লাবণ্যর জীবনে আগত এই অজানা আধভেজা শহরটির প্রতিটি কণা, অলিগলি, এমনকি বৃষ্টির ফোঁটাও কবে এবং কীভাবে আধভেজা শহর: দ্য সিটি অব লাবণ্য হয়ে গেল ? ♦প্রচ্ছদঃ এই প্রচ্ছদটি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম, সেদিন আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম । আমি ভেবেছিলাম আমার যে জীবনে এখন আর বিশেষণের তাড়াহুড়ো নেই, সে জীবনে খুব একটা আর অতীব মাত্রায় মুগ্ধ হওয়া হবে না আমার । কিন্তু না আমি আশাহত হয়ে গেলাম, যে কেনো আমি আবার মুগ্ধতায় ভেসে গেলাম । এই মনের শহরের অদ্ভুত টানাপোড়েনে সম্পূর্ণ নতুন এক শহরের রূপ আমার ভালো লেগে গেল । কেনো তা জানি না, বোধহয় নিজের মনের কাছে অযথাই । বোধহয় ভালো লাগবে বলে নিজের কাছে নিজেই কথা দিয়েছিলাম । যাহোক অদ্ভুত সুন্দর এই প্রচ্ছদটির সব জায়গাতেই যেন জীবনের আলোড়ন । মুহূর্তের টানাপোড়েন । ভালো মন্দের অদ্ভুত টসের জীবনধারণ । ছবিতে থাকা দুই স্বামী স্ত্রী, একাকী পড়ে থাকা শূন্য দেয়ালে পাতা নিয়ে পড়ে থাকা কদম ফুল, দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন শহরের কত মুহূর্ত চাহনি দিয়ে নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকার মতো করে বলে যাওয়া এবং অবলীলায় ছবির ফ্রেমের পিছনে পড়ে থাকা অসহায় জানালার পর্দা→ এগুলো ভীষণ কেমন একটা মন খারাপের সুর তুলে আমার মাঝে । সেরকম সুর, যেরকম সুরে আমি বাঁশির শব্দ শুনতে পাই । অদ্ভুত আলোড়ন । ♦পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অদ্ভুত, মুহূর্ত উল্লেখ করা এই উপন্যাসটির নাম মনে এলেই কেমন যেন একটা মন খারাপের মেঘ আমাকে ঘিরে ধরে রাখে । ভীষণ একটা আগ্রহবোধ তৈরি হয় । এই আগ্রহ আমাকে কখন, কোথায় কিভাবে যেন বড্ড বেশি কৌতুহলী করে তুললো আমি তা জানি না, কিন্তু খুব করতে ইচ্ছে হলো যেন । ✓পটভূমিঃ এই উপন্যাসের পটভূমিটা বেশ অন্যরকম । কিভাবে যেন কিছু কিছু মুহূর্তে আমার কেমন একটা অনুভব হলো । তখন ভীষণ মনে হলো যেন এই পটভূমিটা এত অদ্ভুত কেনো! স্বপ্ন নিয়ে তৈরি হওয়া আদ্যোপান্ত উপন্যাসটির মাঝে একরাশ স্বপ্ন খুঁজে পাওয়া এবং পাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে থাকা উদাসীন নিঃশ্বাসের মতো আলোড়ন । এই আলোড়ন বোধহয় টের পেতে তৈরি করে যে, সত্যিই কি স্বপ্ন পাওয়া হয়েছিল, নাকি না? সত্যিই কি কেউ শহরজুড়ে আধভেজা মুহূর্ত দিয়েছিল, নাকি না? উপন্যাসের পটভূমিতে ছিল কারো স্বপ্ন, এবং অদৃশ্য অনুভবে পাশে থাকার এক আখ্যান । তারই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপন্যাসে ভেসে এসেছে গল্পের প্রয়োজন বন্ধুত্ব । ভেসে এসেছে বন্ধুত্বের আড়ালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অফুরন্ত আলাপ, আলোড়ন । ভেসে এসেছে সুখ, হাসি, আনন্দ, মজা, প্রেম, বিরহ, অদ্ভুত চাহনি দিয়ে তাকিয়ে থাকা আলোড়ন । এই স্বপ্ন নিয়ে থাকা পটভূমিতে যখন অদ্ভুত নির্ভেজালে প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আলোড়ন তুলে, নিস্পৃহতা ভেসে বেড়ায় কিংবা বন্ধুরা কথার সুর তুলে তখন কোথাও যেন তা অদ্ভুত কাটাকুটি খেলার মতো করে এক অন্যরকম পরিবেশের জন্ম দেয় । এই অদ্ভুত কাটাকুটি এবং স্বর্গীয় হয়ে থাকা পরিবেশটার নামই বোধহয়, আধভেজা শহর । যে শহর মানুষকে সুখী করতে চায়, কখনোবা দুঃখ দিতে চায় । কখনোবা যান্ত্রিকতার আড়ালে থেকেও জড় পদার্থ হয়ে অনুভূতি বিহীন আদলে পরিণত করতে চায় । সেই শহরেই যেন আধভেজা আবেশটা সুর তুলে, সবকিছুকেই প্রাণহীন থেকে বড্ড কাছের মনে করে দেয় । এটাই আধভেজা শহর । বোধহয় আধভেজা নামেরই আলোড়ন । ✓আবহ গঠনঃ এই উপন্যাসের আবহেও যেন তাই এক ধরনের নিশ্চিদ্র কেমন এক অদ্ভুত ধরনের আবেশীয় অনুভব । আবেগতাড়িত করার ব্যাপক চেষ্টা । যেভাবে উপন্যাসের পটভূমি এবং প্রেক্ষাপট তৈরি করে জীবনধারা এবং ঘটনাপ্রবাহ সাজিয়ে তোলা হয়েছে সেখানে যেন আবহ সৃষ্টি উপন্যাসে ভারসাম্য এনে দেয়ার চেষ্টা করেছে । তবে কাহিনীর গতিপ্রবাহ তুলনায় একটু বেশিই ছিল বিধায় কাহিনী নিজের আঙ্গিকে যেন তাড়াতাড়ি এগিয়েছে । যার কারণে উপন্যাসের আবহ তৈরি করার জায়গাটিতে একটু কম মুহূর্ত ছিল । ♦চরিত্র গঠনঃ এই উপন্যাসে বেশ অনেকগুলো চরিত্র । তবে চরিত্রগুলোর ব্যাপ্তি খুব কম সময় নিয়ে থাকলেও তাদের উপস্থিতি এবং মুহূর্ত দিয়ে যেন পুরোটা উপন্যাসজুড়ে নিজস্ব ধাঁচ এবং স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে সবাই । অদ্ভুত নিজস্বতা নিয়ে যেন উপন্যাসের প্রেক্ষাপট এবং কাহিনীর প্রয়োজনে তাদেরকে যথাযথ ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ •লাবণ্যঃ নিজের গণ্ডিতে আবদ্ধ থেকে মন উড়ে চলা পাখির মতো বেড়ানো মেয়েটি এমনিতে বেশ চুপচাপ ধরনের । শান্ত । পরিবারকে ভীষণ ভালোবাসতে চাওয়া মেয়েটি বন্ধুদেরকেও বেশ ভালোবাসে । বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের মেয়েটি নিজেকে নিজের গণ্ডিতে মেলে ধরতে জানে খুব । •দীপ্তঃ হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের, দুষ্টু ছেলেটি সময়ের প্রয়োজনে সমাজের সবকিছু বুঝতে শিখে যায় । বিভিন্ন পরিস্থিতি, সমাজের চিরাচরিত নিয়মে জীবনের বেড়ে ওঠা সব নিজে থেকেই শিখে নিতে থাকে সে । •কবিতাঃ সহসা সবার সামনে রাগ দেখাতে চাওয়া নারীটির মনের মাঝে যেন ভেসে বেড়ায় একরাশ ছেলেমানুষী স্বভাব । সময়ের প্রয়োজনে শক্ত হওয়ার ভান করতে করতে জীবনে যেন কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে তাকে সেই ভান করার রাজ্যতেই রানী হয়ে আরোহন করতে হয় । এটাই জীবনের অদ্ভুত খেলা । •মুনীরঃ বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের হাসিখুশি মানুষটি পরিবারের মানুষদেরকে ভীষণ ভালোবাসে । মজা করার এক অদ্ভুত আলোড়ন যেন তাকে সব সময়ে ঘিরে ধরে রাখে । ভালোবাসায় আলোড়িত হয়ে ভালোবাসতে চাওয়া মানুষটি সবার জন্যে যেন একরাশ মায়া নিয়ে খুঁজে বেড়ায় যেন ছিটিয়ে দেয়ার মতো করে । নিজের উপস্থিতি দিয়ে যেন তিনি ভেসে বেড়ান । •তাজওয়ারঃ পেশায় রেডিও এর আরজে হওয়া বন্ধুসুলভ আচরণ এর মানুষটি বন্ধুদের সাথে মজা করার বিভিন্ন চেষ্টা করে যায় যেন । বিভিন্ন অনুভূতি এবং সময়ের সাহায্য করার অনুভবগুলো যেন তাকে মনে করিয়ে দিতে চায় খুব । পাশের মানুষদের পাশে যেন অদ্ভুত এক উপস্থিতি দিয়ে যেন জীবনজুড়ে বয়ে যায় তাজওয়ার খরস্রোতা নদীর মতো করে । •সামিরঃ বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের ছেলেটি কারো বিপদে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । নিজের থেকে কখনও ভুল পদক্ষেপে পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতে থাকা মানুষটি যেন বন্ধুত্বের বিশেষণে খুব প্রিয় কেউ হয়ে উঠে । •আশরাফঃ বাবাকে যত্ন করে নিজের জীবনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব বজায় রেখে যাওয়া মানুষটি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি । কোথাও যেন এই স্বপ্ন বাতাসে মিশে গিয়ে তাকে সুখ দেয়, অথবা দুঃখ দেয় । •সারজিলঃ নিজের বন্ধুত্ব করা মুহূর্তগুলোতে মুহূর্ত হারিয়ে ফেলার ভয় নিয়ে থাকা মানুষটি নিজেদের বন্ধুদেরকে নিয়ে নিজে এগিয়ে যেতে চায় খুব । সেই বন্ধুত্বের গল্পে কাউকে না জড়াতে দেয়ার তীব্র চেষ্টা তাকে সময়ের টানাপোড়েনে কোথায় যেন ভাসিয়ে নিয়ে যায় । •সন্দীপঃ ভালোবাসা হারানোর অনুভব, তাকে হারিয়ে ফেলে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অদ্ভুত মনোকষ্টে ভুগতে থাকা এক ধরনের কষ্ট এবং বিষাদ নিয়ে ভুগতে থাকা ছাপ তাকে তার জীবনে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেয় । কোথাও বোধহয় বাধাপ্রাপ্ত হয় জীবন, কোথাও আবার না । তবুও তার জীবন সেভাবেই যেন চলে যায় । •টুকিটাকি চরিত্রঃ এছাড়াও এই উপন্যাসে আছে আরো কতগুলো চরিত্র যারা মানবজীবনের আধভেজা হয়ে জীবন্ত বিশেষণ দেয়ার ভঙ্গি করে ভেসে এসেছিল গল্পের প্রয়োজনে, সময়ের চোরা স্রোতে । এ উপন্যাসে আছেন পরিবারের চিন্তায় সদা চিন্তিত আকবর সাহেব । যিনি সময়ের টানাপোড়েনে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তে যান । এছাড়াও উপন্যাসে ভেসে আসে ঐশী নামের সদা হাস্যোজ্জ্বল, দুষ্টু এক নারী । যে ভালোবাসে, এবং ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে সদা চিন্তিত । তবে তার চিন্তিত হওয়া ধারণাটুকুতেও যেন অদ্ভুত সুখের ঘ্রাণ পাওয়া যায় । উপন্যাসে আছে বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের আবির । এছাড়াও এই উপন্যাসে আছে রিয়াদ, ভালোবাসাকে ভালোবাসতে যে হাসিমুখে মজা করে যায় জীবনজুড়ে যেন । এছাড়াও আছে বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের, বর্ষা । যে চুপচাপ এবং শান্ত । ভালোবাসাকে ভালোবাসায় প্রমাণ করতে না পারার এক অব্যাখ্যাত আখ্যান নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়া এক নারী, নেহা যেন ভেসে আসতে থাকে কোথাও থেকে যেন । ছেলেমানুষী স্বভাবের একা জীবনে ছেলেকে নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকা বাবা, রইসউদ্দিন এর এই গল্পের আখ্যানেও যেন কোথাও না পাওয়ার এক সুর, অথবা সুখ খোঁজার তাড়ায় প্রাপ্তির কোনো ব্যাখ্যা । এছাড়াও উপন্যাসে আছে এক অনুভব এবং নিঃশ্বাস নিয়ে পরিবেশকে নিজের চারপাশে মাখিয়ে নিতে চাওয়া এক মেয়ে তাথৈ । যে কিছুর নিঃশ্বাসে শুধু খুঁজে বেড়াচ্ছিল । এরকম আরো কত চরিত্র যেন গল্পের প্রয়োজনে ভেসে আসে, আবার সময়ের প্রয়োজনে নিশ্চুপ হারিয়ে যায় । সেই সবুজ হয়ে যাওয়া খরস্রোতা নদীতে ভেসে বেড়ানো টগর এর মতো । আসে, আবার চলে যায় । কিন্তু জীবন যেন পানির মতো করে বয়ে যায় । জীবন বড্ড খরস্রোতা যে! ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই উপন্যাসের প্রিয় চরিত্র বেশ অনেকগুলো । সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন অনুভবে এই উপন্যাসে আমার বেশ অনেকগুলো চরিত্র, প্রিয় চরিত্র হয়ে উঠে । হতে হতে কাছের হয়ে ধরা দিয়ে দেয় যেন । কখনও কোথাও মুনীর চরিত্রটিকে ভীষণ প্রিয় মনে হয় আমার । কোথাও কবিতা চরিত্রটিকে ভীষণ প্রিয় মনে হয় । মানুষ এই পৃথিবীতে জীবনের চলার মতো যে আলোটি আঁকড়ে ধরে জীবন চলে । সেই আলোটিকে ভীষণ অসাধারণ মনে হয় । তার গুরুত্ব আমরা যেন কোথাও টের না পেয়েই পুরো আজন্মজীবনটা কাটিয়ে দেয় । কিন্তু যার তুলনার বিশেষণে গুরুত্ব দিয়ে আলোটিকে অসাধারণ মনে হয়, তাকে যেন না ভাবলে কোথাও ভুল হবে । এরকম অনুভবে থাকায় আমার কবিতাকে বেশ প্রিয় মনে হয় খুব । লাবণ্যকে ভীষণ কাছের এবং প্রিয় মনে হয়ে ওঠার টান পাওয়া যায় যেন । এই এত এত মুহূর্তে তাই ওই আলো এবং আলো ঘিরে রাখা জীবনের ছায়া এই সম্পর্কের রসায়নকে আমি বরং প্রিয় চরিত্র বলে সংজ্ঞায়িত করলাম । ♦প্রিয় অংশঃ আমি এই আধভেজা শহর হয়ে জীবনের আখ্যানকে দুইরকম ভাবে যেন দেখতে পাই । একটু লিখি, হ্যাঁ! আচ্ছা, মানুষের জীবনে এই শূন্য চারপাশের অনুভূতি এবং পরিবেশকে আধভেজা করে তুলতে কী কী লাগে? নিজেকে প্রশ্ন করে নিজে থেকেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার কোথাও যেন মনে হলো, এই আধভেজা করতে বৃষ্টির মতো প্রত্যক্ষ আলোড়নকে কখনও কখনও জীবনের টানাপোড়েনে আসলে বয়ে দিয়ে ফেলা যায় না । যাকে পরোক্ষ আলোড়নে টেনে নিতে হয় । বড্ড সুনশান, শান্ত, নির্জীব, জড় পদার্থের মতো ভেসে বেড়ানো সব পারিপার্শ্বিক পরিবেশগুলোকে জীবন্ত করার এক অদ্ভুত নাম বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় । যাকে জীবনের আধভেজা শহরের এক আখ্যান বলে ভেসে বেড়াতে হয় । যার মতো করে পুরো পৃথিবী বয়ে নিয়ে যেতে হয় । যার মতো করে জীবনে ভাসতে গিয়ে সব বিশেষণে নিজেকে সাজাতে গিয়ে তার স্বপ্নে নিজেকে নিয়ে দেখতে চাওয়া যেন হয়ে যায় । এই আধভেজা জীবন্ত হয়ে যাওয়া শহরে দুদণ্ড থাকতে চাওয়া প্রতিচ্ছবি নিয়ে কেউ কাউকে মনে করতে চেয়েছিল । কেউ কারো সমস্ত অনুভবকে পরিবেশকে দিয়ে সাজাতে চেয়েছিল । কেউ কাউকে নিয়ে সমস্ত বিশেষণগুলোকে জীবন্ত বলে টান দেয়ার জন্য এই শহরে আধভেজা চেয়েছিল, আধভেজা শহর । এই উপন্যাসের একটা চরিত্রকে আমার ভীষণ তাই আধভেজা বলে মনে হয় । যে স্বপ্ন দেখায়, যে অস্তিত্ব দেখায় । যে নিজস্ব উপস্থিতি এবং স্বকীয়তা দিয়ে বিরাজ করে গেছিল । সে বোধহয় নিজের জীবনের একটা আধভেজা শহর হতে চেয়েছিল । যাহোক পরোক্ষভাবে আলোড়নকে ছাড়িয়ে গিয়ে এবার প্রত্যক্ষভাবে এক আধভেজা শহর এর মায়া এর টান কোথাও যেন টের পাই । কোথাও যেন তাও প্রিয় অংশ হয়ে ধরা দেয় । বৃষ্টি ভেজা দিনে ছাতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া রাস্তা, আধভেজা হয়ে জীবনের পথে চলতে গিয়ে রাস্তা পারাপারের অপেক্ষা যেন কোথাও জীবনের অপেক্ষাকে বেশ কাছের করে দিয়ে যায় । কোথাও যেন রাস্তার এপাড়ে থেকে ওপাড়ের জীবনে বেয়ে যাওয়া রাস্তাগুলোকে জীবনের সমান্তরাল টানাপোড়েনে জীবনেরই কিছু একটা বলে মনে হয় । এই আধভেজা শহর এর অদ্ভুত এই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ আলোড়নের টানাপোড়েনে কেউ যেন কারো মতো হতে পেরে ভালোলাগায় ভেসে গিয়েছিল । এছাড়াও এই উপন্যাসের মুহূর্ত বিশেষে বেশ অনেকগুলো প্রিয় মুহূর্ত আছে । উপন্যাসে ব্যবহৃত হওয়া চিঠিগুলো কোথাও যেন অনেকখানি ভালো লাগা দেয় । কেমন একটা আলোড়ন তুলে আবেগতাড়িত করে দেয় । এছাড়াও উপন্যাসে ব্যবহৃত কবিতাগুলো কোথাও খুব স্মৃতিচারণ করতে সাহায্য করে, ভালো লাগা দেয় । কেমন একটা অনুভূতির যেন সাক্ষী করে তুলে । একটা বালুচরী শাড়ি, একটা বৃষ্টিভেজা মুহূর্তে শহর ভেসে যাওয়া দুই স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথন এগুলো মুহূর্ত আনে । ভালো লাগায় ভাসতে বাধ্য করে । এছাড়াও দীপ্ত এর কিছু কথোপকথন উপন্যাসে হাস্যরসাত্মক কিছু ধাঁচ এনেছে যেন । ছবির ফ্রেমে সাজিয়ে তোলা কেউ, কারো মতো হওয়ার এক সুর উপন্যাসের মধ্যে আধভেজা শহরে জীবন্ত ভাব আনে । যে জীবন্ত আলোড়নে আমি এই শহরে আধভেজা শহর চেয়েছিলাম । যা স্বপ্ন দেখায় ‌। জীবনের স্বপ্ন । জীবনের বেঁচে থাকার স্বপ্ন । ♦সংলাপঃ উপন্যাসটির গতিপ্রবাহ জীবনধারায় এতটাই দ্রুতগতিতে বয়ে গিয়েছে যে কিছু কিছু জায়গায় আবহ এর জায়গাটি তুলনায় কম ছিল । যা উপন্যাসের মধ্যে কিছু কিছু মুহূর্তে প্রেক্ষাপট এবং দৃশ্যপটে পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় সবকিছু ভুলিয়ে দেয়, সময় সবকিছু মেনে নিয়ে জীবনের ক্ষেত্রে এগিয়ে যায় ধরনের আবহ দিচ্ছিল । উপন্যাসের শব্দচয়ন, বাক্যালাপ বেশ ভালো । সংলাপ ধারণ অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে দারুণ ভাবে কাজ করেছে । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘আধভেজা শহর’ লেখক লামইয়া চৌধুরী এর প্রকাশিত হওয়া ৬ষ্ঠ উপন্যাস । আমার পড়া হিসেবেও ৬ষ্ঠ । লেখকের ৬টা বই পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে হঠাৎ করে মনে হয় লেখকের তো অনেকগুলো বই পড়ে ফেললাম । ভালোবাসা, জীবন, সম্পর্ক, তার টানাপোড়েন, রসায়নের অদ্ভুত মনোকষ্ট সবই তো দেখে ফেললাম জীবনের নানাবিধ পরিস্থিতিতে । তবুও কোথাও আমার লেখক পরিচিতি লিখতে বসলেই লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস, ‘যে শ্রাবণে ফাগুন’ এর কথা মনে পড়ে ‌। উপন্যাসের পটভূমিতে এত তীব্রতা, গভীরতা এবং কাহিনীতে এত ধাঁচ যে সেই উপন্যাসের কথা বারবার মনে পড়েছিল । এটি যেন প্রকাশ করার ভঙ্গি হিসেবে সেই উপন্যাসেরই বিপরীত হয়ে আসা উপন্যাসটি । তবে ‘আধভেজা শহর’ এর কাহিনীর মাঝে তীব্রতা এবং গভীরতা থাকলেও তা যেন প্রকাশ করার ধাঁচ হিসেবে খুবই স্পষ্ট । জীবনধারা এবং কাহিনী বর্ণনা করার ধাঁচ এবং উপস্থাপন করার এই চেষ্টা এবং পার্থক্য যেন লেখকের লিখনশৈলীতে দারুণ কিছু চেষ্টা হিসেবে ধরা দেয় । উপন্যাসের মাঝে যেন তাই সবধরনের, সব রকমের চেষ্টা পাঠক হিসেবে ভালো লাগা সৃষ্টি করতে সাহায্য করে । লেখক লামইয়া চৌধুরী এর পরবর্তী লেখাগুলোর জন্য শুভকামনা রইলো । ♦প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ! প্রকাশনী হিসেবে অন্যপ্রকাশ এর নতুন করে কোনো তুলনা আসলে হয় না আর । বই তাড়াতাড়ি যেভাবে সাজিয়ে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেন, তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না । মুগ্ধতা নিয়ে শুধু দেখে যেতে হয় । অসাধারণ ভাবে এই বইটির প্রচ্ছদটিও দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তবে বইটির প্রচ্ছদশিল্পীর নামে বোধহয় ভুল হয়েছে । বইটির বাঁধাই এবং পৃষ্ঠা বাঁধাইও বেশ ভালো ছিল । বইটা তাই হাতে নিয়ে ধরতে এবং পড়তে বেশ ভালো ছিল । এই বইতে বানান ভুল তেমন একটা না থাকলেও বেশ কিছু টাইপিং মিস্টেক ছিল । বিরাম চিহ্ন এর বেশকিছু ত্রুটি চোখে পড়েছে । বিশেষ করে ‘দাঁড়ি’ ব্যবহার । বাক্য শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তা ব্যবহার না হওয়া । এছাড়া বাকি সব ঠিক ছিল । ♦রেটিংঃ ৪.৭/৫ ♦উপসংহারঃ পৃথিবীতে জীবন কিভাবে কেটে যায় জানেন? রাতের অন্ধকারে মায়া লেগে যাওয়া কান্না কান্না সুরে বাঁশি বাজানো ওই করুণ সুর কেটে গিয়ে তার একটু পরেই সময় কেটে গিয়ে দিনের আলো ফোটা । এই যে এখন পাখির ডাকাডাকি শুনে কোথাও যেন জীবনের টানাপোড়েনে অদ্ভুত কোনো এক খেয়ালের টের পেয়ে যাই । কোথাও সম্পর্কের রসায়নে মানুষ কোথায় কিভাবে যে মিশে যায় হঠাৎ করে তা টের পাওয়া হয় না । তবে বন্ধুত্ব যেন ঠিক হয়ে যায় । এই বন্ধুত্ব, পাশে থাকা, সামনে এগিয়ে গিয়ে পিছে তাকিয়ে চাহনি দেখতে পাওয়া এগুলোর জন্যেই বোধহয় মানুষ শহরেও প্রাণ খুঁজে পায় । জীবনের প্রাণ । জীবনের টান । আর জীবনের ভারসাম্য ভারসাম্য । আর এটাই আধভেজা শহর, আধভেজা শহর, আধভেজা...শহর...

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)